রবিবার রাতে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানকে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ইস্টবেঙ্গলের কর্তা দেবব্রত (নিতু) সরকারের ফোনে একটি বিশেষ নম্বর থেকে আসে একটি বিশেষ ‘কল’।
তখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন দেবব্রত। অনেকের ক্যামেরাও চলছিল। ফোন ধরে প্রথমে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে শোনেন দেবব্রত। সম্ভবত ওপার থেকে ভেসে আসে অভিনন্দন-বার্তা। তার পরেই দেবব্রত বলতে শুরু করেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ সৌরভ, থ্যাঙ্ক ইউ। তোমার কোচ খারাপ হবে কী করে? না হলে আমি নিলাম কী করে? তবে হাবাসের ওপর আমার অনেক দিন ধরেই নজর ছিল’।
সৌরভ মানে কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? আর ‘তোমার কোচ’ মানেই বা কী? তা হলে কি সৌরভের পরামর্শেই হাবাসকে কোচ করে নিয়ে আসে ইস্টবেঙ্গল? এই ব্যাপারে খুলে বলতে চাননি দেবব্রত সরকার। কিন্তু ওই ফোনের পর থেকেই এই জল্পনা শুরু হয়ে যায়।
তার মানে ইস্টবেঙ্গলের বিশেষ পরামর্শদাতা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়?
আসলে ক্রিকেট কিংবদন্তি হলেও ফুটবলই ছিল সৌরভের প্রথম পছন্দ। ছোটবেলায় নিয়মিত ফুটবল খেলতেন ও দেখতে যেতেন তিনি। বাবা চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে একাধিকবার ডার্বি দেখেছেন বলে একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।
২০১৪-য় যখন ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) শুরু হয়, তখন কলকাতার দল এটিকে-র প্রশাসনের সঙ্গেও অন্যতম ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। এটিকে যখন মোহনবাগানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এটিকে-মোহনবাগান নামে আইএসএলে খেলা শুরু করে, তখনও তিনি ক্লাবের প্রশাসনে একই ভাবে ছিলেন।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলেরও তিনি আজীবন সদস্য। এই সন্মান তাঁকে ক্লাবই দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার পর সৌরভ ২০২১-এ এটিকে মোহনবাগানের বোর্ড অফ ডিরেক্টরর্স থেকে পদত্যাগ করেন। কারণ, এটিকে মোহনবাগানের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা আইপিএলে ৭,০৯০ কোটি টাকা দিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্ট দলটি কেনেন। যাতে স্বার্থের সংঘাত এড়াতেই তখন তিনি এই পদ থেকে ইস্তফা দেন।
তবে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০২৪-এ ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁকে ‘ভারত গৌরব’ সন্মানে ভূষিত করে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সৌরভ সমাজমাধ্যমে তাদের শুভেচ্ছা জানান। এমনকী মেয়েদের দলের সাফল্যেও তিনি অভিনন্দন জানান।
তাই রবিবার রাতে সৌরভের অভিনন্দন বার্তার জবাবে দেবব্রত সরকারের এই জবাব এবং তাতে তিনি ‘তোমার কোচ খারাপ হবে কী করে?’ বলার পরেই এই জল্পনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই ব্যাপারে সোমবার সকালে সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অবশ্য তিনি ব্যস্ততার জন্য উত্তর দিতে পারেননি।
ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তিনি জড়িয়ে থাকনে ঠিকই। তবে তাঁর পরামর্শেই আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে কোচ করে নিয়ে আসা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি।
এটিকে-র প্রশাসনে থাকাকালীন তিনি হাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেই থেকেই হাবাসের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় মুগ্ধ ছিলেন তিনি। অতীতে হাবাসের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে সৌরভের মুখে। তাই ইস্টবেঙ্গলের কাছে হাবাসকে কোচ করে নিয়ে আসার প্রস্তাব তিনি দিয়ে থাকলেও তা অস্বাভাবিক নয়।