‘অতীত ভেবে লাভ নেই, মোহনবাগানের প্রতি কৃতজ্ঞ, এখন বর্তমানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ’, ডার্বির আগে বললেন লাল-হলুদের হেডস্যার হাবাস

EBFC Coach Habas Photo-SNS

মরসুমের প্রথম ডার্বি থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের অসাধারণ জয়- শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে সব প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হিসেবে বহু বছর কাটানোর পরেও অবশেষে লাল-হলুদ বাহিনীর দায়িত্ব নেওয়ার অনুভূতিও জানালেন তিনি। ডুরান্ড কাপ ডার্বির ২৪ ঘণ্টা আগে হওয়া এই প্রশ্নোত্তর পর্বের কিছু অংশ তুলে ধরা হল এখানে।

মরসুমের শুরুতেই ডার্বিতে দল নামাতে হচ্ছে আপনাকে। অথচ মাত্র দু-তিন দিন অনুশীলন করিয়েছেন দলের ফুটবলারদের। এমন কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে কী বলবেন?

হাবাস: এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আমরা অনুশীলনের জন্য বেশি সময় পাইনি। তবে প্রতিপক্ষেরও একই সমস্যা। কিন্তু আমাদের ম্যাচটা খেলতেও হবে, জিততেও হবে। দেখা যাক কী ভাবে সেটা করা যায়। মাত্র দুটো ট্রেনিং সেশনে খেলোয়াড়দেরও ভালো করে চেনা হয়ে ওঠে না। কে কোন জায়গায় ভালো খেলে, সেটাও ভালো করে জানা যায় না। তবে আমাদের সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে খেলতে হবে। এই ম্যাচটা জিততে পারলে সারা মরসুম আমাদের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।


আপনার দলের দুই ফুটবলার দানিশ ফারুখ ও বরিস সিংয়ের চোট। তারা কবে মাঠে ফিরতে পারবেন?

দানিশ ও বরিসের মাঠে ফিরতে অন্তত ১৫ দিন লাগবে। কারণ, ওদের চোট ছোটখাটো নয়। গুরুতর চোট রয়েছে। সময় তো লাগবেই।

আপনি ডার্বিতে অপরাজিত কোচ। কলকাতায় বহুবছর যে ক্লাবের কোচ ছিলেন, এখন তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কোচ। এই অনুভূতিটা কেমন?

হাবাস: আমি যখন মোহনবাগানে ছিলাম, তখন ইস্টবেঙ্গল আইএসএল জিততে পারেনি। কিন্তু এখন ইস্টবেঙ্গল আইএসএল চ্যাম্পিয়ন। পরিস্থিতি সম্পুর্ণ আলাদা। তা ছাড়া অতীত ভেবে লাভ নেই। মোহনবাগানে থাকার সময় অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু এখন আমি বর্তমানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ফুটবলে এমন হয়েই থাকে। এটাই ফুটবল, এটাই জীবন। ফুটবল বিশ্বে এটা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়।

ডার্বির মতো উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে কৌশল ও মানসিক শক্তির মধ্যে কোনটা বেশি জরুরি?

হাবাস: কৌশল ও মানসিক শক্তি দুটোই খুব প্রয়োজনীয়। বিশ্বকাপে স্পেনকে দেখেই সেটা বোঝা গিয়েছে। ওরা কৌশল ও মানসিকতা দুটোতেই সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল। যে দলে এই দুটো জিনিস সমানভাবে গুরুত্ব পায়, তারাই সাফল্য পায়। আমাদের দলে এই দুটো জিনিস ভালোরকম ভাবে আনতে গেলে অনেক দিন ধরে অনুশীলন করতে হবে।

আপনার দলের ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে আপনার কী ধারণা?

হাবাস: খুবই ভালো আমাদের ভারতীয় খেলোয়াড়রা। ওরা অনেকেই জাতীয় দলে খেলার মতো। ওদের ভবিষ্যৎও খুব ভালো। ওদের এই দলে পেয়ে আমি খুব খুশি।

১২ বছর ধরে আপনি ভারতীয় ফুটবলকে দেখছেন আপনি। এই ১২ বছরে কতটা বদলেছে এ দেশের ফুটবল?

হাবাস: এই কয়েকবছরে বিশ্ব ফুটবল তেমন বদলেছে বলে আমার মনে হয় না। স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালে যে পদ্ধতিতে খেলে জিতল, সেই একই খেলা খেলে ওরা অন্তত ২০বার জিতেছে। আমার মনে হয় না, সাম্প্রতিককালে ফুটবল খুব একটা পাল্টেছে। তবে ভারতকে অনেক উন্নতি করতে হবে। কারণ, গত কয়েক বছরে ভারতের ফুটবলে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ভারতকে যদি বিশ্বকাপে কখনো খেলতে হয়, তা হলে এখান থেকে অনেক উন্নতি করতে হবে।

দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদের কি কাল ডার্বিতে খেলার সম্ভাবনা আছে?

হাবাস: রশিদ তো কালকেই এসে পৌঁছেছে। দানিও একদিনের বেশি অনুশীলন করতে পারেনি। ওদের পক্ষে কালকের ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলা বেশ কঠিন। এত কম প্রস্তুতি নিয়ে ডার্বির মতো তীব্রতার ম্যাচে নামলে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই থাকে। কিন্তু কী করা যাবে, ডার্বিতে তো মাঠে নামতেই হবে। দুই বিদেশিকে মাঠে দেখব, ওদের সঙ্গে কথা বলব। তার পরে কাল ম্যাচের আগে ঠিক করব, কারা খেলতে পারবে, কারা পারবে না। বাকি দুই বিদেশি আগামী সপ্তাহে আসবে।

বিশ্বকাপে আপনার দেশ স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ বারের বিশ্বকাপ থেকে অনেকেই অনেক কিছু শেখার কথা বলেছেন, আপনি কী শিখলেন?

হাবাস: স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি খুব খুশি। দীর্ঘদিন ধরেই স্পেনের ফুটবল অ্যাকাডেমিগুলো থেকে অনেক ভালো ভালো ফুটবলার উঠে আসছে। এই সাফল্য তারই ফল। প্রতিভাবানদের মধ্যে সঠিক ফুটবলারদের বেছে নিয়ে স্প্যানিশ দল তৈরির কাজ হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এর মধ্যে অনেক তথ্য-পরিসংখ্যান ও অনেক পড়াশোনাও ছিল। আমি যখন বলিভিয়ার কোচ ছিলাম, তখন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলেছিলাম। তখন থেকে দেখে আসছি, মেসির ক্ষেত্রেও ওরা একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। আগেকার ফুটবলে ফুটবলাররা বেশি জায়গা বদল করত না। এখনকার ফুটবলে লেফট ব্যাক, রাইট ব্যাকরা নিজেদের জায়গা ছেড়ে উঠে এসে খেলছে, মাঝমাঠও সামলাচ্ছে। আগে ৪-৩-৩-এ খেলা একটা দল আক্রমণের সময়েও ৪-৩-৩-ই বজায় রাখত। এখন দেখা যায় ৪-৩-৩-এ খেলা একটা দল আক্রমণের সময় ৩-৫-২ হয়ে যাচ্ছে। এটা আমার খুবই ভালো লেগেছে।