স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো মনসালভেসকে কি বুধবারের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর বাছাই পর্বের ম্যাচে ম্যাচে পাবেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস? তাঁকে নিয়ে ক্রমেই অস্বস্তি বাড়ছে ইস্টবেঙ্গলে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আটচল্লিশ ঘন্টা আগে অর্থাৎ সোমবারও অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। এমনকী, আসন্ন এএফসি ম্যাচেও স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারকে পাওয়ার সম্ভবনা বেশ কম। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে হয়তো আল আরবি’র বিরুদ্ধে ভারতীয় রক্ষণ নিয়েই নামতে হবে লাল-হলুদ কোচকে।
এই প্রসঙ্গে বলা যায়, চোট-আঘাত সমস্যা নতুন নয় স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারের। অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিকবার চোটের জন্য মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন তিনি। কলকাতায় এসেও যা পিছু ছাড়েনি নাচোর।
প্রথমে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে চোট পান তিনি। যা সারিয়ে উঠে সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে মাঠে নামলেও প্রথমার্ধের শেষেই তাঁকে তুলে নিতে একপ্রকার বাধ্য হন হাবাস। জানা গিয়েছিল, হাঁটুর সমস্যার কারণে দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি নাচো।
তাঁর এই চোট দলের ষষ্ঠ বিদেশি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্টকে। একটা সময়ে ষষ্ঠ বিদেশি হিসেবে একজন স্ট্রাইকার নেওয়ার কথা ভাবছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই অনুযায়ী কয়েক দিন ধরে একজন স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের সঙ্গে কথাবার্তাও বেশ কিছুটা এগোন কর্তারা। কিন্তু, বারবার নাচো চোট পাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।
কোচ হাবাসও চাইছেন যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্ত ফুটবলার সই করাতে। ম্যানেজমেন্টকেও সেই কথা জানিয়েছেন তিনি। সেইমতো, ভালো মানের বিদেশি ডিফেন্ডারের খোঁজও শুরু করেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
বুধবার লাল-হলুদ বাহিনীর প্রতিপক্ষ খুব একটা সহজ নয়। কুয়েতের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব আল আরাবি। অন্যতম সফল ফুটবল ক্লাবও তারা। তাদের ঝুলিতে রয়েছে ১৭টি লিগ খেতাব এবং ১৬টি কুয়েত এমির কাপ। এ ছাড়াও দু’বার গাল্ফ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে তারা। তবে এ সবই অতীতের খতিয়ান।
সম্প্রতি আরও একটি বড় সাফল্য পেয়েছে আল আরাবি। গত মে মাসে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কুয়েত এসসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দশম বার ক্রাউন প্রিন্স কাপ ঘরে তুলেছে তারা। এবার সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মহাদেশীয় মঞ্চে আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত কুয়েতের এই ‘জায়ান্ট’রা।
কলকাতায় আল আরাবির ফুটবলারদের মধ্যে যাঁকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ, তিনি প্যালেস্টাইনের জাতীয় দলের স্ট্রাইকার জায়েদ কুনবার। ২৩ বছরের এই ফরোয়ার্ড ২০২৫-এ আল আরাবিতে যোগ দেন। মে মাসে কুয়েত এসসিকে হারিয়ে ক্রাউন প্রিন্স কাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে গোলও করেছিলেন তিনি।
কলকাতায় এসে কুনবার মহম্মদ রশিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। জানান, দু’জনেই প্যালেস্টাইনের জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। কুনবার বলেন, ‘রশিদের সঙ্গে আমি প্যালেস্টাইন জাতীয় দলে খেলেছি। এখানে আসার আগে ইনস্টাগ্রামে আমাদের নিয়মিত কথা হয়েছে’।
আল আরাবির মতো অভিজ্ঞ এবং সফল এশীয় ক্লাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গলের কাছে নিঃসন্দেহে বড় পরীক্ষা। কিন্তু তার আগে কতটা তৈরি তারা, তা নিয়ে প্রশ্ন আছেই। বিদেশিদের সবাইকে না পাওয়ায় এমনিতেই কিছুটা দুর্বল হয়ে মাঠে নামবে হাবাসের দল। কুয়েতের দলটি কিন্তু তাঁদের ছয় বিদেশিকে সঙ্গে নিয়েই এসেছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সবাইকেই মাঠে নামাতে পারেন।
অন্যদিকে, সোমবার থেকেই শুরু হয়ে গেল এসিএল ২ বাছাই পর্বের ম্যাচের অফলাইন টিকিট বিক্রি। যা মঙ্গলবারও চলবে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পাশাপাশি এই ম্যাচের জন্য যুবভারতীর এক ও চার নম্বর গেট থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন সমর্থকেরা। দুপুর দুটো থেকে সন্ধ্যা সাতটা অবধি এই টিকিট পাওয়া যাবে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে কাটা টিকিটও উল্লিখিত কাউন্টারগুলি থেকে রিডিম করানো যাবে।