চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করার পর যেন আনন্দের বাঁধ ভেঙেছে সারা ইকুয়েডর জুড়ে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনের জন্য সারা দেশে এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করলেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া। বৃহস্পতিবার দেশের জাতীয় দলের জয়ের পরই এই ঘোষণা করেন তিনি।
ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় এবং কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসেকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, ‘যে খেলোয়াড় এবং কোচ সমালোচনা, অপমান ও কঠিন সময় পার করেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো দেশকে এই অসীম আনন্দ উপহার দিয়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। আগামীকাল সারা দেশে ছুটি! ইকুয়েডর দীর্ঘজীবী হোক।’
এক কোটি ৮৪ লক্ষ জনস্ংখ্যার দেশ ইকুয়েডরের এই জয়ের নায়ক গনজালো প্লাতা ম্যাচের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আমরা এই মুহূর্তটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। তবে আজকের অনুভূতিটা আলাদা, কারণ প্রথম দুই ম্যাচে আমাদের অনেক লড়াই করতে হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটা শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা। আর এখন আমরা আরও বেশি ক্ষুধার্ত মনোভাব নিয়ে পরের পর্বে জয়ের লক্ষ্যে নামব’।
বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে কুরাসাওয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে চাপে পড়ে যায় দলটি। ফলে শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না। বৃহস্পতিবার সেই কঠিন পরীক্ষায় উতরে যায় সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দলের ছেলেরা। গনজালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় লাতিন আমেরিকার দলটি।
নিজেদের দল ও সমর্থকদের নিয়ে প্লাতা বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখি। আমাদের ২৬ জন ফুটবলারই ইকুয়েডরের জন্য নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। আমরা যেখানেই খেলেছি, সেখানেই স্টেডিয়াম ভরে গিয়েছে। আমাদের সমর্থকেরা প্রতিটি মাঠকেই আমাদের ঘরের মাঠের মতো করে তুলেছেন। এই সাফল্য সবচেয়ে বেশি তাঁদেরই প্রাপ্য। তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন, আমাদের অসাধারণ সমর্থন দিয়েছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে অনুপ্রাণিত করেছেন।’
এ দিকে এই অপ্রত্যাশিত হারে হতাশ জার্মানি শিবির। ম্যাচের শেষে তাদের ফরোয়ার্ড ডেনিস উনদাভ বলেন, ‘ইকুয়েডর আমাদের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও ধারালো ছিল। এখান থেকেই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আমরা ম্যাচে ডিরেক্ট ফুটবল খেলতে পারিনি, আর সেই কারণেই তেমন বেশি গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারিনি।’
জার্মানির অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ স্বীকার করে নেন যে, নিজেদের ভুলেই হারতে হয়েছে তাঁদের, ‘আমরা ম্যাচটা ভালোভাবেই শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারপর খুব সহজেই বারবার বলের দখল হারিয়েছি এবং ওদের আক্রমণের সুযোগ করে দিয়েছি। আমরা নিজেদের ভুলেই ইকুয়েডরের কাজটা সহজ করে দিয়েছি এবং ম্যাচে ওদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করেছি। আমাদের এই হারটা প্রাপ্যই ছিল।’