এক দিকে মাত্র এক গোল হজম করা ইস্পাতকঠিন রক্ষণ। অন্য দিকে, চার ম্যাচে ২১ গোল করা ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ। বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি এমনই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC) ও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি (Sporting Club Delhi) । লাল-হলুদের (East Bengal FC) রক্ষণ বনাম দিল্লির গোলমুখী ঝড়— ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এই দ্বৈরথই হতে চলেছে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
ঘরের মাঠে স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা এগিয়ে ১৬ বারের ডুরান্ড কাপজয়ী (Durand Cup) ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ১৪ গোল করেছে লাল-হলুদ (East Bengal FC)। বিপরীতে গোল খেয়েছে মাত্র একটি, গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে ০-১ হারে। তার পর টানা চার ম্যাচে ক্লিন শিট। সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসকে ৮-০ এবং সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় সেনা দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছেছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)।
তবে এ বার তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি এই ডুরান্ডে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল করা দল। চার ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা ২১। হজম করেছে মাত্র তিনটি গোল। গ্রুপ পর্বে জামশেদপুর এফসিকে ২-১, ডিফেন্ডার্স এফসিকে ৭-০ এবং ভারতীয় বায়ুসেনাকে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল দিল্লির এই দল। কোয়ার্টার ফাইনালেও শুরুতে পিছিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত এফসি রেংদাইকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা।
দিল্লির আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড রদ্রিগিনহো। চার ম্যাচে সাত গোল করেছেন তিনি। ডিফেন্ডার্সের বিরুদ্ধে এক ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা ছিল পাঁচ। কোয়ার্টার ফাইনালেও গোল করেছেন ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার। ফলে বুধবার তাঁকে আটকানোর দায়িত্ব বিশেষ ভাবে পড়বে আনোয়ার আলি ও সন্দীপ মান্ডির উপর। সঙ্গে জয় গুপ্তা, হার্দিক ভাটরাও থাকবেন প্রতিপক্ষের আক্রমণ নিষ্ক্রিয় করার জন্য।
ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) অবশ্য শুধু রক্ষণ সামলেই খেলতে চায় না। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি রামিরেজ দলের আক্রমণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। মহম্মদ রশিদও রয়েছেন আক্রমণে। কিন্তু আক্রমণের এক ধারাল অস্ত্র পিভি বিষ্ণুকে সম্ভবত এই ম্যাচে পাচ্ছে না ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। তাঁর চোট, মঙ্গলবার দলের সঙ্গে অনুশীলনও করতে পারেননি। ইতিমধ্যেই চার গোল করেছেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়সূচক গোলটিও ছিল তাঁর। গোলের মধ্যে থাকা এমন একজন খেলোয়াড়কে না পাওয়াটা লাল-হলুদ বাহিনীর কাছে বড় ধাক্কা।
বুধবারের ম্যাচে গোল করার দায়িত্ব নিতে হবে বিপিন সিং, এডমন্ড লালরিন্ডিকা, ডেভিড লালনসাঙ্গাদেরই। দানি রামিরেজ, ক্রিস ইকোনোমিডিস, মহম্মদ রশিদদেরও আক্রমণ তৈরিতে সাহায্য করার দায়িত্ব নিতে হবে। সম্প্রতি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর প্রাথমিক পর্বে দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। সেই ম্যাচে এক গোলে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও দারুন ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কুয়েতের আল আরাবিকে শেষ পর্যন্ত ৪-১-এ হারিয়ে গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে তারা। এই অসাধারণ জয়ের আত্মবিশ্বাস তাদের এই ম্যাচে যথেষ্ট সাহায্য করবে।
কোচ আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসের দলের পরিচিতি বরাবরই সুসংগঠিত রক্ষণ, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। সেই হাবাস-বাহিনী এ বার দিল্লির গোলমেশিনের সামনে কতটা অটুট থাকে, সেটাই দেখার। ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) অধিনায়ক রশিদ গত মরসুমের হতাশা ভুলে এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চান। তাঁর কথায়, ‘গত মরসুমে ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ এখনও রয়েছে। তবে এ বার আমাদের কাছে আরও এক ধাপ এগিয়ে মরসুমের প্রথম ট্রফি জেতার দারুণ সুযোগ রয়েছে’।
আরও পড়ুন: আইএসএলে খেলতে আগ্রহী ডায়মন্ড হারবার এফসি? আজ দুপুরের পর সিদ্ধান্ত
অন্য দিকে, নবগঠিত স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির কাছে এই সেমিফাইনালই ইতিহাস। দলের পর্তুগিজ কোচ তোমাশ চোর্জ বলেছেন, ‘আমাদের মতো নতুন ক্লাবের কাছে এটা ঐতিহাসিক সাফল্য। সম্ভবত এটাই ক্লাবের প্রথম সেমিফাইনাল। কিন্তু আমরা আরও বেশি কিছু পেতে চাই’। কলকাতার ফুটবল-উন্মাদ পরিবেশ নিয়েও উচ্ছ্বসিত দিল্লির কোচ। তাঁর কথায়, ‘ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal FC) মতো দলের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে তাদের শহরে খেলাটা খুব সুন্দর ব্যাপার। আমরা জানি, কলকাতা ফুটবলের শহর। অধিকাংশ দর্শকই অবশ্য ঘরের দলকেই সমর্থন করবেন’।
বৃহস্পতিবার অন্য সেমিফাইনালে শিলঙে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ফলে কলকাতার দুই প্রধানের আরও একটি ডুরান্ড ফাইনালের সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০২৩-এ ডুরান্ড ফাইনালে (Durand Cup) ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal FC) ১-০ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগান। তবে সেই স্বপ্নের লড়াইয়ের আগে লাল-হলুদকে পার হতে হবে দিল্লির কঠিন বাধা। ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায়। সরাসরি দেখা যাবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের চ্যানেলে ও সোনি লিভ অ্যাপে।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/MWCRI_LCbqY?si=0w5rezAiSygoeztX” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>