গোয়ার বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও জয়ের মুখ দেখতে পেল না সবুজ-মেরুন ব্রিগেড

না। জয় এল না। লড়াইটা কঠিন থাকলেও, এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও জয়ের হাসি হাসতে পারল না মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। খেলা শেষ হল ১-১ গোলে। আইএসএল ফুটবলে মোহনবাগান এই ম্যাচটা জিততে পারলেই লিগ টেবলে শীর্ষে পৌঁছে যেত। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গত ম্যাচে বৃষ্টিভেজা মাঠে মোহনবাগান জয় পেলেও, এবারে জেমি ম্যাকলারেন ও লিস্টন কোলাসোরা লক্ষ্যে বাজিমাত করতে পারলেন না।

খেলার প্রথমার্ধে ঘরের মাঠে গোয়া যেমন রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত ছিল, তেমনই আবার পাল্টা আক্রমণকে কীভাবে রুখে দেওয়া যাবে, তার জন্য মোহনবাগান রক্ষণভাগও বেশ আঁটোসাঁটো ছিল। মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবোরো প্রথম একাদশে ম্যাকলারেন ও রবসনকে আক্রমণে রেখে অঙ্ক কষে খেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই দুই ফুটবলার সেইভাবে নজর কাড়তে পারেননি। ম্যাচের বেশির ভাগ সময়টা এফসি গোয়ার রক্ষণভাগের সামনে গিয়ে নিস্প্রভ হয়ে গিয়েছিলেন। একমাত্র আপুইয়া মাঝেমধ্যে ঝলক দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একটা দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন আপুইয়া। এ বাদে সবুজ-মেরুন ব্রিগডে অ্যালড্রেড কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিলেন। কিন্তু গোল করার ক্ষেত্রে পূর্ণতা আসেনি।

অন্যদিকে, মাঝেমধ্যেই এফসি গোয়ার ফুটবলাররা আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। আক্রমণে গতি বাড়িয়ে উদান্ত সিং, রাবিহর, নেমিল ও সাংওয়ানরা প্রতিপক্ষ মোহনবাগানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। সেই সময় ওই আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য মোহনবাগানের রক্ষণভাগ ব্যারিকেড তৈরি করেছিল। সেই জায়গা থেকে গোয়া দলের পক্ষে গোল করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। খেলার প্রথমার্ধে কোনও দলই গোলের মুখ খুলতে পারেনি। তবে দ্বিতীয় পর্বে মোহনবাগানের রক্ষণের পরিবর্তে মাঠে আসেন জেসন কামিন্স। কামিন্স মাঠে আসায় খেলার চেহারা কিছুটা বদলে যায়। খেলায় গতি বাড়িয়ে মোহনবাগানের ফুটবলাররা মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের উৎস রচনা করতে থাকেন।


মোহনবাগান আধিপত্য বিস্তার করে গোয়াকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। খেলার ৫৫ মিনিটে গোলের মুখ খুললেন মোহনবাগানের জেমি ম্যাকলারেন। অভিজ্ঞ সন্দেশ ঝিঙ্গানের ভুলেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তিনি। আর সেই সুযোগে জেমির কাছে চলে আসে বল। অপেক্ষায় থাকা ম্যাকলারেন গোল করতে কোনও ভুল করেননি। বক্সের ভিতর থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় শট নিয়ে গোলরক্ষক ববকে পরাস্ত করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন তিনি। এগিয়ে থাকা মোহনবাগান তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। খেলার ৬৭ মিনিটে গোয়ার ফুটবলাররা সম্মিলিত আক্রমণ গড়ে তোলেন এবং রনি উইলসন দুরন্ত গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। ডানদিক থেকে ক্রস তুলেছিলেন তিনি। সেই বলই হঠাৎই জালে জড়িয়ে যায়। নিজেও হয়তো ভাবতে পারেননি এভাবে গোল পেয়ে যাবেন।

৭২ মিনিটে অত্যন্ত সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন জেসন কামিন্স। তিনি তাড়াহুড়ো করে বলটি বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। যদি বুদ্ধি সহকারে বলটিকে গোলের জালের দিকে ঠেলে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো মোহনবাগান এগিয়ে যেতে পারত। তাঁকে বলটি বাড়িয়েছিলেন আবদুল সামাদ। শেষ পর্যন্ত কোনও পক্ষই আর কোনও গোল করতে পারেনি। ১-১ গোলে ড্র মোহনবাগান ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। কলকাতার অপর প্রধান ইস্টবেঙ্গল ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে শীর্ষে রয়েছে। গোল পার্থক্যে লাল-হলুদ ব্রিগেড থেকে পিছিয়ে পড়ে মোহনবাগান দ্বিতীয় স্থানে দাঁড়িয়ে পড়ল।