৫৮৪ রানে এগিয়ে ইশান-বৈভবরা, পূর্বাঞ্চলের দলীপ ট্রফি জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা

Photo: X

দলীপ ট্রফির ফাইনাল কি শেষ? সরকারি ভাবে উত্তরটা ‘না’ হলেও বলে দেওয়া যায়, ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে গিয়েছে। চতুর্থ দিনের শেষে পূর্বাঞ্চল যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে খেতাব তাদের হাতছাড়া হওয়া কার্যত অসম্ভব।

দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ঝড় তুলেছেন ইশান কিষাণরা। অধিনায়ক ইশান এবং শিখর মোহনের অর্ধশতরানে ভর করে দিনের শেষে তাদের লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৪। এখান থেকে হেরে যাওয়া বেশ কঠিন।

প্রথম ইনিংসে পূর্ব ৭০৮ রানের পাহাড় তোলে। যার জবাবে দক্ষিণ থেমে যায় ৩৩৬ রানে। দক্ষিণের হয়ে লড়াই করেন তিলক বর্মা। কিন্তু মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করে তিনি আউট হয়ে যান। তাঁকে সঙ্গ দেওয়া চামা মিলিন্দও প্রতিরোধ গড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পূর্বের বোলারদের সামনে দক্ষিণের ইনিংস গুটিয়ে যায়।


চতুর্থ দিন সকাল থেকে অবশ্য দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের বিরুদ্ধে রান তুলতে শুরু করেছিলেন তিলক ও মিলিন্দ। নতুন বলেও তিলক পর পর দু’টি চার মারেন মহম্মদ শামিকে। অন্য প্রান্তে মিলিন্দও মুকেশ কুমারের বিরুদ্ধে দারুণ কভার ড্রাইভে নিজের রানের খাতা খোলেন। নতুন বলের বিরুদ্ধে তাঁদের জুটি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল।

পরিস্থিতি সামলাতে স্পিনারদের আক্রমণে আনতে হয় ইশানকে। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই কাজে দেয়। মিলিন্দ আউট হওয়ার পর দক্ষিণের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। তিলকও শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানে ফিরে যান। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থেকেও মাইলফলক ছুঁতে পারলেন না তিনি।

৩৭২ রানের লিড পাওয়ার পরও ফলো-অন করায়নি পূর্বাঞ্চল। ফলে ফের ব্যাট করার সুযোগ পান ইশান কিষাণ, বৈভব সূর্যবংশী-সহ দলের ব্যাটাররা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় তারা। অভিমন্যু ঈশ্বরন সিরাজের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন। এর পর বৈভবও বড় শট খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে মাত্র ৮ রানে ফেরেন।

তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশ শক্ত হাতে তুলে নেন ইশান ও শিখর মোহন। লিড ৪০০ পেরিয়ে যেতেই গিয়ার বদলে নেন ইশান। বিজয়ের বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। এর পর পঞ্চাশ পূর্ণ করে পরের ওভারেই ৪, ৬, ৬, ৪— টানা চারটি বাউন্ডারিতে গ্যালারি মাতিয়ে দেন পূর্বাঞ্চল অধিনায়ক।

মনে হচ্ছিল, ম্যাচে আরও একটি শতরান দেখতে চলেছে সবাই। কিন্তু শ্রেয়স গোপাল এবং এম ডি নিধীশ রান আটকে দেওয়ায় চাপ বাড়ে অধিনায়কের উপর। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ৮০ রানে থামেন ইশান। তবু তাঁর ইনিংসেই পূর্বের লিড ৫০০-র গণ্ডি পেরিয়ে যায়।

ইশান আউট হওয়ার পর শিখর মোহনও ৫২ রানে এলবিডব্লিউ হন। সুদীপ ঘরামিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দিনের শেষ দিকে কুমার কুশাগ্র এবং মহম্মদ কুনাইন কুরেশি জুটি বাঁধেন। দু’জনে মিলে ৫০-এর জুটি গড়ে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন।

ফলে চতুর্থ দিনের শেষে স্কোরবোর্ড বলছে— পূর্বাঞ্চল ৭০৮ এবং ২১২/৫, লিড ৫৮৪-র। দক্ষিণাঞ্চলের সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ রান। তিলকের ৯৯ ছাড়া দক্ষিণের হয়ে বলার মতো তেমন কিছুই নেই। শেষ দিনের খেলা শুরুর আগেই তাই দলীপ ট্রফি কার্যত পূর্বাঞ্চলের মুঠোয়। এখন শুধু তা ঘোষণা হওয়ার অপেক্ষা— ফাইনালের শেষ দিনে তারা কী ভাবে ম্যাচের যবনিকা নামায়, সেটাই দেখার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: পূর্বাঞ্চল ৭০৮ ও ২১২/৫ (ইশান কিষাণ ৮০, শিখর মোহন ৫২); দক্ষিণাঞ্চল ৩৩৬ (তিলক বর্মা ৯৯; মুকেশ কুমার ৩/৬২)। পূর্বাঞ্চল ৫৮৪ রানে এগিয়ে।