গ্লাসগোয় বক্সিংয়ে জয়সমিন-প্রীতির জোড়া সোনা, শটপুটে সোনা রাণার, ট্রিপল জাম্পে পদক প্রভীন-প্রভুর, জাদুমণির রুপো

Photo: X

কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের বক্সিং রিং যেন সোনার খনি হয়ে উঠেছে। একদিনে জোড়া সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করলেন জয়সমিন ল্যাম্বোরিয়া এবং প্রীতি পানওয়ার। আরও তিন ভারতীয় তারকা—লভলিনা বরগোহাঁই ও অরুন্ধতী চৌধুরী নিজ নিজ বিভাগের ফাইনাল জিতে সোনা জয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। হারলে অবশ্য রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে তাঁদের। ভারতের বক্সিং অভিযানে তাই এখন আরো সোনার পদকের প্রত্যাশা।

এ দিন অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক থেকেও এল জোড়া পদক। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে রুপো জিতলেন প্রভীন চিত্রাভেল, আর ব্রোঞ্জ এল সেলভা প্রভু থিরুমারানের হাত ধরে। একই ইভেন্টে দুই ভারতীয় অ্যাথলিটের পোডিয়ামে ওঠা দেশের অ্যাথলেটিক্সে আরও এক স্মরণীয় অধ্যায়। প্যারা শটপুটার সোমান রানাও এদিন সোনা জিতে পদকতালিকায় ভারতকে আরো ভালো জায়গায় নিয়ে যান।

বক্সিংয়ে মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জয়সমিন ল্যাম্বোরিয়া ফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞ মাইকেলা ওয়ালশকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে অনবদ্য সোনা জেতেন। প্রথম রাউন্ডে কিছুটা লড়াই হলেও এর পর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগই দেননি তিনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুটের সঙ্গে এবার কমনওয়েলথের সোনাও যোগ হল তাঁর সাফল্যের মুকুটে।


অন্যদিকে, মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে প্রীতি পাওয়ারও দুরন্ত ছন্দে ছিলেন। কানাডার স্কারলেট ডেলগাডোকে সর্বসম্মত ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতীয় বক্সার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বক্সিং, নিখুঁত পাঞ্চ এবং দুর্দান্ত রিং-কৌশলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন প্রীতি। ম্যাচের মাঝেই তিনি প্রতিপক্ষকে স্ট্যান্ডিং কাউন্টে পাঠিয়ে নিজের আধিপত্য স্পষ্ট করে দেন।

ভারতের সাফল্যের মিছিল অবশ্য এখানেই থামার নয়। টোকিয়ো অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী লভলিনা বরগোহাঁই মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে সোনার জন্য লড়বেন। তাঁর সামনে এখন আর মাত্র একটি লড়াই। মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালে উঠে সোনার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

তবে পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগের জাদুমনি সিং সফল হতে পারেননি। সেমিফাইনালে যে ভাবে জয় তুলে নিয়ে তিনি ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছিলেন, সে ভাবে ফাইনালে লড়াই করতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার জাই ডিক্সনের কাছে হেরে রুপো জেতেন তিনি। ডিক্সন তাঁকে ৫-০-য় কার্যত উড়িয়ে দেন।

পুরুষদের এফ৫৭ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০২২ এশিয়ান প্যারা গেমসের রুপোজয়ী শটপুটার সোমান রাণা মরশুমের সেরা ১৩.৪০ মিটার থ্রো করে সোনার পদক জেতেন। মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো রাণা প্রথম প্রচেষ্টায় ১৩.৩৮ মিটার ছোড়ার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাঁর থ্রো গিয়ে পড়ে ১৩.৪০ মিটার দূরে। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে সোনা এনে দেয়। এটাই ছিল তাঁর মরসুমের সেরা থ্রো। ভারতেরই শুভম জুয়াল মরশুমের সেরা ১৩.২৮ মিটার থ্রো করে রুপো জিতে নেন।

অন্যদিকে, পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে জাতীয় রেকর্ডধারী প্রভীন চিত্রাভেল ফাইনালে নিজের সেরাটা তুলে ধরে ১৬.৫৮ মিটার লাফ দেন। তবে সোনা থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন তিনি। জামাইকার জর্ডন স্কট ১৬.৭২ মিটার লাফিয়ে সোনা জেতেন। ব্যবধান ১৪ সেন্টিমিটার। সেলভা প্রভু থিরুমারানও অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখান। ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে তিনি ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটি তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য। ভারতীয় দুই ট্রিপল জাম্পারের একসঙ্গে পদক জয়ে গ্লাসগোর ট্র্যাকে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

প্রভীনের জন্য এই পদক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যোগ্যতা অর্জন পর্বেই তিনি আত্মবিশ্বাসের ছাপ রেখেছিলেন। ফাইনালেও সেই ছন্দ বজায় রেখে রুপো জিতে ভারতের পদক তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করলেন। অন্যদিকে সেলভা শেষ পর্যন্ত নিজের স্নায়ুর জোর ধরে রেখে ব্রোঞ্জ ছিনিয়ে নেন, যা ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ভবিষ্যতের জন্যও বড় ইতিবাচক বার্তা।