সাবালেঙ্কার দাপট থামিয়ে টেনিস দুনিয়ার নতুন রানি রিবাকিনা, পিছিয়ে থেকেও ইউএস ওপেনের শেষ চারে

Elena Rybakina Photo-SNS

প্রথম সেটে ঝেং কিনওয়েনের প্রচণ্ড গতির কাছে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ালেন এলেনা রিবাকিনা। গ্র্যান্ড স্ল্যামের আসল মঞ্চে চাপ সামলে যে ভাবে ম্যাচের রং বদলে দিলেন কাজাখস্তানের তারকা, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়। ৩-৬, ৬-১, ৬-৪-এ জিতে প্রথম বার ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন রিবাকিনা। আর তাঁর এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে গেল, আগামী সপ্তাহে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে নতুন এক নম্বর তিনিই।

আরও বড় ব্যাপার, কাজাখস্তানের কোনও মহিলা বা পুরুষ টেনিস খেলোয়াড় এর আগে বিশ্বের এক নম্বর হননি। রিবাকিনাই দেশের প্রথম টেনিস তারকা, যিনি এই নজির গড়তে চলেছেন। দীর্ঘ ৯৯ সপ্তাহ এক নম্বরে থাকার পরে এ বার সিংহাসন ছাড়তে হচ্ছে আরিনা সাবালেঙ্কাকে।

তবে ম্যাচের শুরুতে সেই ইতিহাসের কোনও আভাস ছিল না। ইগা শিয়নটেককে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ঝেং শুরু থেকেই প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক টেনিস খেলছিলেন। সার্ভিসে গতি, বেসলাইন থেকে জোরালো শট—সব মিলিয়ে রিবাকিনাকে প্রথম সেটে ৬-৩ হারিয়ে দেন চিনের তারকা।


কিন্তু দ্বিতীয় সেটে অন্য রিবাকিনাকে দেখা যায়। নিজের সার্ভিস ধরে রাখার পাশাপাশি ঝেংয়ের সার্ভিসে একের পর এক চাপ তৈরি করেন তিনি। মাত্র একটি গেম হারিয়ে ৬-১ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটেও লড়াই চলে সমানে সমানে। ৪-৪ স্কোরলাইন থেকে পর পর ১৫ পয়েন্টের মধ্যে ১১টি জিতে নেন রিবাকিনা। সেখান থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক। তার পরে নিজের সার্ভিস ধরে রেখে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন তিনি।

এই জয় রিবাকিনার কাছে আরও বিশেষ। ইউএস ওপেনে এর আগে তাঁর সেরা ফল ছিল গত বছর চতুর্থ রাউন্ডে ওঠা। ফলে ফ্লাশিং মিডোজে এ বারই প্রথম শেষ চারে জায়গা করে নিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই উইম্বলডন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের খেতাব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। নিউ ইয়র্কে খেতাব জিতলে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যামের চারটির মধ্যে তিনটি খেতাবই তাঁর হয়ে যাবে। বাকি থাকবে শুধু ফরাসি ওপেন।

বিশ্ব এক নম্বর হওয়ার মুহূর্ত নিয়েও অবশ্য খুব বেশি উত্তেজিত হতে চান না রিবাকিনা। ম্যাচের পরে বললেন, ‘এই মুহূর্তে এটা শুধুই একটা সংখ্যা। অবশ্যই আমি সেমিফাইনালে উঠেছি। আমার লক্ষ্য হল, যে প্রতিযোগিতাগুলিতে খেলছি সেগুলি জেতা। এটা অসাধারণ একটা কৃতিত্ব। কিন্তু টেনিসে র‌্যাঙ্কিং কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, আমরা সবাই জানি। তাই এখন আমাকে নিজের খেলায় মন দিতে হবে, সুস্থ হয়ে উঠতে হবে এবং আগামী দিনটা উপভোগ করতে হবে’।

পরে নিজের এক নম্বর হওয়ার স্বপ্ন নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। রিবাকিনার কথায়, ‘বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার স্বপ্ন আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। এই মুহূর্তটা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের জন্য গর্বিত। এই সাফল্যের জন্য গোটা দলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ওদের সমর্থন ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব হত না’।

সেমিফাইনালে রিবাকিনার সামনে এ বার আরও কঠিন পরীক্ষা। মুখোমুখি হবেন আমেরিকার কোকো গফের। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় হারা ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠেন গফ। প্রথম সেটে অসহায় দেখাচ্ছিল তাঁকে। দ্বিতীয় সেটের টাইব্রেকারেও দু’বার ম্যাচ পয়েন্টের সামনে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই জিতে নেন কোকো। দুই ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে মিরা আন্দ্রিভাকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শেষ চারে পৌঁছন ২০২৩-এর চ্যাম্পিয়ন।

বুধবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে পঞ্চম বাছাই আন্দ্রিভাকে ২-৬, ৭-৬ (৭), ৬-২ গেমে হারান তৃতীয় বাছাই গফ। শুরুটা একেবারেই তাঁর পক্ষে ছিল না। প্রথম চারটি গেমই জিতে নেন আন্দ্রিভা। কিন্তু সেখানেই বদলে যায় ম্যাচের গল্প। দ্বিতীয় সেটের আগে লকার রুমে বিরতি নিয়ে নিজেকে নতুন করে তৈরি করেন গফ। অনুপ্রেরণা নেন তাঁর দেশের ফ্রান্সিস তিয়াফোর কাছ থেকেও। মঙ্গলবার পুরুষদের সেমিফাইনালে ওঠার পথে তিয়াফোও দুই সেট পিছিয়ে থেকে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

ম্যাচের পরে গফ বলেন, ‘আমাকে শুধু নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল। শুরুতে বলটা ঠিকমতো অনুভব করতে পারছিলাম না, ওকে অনেক সহজ পয়েন্ট দিয়ে ফেলছিলাম। তখন ফ্রান্সিস তিয়াফোর কথা ভাবছিলাম, কী ভাবে ও গতকাল ফিরে এসেছিল। এই ম্যাচের মূলমন্ত্র ছিল শুধু লড়াই করে যাওয়া’।

সেমিফাইনালে গফের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় বাছাই এলেনা রিবাকিনা। তিনিও কোয়ার্টার ফাইনালে পিছিয়ে পড়ে চিনের ঝেং কিনওয়েনকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছেন। ফলে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই প্রত্যাবর্তনের নায়িকা।