প্রাক্তন ক্লাব ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয়ই লক্ষ্য হাবাসের, লাল-হলুদ শিবিরে এএফসি-ভাবনাও

Antonio Lopez Habas Photo-EBFC Media

এ আসলে গত মরসুমের খেতাবী লড়াইয়ের রিপ্লে। আজ, শুক্রবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) ইন্টার কাশীর মুখোমুখি হচ্ছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। পুনের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে।

গত মরসুমে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়েই প্রথম বার খেতাব জিতেছিল লাল-হলুদ। এ বারও জয়ের ধারা বজায় রাখাই লক্ষ্য আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলের। মরসুমের প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল। অন্য দিকে, ওডিশা এফসির সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে ইন্টার কাশী।

তবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচের পরেই মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এ ওমানের আল-সিবের মুখোমুখি হতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে দলে কয়েকটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন হাবাস। তবে প্রথম একাদশে বড়সড় রদবদল করতে নারাজ তিনি।


হাবাস বলেন, ‘আমরা কয়েকটি পরিবর্তন করব, তবে খুব বেশি নয়। দলে অনেক ফুটবলার সুযোগ পাওয়ার জন্য তৈরি। যারা ট্রফি জিততে চায়, তাদের কঠিন সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আশা করি, কোনও চোটের কারণে আমাদের পরিকল্পনা বদলাতে হবে না।’

আনোয়ার আলির এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা কম। বরিস সিং, সন্দীপ মান্ডি, রোহিত দানুরা দলের সঙ্গে পুনে যাননি। তাঁরা সোজা ওমানে যাবেন। আজ রক্ষণে দিয়েগো জিভুলিচের সঙ্গে লালচুঙনুঙ্গাকে দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠে খেলতে পারেন আরেক রোহিত।

চার্চিলের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেছিলেন বিপিন সিং। শুক্রবার প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবিও জোরাল করেছেন তিনি। বিপিনের কথায়, ‘গোল দু’টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে নামি বা প্রথম একাদশে থাকি, দলের জন্য অবদান রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি।’

অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নিজেদের খেলার ধরন বদলাতে চান না ইন্টার কাশীর কোচ কার্লোস ভাজ পিন্টো। প্রস্তুতির জন্য কম সময় পাওয়া এবং ছোট দল নিয়ে কাজ করার সমস্যা স্বীকার করেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, ‘প্রতিপক্ষের কথা ভেবে আমরা নিজেদের খেলার দর্শন বদলাতে পারি না। আমাদের বিশ্বাস, আমরা জিততে পারি।’

ওডিশার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে মিডফিল্ডারের অভাবে চার জন উইঙ্গারকে খেলাতে হয়েছিল ইন্টার কাশীকে। দলের ফুটবলারদের একাধিক পজিশনে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়াতে হচ্ছে ফিটনেস ও পারস্পরিক বোঝাপড়াও।

ডিফেন্ডার নিশাল চন্দনও ইস্টবেঙ্গলকে কঠিন লড়াই দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মরসুমের আগে প্রস্তুতিতে সমস্যা থাকলেও কোচিং স্টাফের উপর দলের আস্থা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিদেশি ফুটবলারদের অনুপস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে মেনে নিয়েও নিশালের বিশ্বাস, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে চ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলা সম্ভব।

এক দিকে জয় ধরে রাখার তাগিদ ইস্টবেঙ্গলের, অন্য দিকে চ্যাম্পিয়নদের থামিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া ইন্টার কাশী। শুক্রবারের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, সেটাই দেখার।

ম্যাচ শুরু শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, বিকেল ৫টা। সরাসরি সম্প্রচার আইএসএলের ইউটিউব চ্যানেলে, সোনিলিভ অ্যাপে ও সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে।