ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) ফাইনালে ফের ডার্বি দেখতে পাবেন কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ইস্টবেঙ্গল (EBFC) তো ফাইনালে উঠেই গিয়েছে। এখন তারাও অপেক্ষায় আগামী রবিবার যুবভারতীতে ফাইনালে তারা সামনে কাদের পাবে।
কিন্তু যে ভাবে বুধবার জয় এল ইস্টবেঙ্গলের (EBFC), তা বোধহয় বেশিদিন মনে রাখতে চাইবেন না সমর্থকেরা। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করা, অগোছালো আক্রমণ- সব মিলিয়ে এই পারফরম্যান্স যে সারা মরসুম দেখতে চাইবেন না তাদের স্প্যানিশ হেডস্যার আন্তোনিও লোপেজ হাবাস, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ম্যাচটা টাইব্রেকারে জেতে ইস্টবেঙ্গল (EBFC)। প্রতিপক্ষ এসসি দিল্লিকে তারা ৫-৩-এ হারায়। কিন্তু ম্যাচটা টাই ব্রেকার পর্যন্ত গড়ানোরই কথা নয়। এই জয়ের বেশিরভাগ কৃতিত্বই গোলকিপার প্রভসুখন গিলের। আজ সকালে লাল-হলুদ (MBSG) বাহিনীর ফুটবলাররা তাই তাদের কিপারের উদ্দেশে এই গানটা গাইতেই পারেন- ‘তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হত না, তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত, বৃষ্টি হত না’।
এক বছর আগে ভিলেন, আজ হিরো!
নির্ধারিত সময়ে একবার পেনাল্টি বাঁচান গিল। আবার টাই ব্রেকারেও তিনিই সেভ করে দলকে জয় এনে দেন। অনেকেরই হয়তো মনে থাকবে, ঠিক একবছর আগে এই ২০ অগাস্টেই ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবার এফসি-র কাছে ইস্টবেঙ্গলকে (EBFC) হারতে হয়েছিল অনেকটা এই গোলকিপার গিলের ব্যর্থতার জন্যই। অথচ এক বছর পরে তিনিই হয়ে উঠলেন এ বারের ডুরান্ড ফাইনালে (Durand Cup) ওঠার নায়ক। সেই ডায়মন্ড হারবার এফসি-ও এখন ভারতীয় ফুটবল থেকে প্রায় উধাও।
বুধবারের ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় সত্তর শতাংশ বল ছিল ইস্টবেঙ্গলের (EBFC) দখলে। তারা ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করে, ১১টি কর্নার আদায় করে, মোট ২০টি শট নেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র চারটি শট ছিল টার্গেটে। অবাক করা পরিসংখ্যান।
মহম্মদ রশিদের শট একাধিকবার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ডেভিড লালনসাঙ্গা ওয়ান টু ওয়ান পরিস্থিতিতে বল গোলে না পাঠিয়ে গোলকিপারের হাতে জমা করে দেন। এ সব ভুল এখন ক্ষমা করে দিচ্ছেন বটে কোচ হাবাস, আইএসএলে আর করবেন বলে মনে হয় না।
তবু চিন্তিত নন হাবাস!
ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘ গত এক মাসে আমরা মাত্র পাঁচটা ট্রেনিং সেশন পেয়েছি। এছাড়া প্রস্তুতির কোনও সময় পাইনি। রিকভারিরও সময় নেই। প্রচুর গোলের সুযোগ মিস হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু আমি সেই নিয়ে ভাবছি না। গোলের এত চান্স তৈরি হওয়াই ইতিবাচক দিক। সেটা না হলে, চিন্তা করতাম’।
এই যে বারবার প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি পাইয়ে দিচ্ছেন সন্দীপ মান্ডিরা, এ জন্য দলের রক্ষণ নিয়েও চিন্তিত নন তিনি। বলেন, ‘রক্ষণের প্লেয়াররা খুবই ভাল। প্রতিপক্ষ মাত্র একটা বা দুটো সুযোগ পেয়েছে। তাও আবার সেটপিসে। একটা পেনাল্টি হতেই পারে। এটাই ফুটবল। ভুললে চলবে না আমরা প্রায় ২২-২৫ টা সুযোগ তৈরি করেছি (পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে ১৬টি)।’
তবে এমন পারফরম্যান্সে যে ফাইনালের গণ্ডী পেরনো যে কঠিন, তা ভালো করেই জানেন হাবাস। ফাইনালের আগে দিন দুয়েকের অনুশীলনে নিশ্চয়ই এ কথা বোঝাবেন দলের ছেলেদের।
কঠিন লড়াই সবুজ মেরুনের
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল (EBFC) সামনে পাবে কাদের? মোহনবাগান (MBSG) এসজি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি- প্রতিপক্ষ হিসেবে দুইই বেশ কঠিন। মোহনবাগানকে তাও একবার পরখ করা হয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের (EBFC), তাদের শক্তি দুর্বলতা জানেন হাবাস। কিন্তু এ বারের নর্থইস্ট দল নিয়ে নতুন করে হোমওয়ার্ক করতে হবে তাঁকে।
আজ সন্ধ্যায় শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। এই মাঠের ধরন, পরিবেশ- সব জানা পেদ্রো বেনালির দলের। গ্যালারিতে তাদের সমর্থকই বেশি। এর কোনোটাই মোহনবাগানের (MBSG) পক্ষে নয়। কলকাতায় টানা চারটি ম্যাচ খেলার পর হঠাৎ করে মাত্র দুদিনের প্রস্তুতিতে শিলংয়ের মতো শৈলশহরে গিয়ে খেলতে হবে তাদের, যেখানে দমের ঘাটতি পড়াই স্বাভাবিক।
এই অভিযোগ ইতিমধ্যেই করেছেন সবুজ-মেরুন বাহিনীর গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিলমপেরিস। এছাড়াও তাঁর অভিযোগ অনুশীলনের জন্য ভালো মাঠ দেওয়া হয়নি তাদের। এমনকী, সন্ধ্যায় অনুশীলনও করার ব্যবস্থা ছিল না। সব মিলিয়ে অনেক প্রতিকুলতা পেরিয়ে বৃহস্পতিবার এই ম্যাচ খেলতে হবে মোহনবাগানকে। অর্থাৎ, চ্যালেঞ্জটা বেশ কঠিন।
আজ প্রথম সবুজ-মেরুনে ছাঙতে?
ঘরের মাঠে, চেনা পরিবেশে, সমর্থকদের সামনে ইস্টবেঙ্গলই (EBFC) জিততে যা হিমশিম খেল, এরপর আজ মোহনবাগানের ভালো খেলা এবং জেতা মোটেই সোজা হবে না। এর মধ্যে তাদের অন্যতম প্রধান ফুটবলার দেজান দ্রাজিচ দলের সঙ্গে যেতেই পারেননি শিলংয়ে। নিয়ে যাওয়া হয়েছে সদ্য দলে যোগ দেওয়া লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেকে। গিয়েছেন মিগুয়েল ফিগুয়েরাও। সবুজ-মেরুন জার্সিতে এ দিনই প্রথম ছাঙতেকে মাঠে দেখা যেতে পারে। কারণ, এই পরিবেশ ও মাঠ তাঁর চেনা। পাহাড়ি এলাকায় কী করে দমের ঘাটতি এড়িয়ে খেলতে হয়, তাও জানা আছে তাঁর।
ইস্টবেঙ্গলের (EBFC) মতো মোহনবাগানও (MBSG) গোলের সুযোগ নষ্ট করায় বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে তো জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে অনেক কষ্টে জিততে হয়েছে তাদের, সেও সৌজন্যে গোলকিপার বিশাল কয়েথ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোহনবাগানের কাছ থেকে সেরা ফুটবলের আশা না করাই ভালো। টানা চার ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাসটুকুই তাদের সম্বল। বাকিটা কিছুটা ভাগ্যের ওপর ও কিছুটা পরিস্থিতির ওপরই ছেড়ে দিতে হবে সমর্থকদের।