মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে ঘিরে ফের বড় বিতর্ক। এ বার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর সঙ্গে চেন্নাই সুপার কিংসের সম্পর্ক। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, সিএসকে-র ২৫ শতাংশ অংশীদারি নাকি চেয়েছিলেন ধোনি। পরে নাকি সেই দাবি কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে তাঁকে ৫.৫ শতাংশ অংশীদারি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। কিন্তু সেই খবরকে কার্যত উড়িয়ে দিল সিএসকে।
সিএসকে-র এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ধোনি কখনওই দলের অংশীদারি চেয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেননি। তাঁর কথায়, ‘এমএস আমাদের কাছে এমন কোনও দাবি কখনও করেনি। এই বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনও আলোচনাও হয়নি। এন শ্রীনিবাসনের সঙ্গেও তিনি এ নিয়ে কথা বলেছেন কি না, সে সম্পর্কেও আমাদের কোনও তথ্য নেই’।
অর্থাৎ ২৫ শতাংশ অংশীদারি চাওয়া থেকে শুরু করে পরে ২০ শতাংশে নেমে আসা—পুরো বিষয়টিই এখন প্রশ্নের মুখে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছিল, সিএসকে-র পক্ষ থেকে ধোনিকে ৫.৫ শতাংশ অংশীদারি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির বক্তব্য অনুযায়ী, এমন কোনও আলোচনা আদৌ হয়নি।
তবে ধোনির সঙ্গে সিএসকে-র আর্থিক সম্পর্ক যে একেবারেই নেই, তা নয়। জানা গিয়েছে, ধোনির হাতে সিএসকে-র এক লক্ষেরও বেশি শেয়ার রয়েছে। সিএসকে নথিবদ্ধ সংস্থা না হওয়ায় এই শেয়ার সাধারণ শেয়ার বাজারে কেনাবেচা করা যায় না। ব্যক্তিগত ভাবে, অর্থাৎ ‘অফ-মার্কেট’ লেনদেনের মাধ্যমেই এই শেয়ার কেনা সম্ভব।
তবে ধোনির হাতে থাকা শেয়ারের পরিমাণ সিএসকে-র মোট শেয়ার মূলধনের তুলনায় খুবই কম। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৩০ কোটিরও বেশি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজির মোট শেয়ার মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্য দিকে, এন শ্রীনিবাসনের পরিবার ৫৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধরে রেখে নিয়ন্ত্রণকারী অংশীদার হিসেবে রয়েছে।
ধোনির ২৫ শতাংশ অংশীদারি চাওয়ার খবরকে অবাস্তব বলেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াও। তাঁর যুক্তি, সিএসকে-র মতো আইপিএলের অন্যতম মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজির ২৫ শতাংশ অংশীদারির মূল্য বিপুল।
চোপড়ার কথায়, ‘চেন্নাই সুপার কিংস একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ব্র্যান্ড। যদি তার মূল্য ১.৮ বিলিয়ন ডলার হয় এবং ধোনি তার ২৫ শতাংশ চান, তা হলে সেটা অবাস্তব। কেউ কাউকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেবে না। বরং ২৫ শতাংশ অংশীদারি পেতে আপনাকেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। আইপিএলের কোনও দলের ২৫ শতাংশ কেউ কাউকে দিয়ে দেবে— এটা অদ্ভুত দাবি’।
ধোনি পাঁচ বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সিএসকে-র অন্যতম মুখ। ফলে তাঁকে ঘিরে মালিকানা বা অংশীদারি সংক্রান্ত যে কোনও খবরেই স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু সে খবর সত্যি কি না, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চেন্নাইয়ের কোচ কে, ঠিক করবেন ধোনি?
আরো একটা বড় খবর হল চেন্নাই সুপার কিংসের আগামী কোচ হওয়ার বিষয়টিও নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে দিয়েছে ধোনির ওপরই। জানা গিয়েছে, নতুন কোচ নাকি বাছাও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন তাঁর নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। এক ক্রিকেট ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর সিএসকে-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ব্যাপারটার ফয়সালা হবে।
শোনা যাচ্ছে এক বিদেশি কোচ তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁকে পেতে চায় আর একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট বিদেশি কোচ চাইলেও ধোনি নাকি দেশীয় কোচ চান। এইসব টানাপোড়েনের মধ্যে সময় চলে যাচ্ছে। ধোনি এখন রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি সেখান থেকে ফিরে ২২ তারিখের বৈঠকে যোগ দেবেন। তার পরই ঠিক হবে, কে হবে সিএসকে-র নয়া কোচ।