গাড়োয়াল ইউনাইটেডকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় ইস্টবেঙ্গলের

আইডব্লুএল ফুটবলের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল ইস্টবেঙ্গল। পরপর দুটো ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে গেল। প্রথম ম্যাচে দিল্লির সেতু এফসি’র বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পাওয়ার পরে, স্বাভাবিকভাবে আত্মবিশ্বাসী ফুটবলাররা দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবেন এটাই স্বাভাবিক ছিল। গাড়োয়াল ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। খেলার শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের দাপট দেখতে পাওয়া গেলেও আসল লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে। সাফ ক্লাব কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড়রা বেশ ক্লান্ত ছিলেন। তা দেখতে পাওয়া গিয়েছে খেলা চলাকালীন। তবে কোচ অ্যান্টনি অন্ড্রুজ মনে করেন, মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে দুটো ম্যাচ খেলতে হয়েছে, তাই খেলোয়াড়রা অনেক সময় সমস্যায় পড়েছেন।

শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড়রা বাঁদিক থেকে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে সুলঞ্জনা রাউল, রেস্টি নানজিরিরা। গোল পেতেও খুব একটা দেরি হল না। সেটা অবশ্য এল ডান প্রান্তিক আক্রমণে। সৌম্যা গুগুলোথের ভাসানো ক্রস থেকে গোল করে যান সুলঞ্জনা রাউল। তিনি বক্সের মধ্যে কখন যে প্রবেশ করেছেন, তা গাড়োয়ালের ডিফেন্ডাররা টেরই পাননি। তারপর অবশ্য একাধিক গোল মিস করলেন ফুটবলাররা। এমনকী একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিও কাজে লাগাতে পারেননি উগান্ডার ফুটবলাররা। একই অবস্থা রেস্টিরও। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু থেকেই জাত চেনাতে থাকেন ফাজিলা। এবারও নেপথ্যের কারিগর সৌম্যা। ৬২ মিনিটে কর্নার থেকে ভাসানো বল হেডে নামিয়ে দেন তিনি। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় ছিলেন ফাজিলা। তাই গোল করতে তিনি ভুল করেননি। কিন্তু ১০ মিনিট পরই বিপদের আশঙ্কা নেমে এল লাল-হলুদ শিবিরে। গাড়োয়ালের একটি দুর্বল শট বুঝেই উঠতে পারেননি ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার পান্থই। সেই বলটি কখন যে গোলের জালে জড়িয়ে গেছে, তা বুঝতেই পারেননি ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক। পরবর্তী সময়ে দুই দলই আক্রমণ গড়ে তুললেও খেলার ফলাফলে কোনও পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে লাল-হলুদ শিবিরের মেয়েরা হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়েন।


সাফ কাপে টানা পাঁচটি ম্যাচ গোল হজম করেনি ইস্টবেঙ্গল। আইডব্লুএলের প্রথম ম্যাচেও গোল হজম করেনি ইস্টবেঙ্গল। অর্থাৎ ৬ ম্যাচ পর লাল-হলুদের গোলের জালে বল জড়ায়। গোলকিপারের ভুল যেমন দায়ী, ডিফেন্ডাররাও এই দায় থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে পারবেন না। আসলে ক্লান্তি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইস্টবেঙ্গলের। শেষের দিকে কার্যত দাঁড়িয়েই পড়েছিল রক্ষণভাগ। সেটা কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইস্টবেঙ্গল দলের।