শরিফুল সাত উইকেট নিয়েও বাঁচাতে পারলেন না বাংলাদেশকে, দু’দিনেই ইনিংসে হার অস্ট্রেলিয়ার কাছে

Australia Wins Test Photo-SNS

বল হাতে একাই লড়লেন শরিফুল ইসলাম। কিন্তু ব্যাটারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় তাঁর দুরন্ত বোলিংও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারল না। দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১-এ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দু’দিনেই শেষ হয়ে গেল দ্বিতীয় টেস্ট।

প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পরে অস্ট্রেলিয়াও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। শরিফুল ইসলামের আগুনে বোলিংয়ে এক সময় চাপে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে শেষ হয় তাদের প্রথম ইনিংস।

৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন শরিফুল। বাংলাদেশের কোনও বোলারের বিদেশের মাটিতে এক ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের নজির গড়লেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। তাঁকেও ফিরিয়ে দেন শরিফুল।


কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয় কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতেই মিচেল স্টার্কের পর পর দুই বলে শাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক ফিরে যান। পরে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন তানজিদ হাসান। মধ্যাহ্নভোজের সময় বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩৯/৩—অস্ট্রেলিয়ার থেকে তখনও ১০৭ রানে পিছিয়ে তারা।

এর পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ৩১ রান করে নাথান লায়নের শিকার হন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন মুশফিকুর রহিম—অপরাজিত ২৯। কিন্তু তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৩ ওভারে মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নেন তিনি। ম্যাচে তাঁর মোট শিকার ১০ উইকেট। কামিন্স নেন তিনটি, আর লায়নের ঝুলিতে যায় তিন উইকেট।

ফলে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের লজ্জার হারের জবাব দ্বিতীয় টেস্টে দারুণ ভাবেই দিল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ শেষ হল ১-১-এ। আর বাংলাদেশের কাছে এই টেস্ট হয়ে রইল এক অদ্ভুত স্মৃতি—দলের ব্যাটিং দুই ইনিংসেই একশোর নীচে থামল, অথচ এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে নায়ক হয়ে গেলেন শরিফুল ইসলাম।