জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে দুরন্ত ব্যাটিং করে শুধু ম্যাচসেরাই নন, সিরিজ-সেরার পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেট বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এসে গিয়েছেন। তিনি বৈভব সূর্যবংশী। হারারের তৃতীয় টি-২০-তে ৪৯ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। যার সুবাদে ৩৫ রানে ম্যাচ জিতে জিম্বাবোয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে ভারত।
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগ লুকোননি বৈভব। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো অনুভূতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে ম্যাচসেরা এবং সিরিজসেরার পুরস্কার পাওয়া আমার কাছে দারুণ একটা মুহূর্ত’।
এই সাফল্যের কৃতিত্ব শুধু নিজের নয়, পুরো দলের বলে মনে করেন তরুণ ক্রিকেটার। বৈভব বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। ওদের সমর্থন না পেলে হয়তো আমি এভাবে খেলতে পারতাম না’।
প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজেই ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের মন্ত্র কী? বৈভবের জবাব, ‘আমি নিজের খেলার ধরন বদলাইনি। যেভাবে সব সময় ব্যাট করি, এখানেও সেভাবেই খেলেছি। আমি শুধু বল দেখে খেলতে চেয়েছি এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে চেয়েছি’।
সিরিজ জুড়ে তাঁর ব্যাটে ছিল ধারাবাহিক রান। আগের ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি। তৃতীয় ম্যাচে আরও পরিণত ইনিংস খেলে ভারতের বড় রানের ভিত গড়ে দেন।
এত অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেলেও বৈভবের লক্ষ্য আরও বড়। তিনি বলেন, ‘এটা কেবল শুরু। সামনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ভারতকে আরও বেশি ম্যাচ জেতাতে চাই’।
এই সফরে ভারতের ভারপ্রাপ্ত কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণও তরুণ ব্যাটারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর মতে, বৈভবের সবচেয়ে বড় গুণ হল পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা এবং প্রতিদিন আরও উন্নতি করার মানসিকতা। এত কম বয়সে এই পরিণত মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
জিম্বাবোয়ে সফরে বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে এসেছে ধারাবাহিক রান, আর সেই পারফরম্যান্সই তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল উদীয়মান তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভারতের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার আরও একটি বড় কারণ হয়ে উঠলেন বিহারের এই কিশোর।