গ্রুপ পর্বের টিকিটই এবার ইস্টবেঙ্গলের এএফসি যুদ্ধ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রনজিৎ দাস: ইস্টবেঙ্গলের ছেলেদের ও মেয়েদের দল একসঙ্গে এবার এএফসির মঞ্চে। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার এক ক্লাবের দু’টি দল একসঙ্গে এএফসির টুর্নামেন্টে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। পুরুষ দলের এটি রেকর্ড ১৭তম এশিয়ান অভিযান। মেয়েদের দল এএফসি ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে গতবারের মতো এবারেও খেলবে। জাতীয় লিগে পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে মেয়েরা বুঝিয়েছে মশালের আগুনে লিঙ্গভেদ নেই।

২০২৪ সুপার কাপ জিতে ২০২৬-২৭ মরসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর যোগ্যতা পর্বে সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। কার্লোস কুয়াদ্রাতের দল প্রথম ম্যাচেই তুর্কমেনিস্তানের Altyn Asyr-এর কাছে হেরে গ্রুপ পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়। এরপর এএফসির তৃতীয় পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ লিগে খেলে অস্কার ব্রুঁজোর ইস্টবেঙ্গল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। ২০০৩ সালের আসিয়ান কাপ জয়ের পর এএফসির ক্লাব টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্তরে এটাই সেরা ফল। এর আগে ২০১৩ সালে এএফসি কাপ সেমিফাইনাল, ২০০৪ ও ১৯৯১-৯২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে ক্লাব। ১৯৮৫-৮৬ সালে কোকা-কোলা কাপ জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক সাফল্য শুরু।

এবার ১৭তম অভিযানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর প্রিলিমিনারিতে যুবভারতীতে কুয়েতের চ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। দেশের লিগে ২৪ ম্যাচ না হওয়ায় সরাসরি গ্রুপে সুযোগ মেলেনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এ নকআউট বা ট্রফি জয় খুব কঠিন।


তাই চ্যালেঞ্জ লিগে সাফল্য নয়, উন্নত দেশের ক্লাবের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গ্রুপ পর্বে খেলাই বাস্তব লক্ষ্য হোক। গ্রুপে উঠলে যুবভারতীতে কুয়েত, ইরান, উজবেকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে হোম ম্যাচ হবে। গত মরসুমে গোয়াতে আল নাসেরের ম্যাচে যে রোমাঞ্চ ছিল, তা কলকাতায় ফিরবে। ৬০ হাজার দর্শকের সামনে উন্নত মানের ফুটবল ক্লাবের ব্র্যান্ড ভ্যালু, আয় ও পরিকাঠামো বাড়াবে।

এই লক্ষ্যে দলগঠন জরুরি। মাঝমাঠে আপুইয়া, চাংতের মতো প্রমাণিত ভারতীয় ও সঠিক একাধিক বিদেশি দরকার। কুয়াদ্রাতের আমলে যোগ্যতা পর্বে হার প্রমাণ করে প্রিলিমিনারি কত কঠিন। তাই এশিয়ার মঞ্চ বোঝে এমন কোচ ও খেলোয়াড় চাই। ২২ বছর পর সর্বোচ্চ লিগ জয়ের পর বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর উপযুক্ত দল গড়তে হবে। মেয়েদের দলেরও লক্ষ্য হোক এএফসি ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে ভালো ফল।
একটি ক্লাব, দুটি দল, একটাই মশাল। ২০০৩-এর পর এশিয়ান ট্রফি আসেনি। তবে এখনই ট্রফির স্বপ্ন নয়। ধাপে ধাপে এগিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গ্রুপ পর্বে খেলাই আসল সম্মান। যুবভারতীতে এশিয়ার সেরা দল এনে কলকাতার ফুটবলকে বিশ্বের মানচিত্রে তোলাই হোক ইস্টবেঙ্গলের চূড়ান্ত লক্ষ্য।