দানি রামিরেজের দুরন্ত ফ্রি-কিক, এডমন্ড লালরিন্দিকার গোল। আর পরিবর্ত হিসাবে নেমে বিপিন সিংহের জোড়া গোল। আইএসএলে অভিযান শুরু করেই চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। রবিবার ফতোরদার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে জয় দিয়ে মরসুম শুরু করল গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র দু’মিনিট। তার মধ্যেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ে দুরন্ত ফ্রি-কিক নেন দানি রামিরেজ। তাঁর বাঁক খাওয়ানো শট চার্চিলের গোলরক্ষক সৈয়দ কাদিরকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায় লাল-হলুদ।
তবে গোল খেয়েও দমে যায়নি চার্চিল। ঘরের মাঠে সমতা ফেরানোর জন্য আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। একাধিক সুযোগ তৈরি করে গোলের কাছাকাছিও পৌঁছে যায়। এক বার বল প্রতিহত হয় পোস্টে। কিন্তু রক্ষণ সামলে লিড ধরে রাখে আন্তোনিও হাবাসের দল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁ দিক থেকে বল পেয়ে তা ধরে রেখে এডমন্ড লালরিন্দিকার উদ্দেশে বাড়ান ডেভিড। বক্সের মধ্যে সঠিক সময়ে পৌঁছে যান এডমন্ড। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পরাস্ত হন চার্চিলের গোলরক্ষক। বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকে ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দু’দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আক্রমণকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয় চার্চিল। অন্য দিকে, দুই গোলের ব্যবধান ধরে রেখে ধৈর্য ধরে খেলে ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে হাবাসের পরিবর্তের সিদ্ধান্ত কাজে দেয়। মাঠে নেমে দুরন্ত বাঁক খাওয়ানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন বিপিন সিং। তাঁর শটে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। চার্চিলের রক্ষণ তখন দিশাহারা।
এর পাঁচ মিনিট পরেই ফের গোল বিপিনের। বাঁ দিক থেকে পিভি বিষ্ণুর বাড়ানো ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ৯০ মিনিটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।
গত মরসুমের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল এ বারও শুরুতেই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল। আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, রক্ষণে সংগঠন এবং পরিবর্ত ফুটবলারদের প্রভাব— সব মিলিয়ে হাবাসের দল যে প্রস্তুত, তা বুঝিয়ে দিল এই ম্যাচ।
অন্য দিকে, মরসুমের প্রথম ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুরু করেছিল চার্চিল ব্রাদার্স। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে চার গোল হজম করে ধাক্কা খেল তারা। আগামী সপ্তাহে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে গোয়ার দল।
ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, মরসুমের শুরুতে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোরও বড় রসদ। চার্চিলের বিরুদ্ধে চার গোলের জয় বুঝিয়ে দিল, খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে শুরু থেকেই নিজেদের দাবিদার হিসাবে তুলে ধরতে মরিয়া লাল-হলুদ।