তিন সপ্তাহ আগেও জানতেন না ইউএস ওপেনে নামতে পারবেন কি না। গোড়ালির চোট তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল সিনসিনাটি ওপেন থেকে। নিউইয়র্কে খেলার স্বপ্নও তখন অনিশ্চিত। অথচ সেই রিবাকিনাই এখন ইউএস ওপেনের রানী। আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে শুধু প্রথম বার ফ্লাশিং মেডোজের খেতাবই জেতেননি, বসেছেন বিশ্বের এক নম্বরের সিংহাসনেও।
শনিবার রাতের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারান কাজাখস্তানের রিবাকিনা। এটি তাঁর তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়। এর আগে ২০২২-এ উইম্বলডন এবং এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন তিনি। দু’টি ক্ষেত্রেই তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন সাবালেঙ্কা।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Rybakina is eyeing up even more honours! 🏆👀 https://t.co/IndrftZH2d</p>— Sky Sports Tennis (@SkySportsTennis) <a href=”https://x.com/SkySportsTennis/status/2098936499328725488?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 13, 2026</a></blockquote>
<script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
কিন্তু ইউএস ওপেনের কয়েক সপ্তাহ আগে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সিনসিনাটি ওপেনে চোট পেয়ে ম্যাচ ছেড়ে দিতে হয়েছিল রিবাকিনাকে। তখন নিউইয়র্কে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। একাধিক বার চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হয়েছে। পাশাপাশি চলেছে জিমে কঠোর অনুশীলন এবং চোট সারানোর প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে ইউএস ওপেনে নামেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেই কঠিন সময়ের কথা জানিয়ে রিবাকিনা বলেন, ‘সত্যি বলতে, সব কিছু একসঙ্গে ঠিকঠাক মিলে গিয়েছিল।’
তিনি আরও জানান, ইউএস ওপেনের আগে তাঁর প্রস্তুতি একেবারেই আদর্শ ছিল না। বরং চোটের কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। কিন্তু নিউইয়র্কে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে।
রিবাকিনার কথায়, ‘আমার প্রস্তুতি খুব একটা ভাল ছিল না। কিন্তু এখানে এসে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে আমি আরও ভাল অনুভব করতে শুরু করি। তার পরে সব কিছু যেন ঠিক জায়গায় চলে আসে।’
শুধু শারীরিক সমস্যা নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় পরীক্ষার সামনে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কারণ ইউএস ওপেনে এর আগে কখনও সেমিফাইনালের বেশি যেতে পারেননি রিবাকিনা। এ বার অবশ্য শুরু থেকেই অন্য মেজাজে ছিলেন। একের পর এক ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছন। সেখানে প্রতিপক্ষ গত দু’বছরের চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কা।
সেই ফাইনালেও রিবাকিনার শরীর এবং মন—দুইয়েরই পরীক্ষা হয়েছে। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কা ম্যাচে ফিরে এলেও তৃতীয় সেটে আবার নিজের সেরা টেনিস খেলেন কাজাখ তারকা। শেষ পর্যন্ত ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে তুলে নেন ঐতিহাসিক ট্রফি।
আর সেই জয়ের সঙ্গেই শেষ হয় সাবালেঙ্কার ৯৯ সপ্তাহের বিশ্বসেরা থাকার সময়কাল। নতুন এক নম্বর রিবাকিনা।
চোটের ধাক্কা থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়—রিবাকিনার কাছে তাই এই ইউএস ওপেন অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা। তাঁর নিজের কথাতেই, ‘এই মুহূর্তটা আমার কাছে সত্যিই অবিশ্বাস্য। কয়েক সপ্তাহ আগে আমি জানতামই না এখানে খেলতে পারব কি না। আর এখন আমি চ্যাম্পিয়ন!’
চোটের ভয় থেকে বিশ্বসেরা—নিউইয়র্কে তাই শুধু একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেননি রিবাকিনা, লিখেছেন এক নতুন ইতিহাস।