গোল করেও জয়ের হাসি দেখতে পেলেন না, এই আক্ষেপ ভাবাচ্ছে এডমুন্ড লালরিনদিকাকে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

অলিভিয়া সরকার

ডার্বি ম্যাচের দিনটা এডমুন্ড লালরিনদিকার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারত। হয়তো তাঁর করা গোলেই আইএসএলের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য ডার্বি জিততে পারতো ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে আইএসএল ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপও মেটাতে পারতেন হাজার হাজার লাল-হলুদ সমর্থকদের। আসলে, ডার্বি ম্যাচ নায়কের জন্ম দেয়। ময়দানের প্রচলিত এই প্রবাদকে রবিবার প্রায় সত্যি করে ফেলেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড লালরিনদিকা। বাঙালির আবেগের ডার্বিতে গোল করে প্রায় নায়কই হয়ে গিয়েছিলেন বছর সাতাশের ফুটবলার এডমুন্ড লালরিনদিকা। কিন্তু, ডার্বি হয়তো তাঁর প্রাপ্তির ভাঁড়ারটা এখনও পুরোপুরি পূর্ণ করতে পারেনি।

আর এই অপ্রাপ্তির সূচনাটা হয়েছিল ২০২০ সালে ১৯ জানুয়ারি। সে বছর বেঙ্গালুরুর রিজার্ভ দল থেকে লোনে ইস্টবেঙ্গলে এসেছিলেন বছর কুড়ির এক তরুণ প্রতিভা। ডার্বির আগে মাত্র একটি ম্যাচে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। পরবর্তীকালে এমনই এক রবিবারসরীয় ডার্বিতে যখন হোসে বেইতিয়া এবং বাবা দিয়ারার গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, তৎকালীন কোচ আলেজান্দ্রো মেনিন্ডেজ মাঠে নামিয়েছিলেন এডমুন্ডকে। কোচের ভরসার মর্যাদা দিতে খুব বেশি দেরি করেননি তিনি। খেলার ৭২ মিনিট নাগাদ তাঁর বাড়ানো পাস থেকেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন মার্কোস এসপাদা।


কিন্তু, সেদিন ভাগ্য খুব বেশি সঙ্গ দেয়নি মিজোরামের এই ফুটবলারকে। পরের মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ছ-মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় এডমুন্ডকে। চোট কাটিয়ে ইন্টার কাশীর জার্সিতে প্রত্যাবর্তনটা দারুণভাবে করেছিলেন তিনি। সেখানে দু-বছর কাটিয়ে চলতি মরসুমে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেন। মরসুমের শুরু থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। এদিনের ডার্বি ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘ ছ’বছর পর আবার ডার্বি ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামলেন এডমুন্ড। আর শুধু নামলেনই না। হাইভোল্টেজ ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম গোলটাও করলেন। তাঁর করা গোলেই ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। তবে, এবারও দলকে জেতাতে পারলেন না তিনি।

এদিন ম্যাচের ৬৩ মিনিট নাগাদ পি ভি বিষ্ণুর পরিবর্তে তাঁকে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। মাঠে নেমেই দাপট দেখাতে শুরু করেছিলেন তিনি। ফলে, কিছুটা চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের রক্ষণভাগের ফুটবলাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মিগুয়েল ফিগুয়েরার পাস থেকে ডিফেন্ডারকে ঘাড়ের ওপরে নিয়েই গোল করলেন এডমুন্ড। যার ফলে, এবারের আইএসএলে ১১ ম্যাচ খেলে ইতিমধ্যেই চারটি গোল করে ফেললেন তিনি। কিন্তু, শেষ রক্ষা করতে পারলেন না। খেলার একেবারে অন্তিম মুহূর্তে অযথা মাথা গরম করে দ্বিতীয়বারের জন্য হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল তাঁকে। ফলে, আগামী বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এডমুন্ড লালরিনদিকাকে পাবেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো। ম্যাচ শেষে তিনিও স্বীকার করেছেন, আগামী ম্যাচে এডমুন্ডকে না পাওয়াটা দলের কাছে বড় ধাক্কা।