চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি প্রথম এগারোয় থাকবেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আর সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের প্রতিক্রিয়া। ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে রোনাল্ডোর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে চাননি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেছিল পর্তুগাল। সেই ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সেই ম্যাচে তিনি কার্যত ব্যর্থ হন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও হাতছাড়া করেন। ফলে তাঁর জায়গায় তরুণ ফরোয়ার্ড গনসালো রামোসকে সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠতে শুরু করেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ সরাসরি বলেননি রোনাল্ডো খেলবেন কি না। তিনি বলেন, “প্রথম এগারো নিয়ে আমি আপনাদের কিছু বলতে পারব না। কারণ, প্রথম এগারো আমি আমার দলের ছেলেদেরও জানাইনি।” তিনি দল নির্বাচনের বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখে জানান যে প্রথম এগারো নির্ধারণের আগে তিনি সব বিষয় বিবেচনা করছেন। কোচের এই অবস্থান থেকেই রোনাল্ডোকে বেঞ্চে বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
তবে মার্তিনেজ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বাইরের সমালোচনা বা চাপকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁর মতে, দলের চারপাশে যে “শব্দ” ও “উত্তেজনা” তৈরি হয়েছে, তা থেকে ফুটবলারদের দূরে রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বকাপ খেলছি, তাই অবশ্যই আমাদের চারপাশে অনেক আলোচনা, চাপ ও উত্তেজনা থাকবে। কিন্তু এটাও খেলারই একটি অংশ। আমাদের সমস্ত মনোযোগ দলের খেলায় রয়েছে। আমরা ইতিবাচক মানসিকতা দেখাতে চাই এবং ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখতে চাই। আমরা সম্পূর্ণভাবে মনোযোগী। আমরা ভাল অবস্থায় আছি। আর দল আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ।” রোনাল্ডোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও মার্টিনেজ আরও বলেন, “কিছু সমালোচনা ন্যায্য নয়, সেগুলো অন্যায্য এবং ভিত্তিহীন”।
প্রথম ম্যাচে রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সে দিন পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছিলেন— কোচ রবার্তো মার্টিনেজ এখনও বিশ্বাস করেন যে আক্রমণভাগে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে দলের জন্য রোনাল্ডোই অন্যতম সেরা ভরসা।
মার্তিনেজ বলেন, “ক্রিশ্চিয়ানোই এই কাজটি করার জন্য সেরা ফুটবলার। ওর পক্ষে পরিসংখ্যানই কথা বলে। আপনি যদি গত ৩২টি ম্যাচের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন ও-ই সেই খেলোয়াড়, যে অতিরিক্ত মুভমেন্টের মাধ্যমে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করতে পারে।”
পর্তুগালের প্রথম ম্যাচের ফল এবং রোনাল্ডোর তুলনামূলক খারাপ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও, উজবেকিস্তানের কোচ ফাবিও কানাভারো তাঁকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন। পর্তুগালের একাধিক তারকা ফুটবলারকে ঘিরে পরিকল্পনা করলেও, কানাভারোর মতে তাঁর খেলোয়াড়দের বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে রোনাল্ডোর ওপরই।
তিনি বলেন, “পেনাল্টি বক্সের ভেতরে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রোনাল্ডোর মতো খেলোয়াড়কে একা ছেড়ে দেওয়া যায় না।ওর ব্যাপারে আমাদের অত্যন্ত মনোযোগী থাকতে হবে, কারণ ক্রিস্চিয়ানো যে কোনো পরিস্থিতি থেকেই গোল করতে পারে। ফ্রি-কিক থেকে, এমনকী, কর্নার থেকেও। তাই তাঁকে নিয়ে আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।”
এদিকে, রোনাল্ডোকে ঘিরে বিতর্ক শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই। কঙ্গোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ফলের পর রোনাল্ডোর বোন কাতিয়া আভেইরোর সামাজিক মাধ্যমে করা মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি দলের কয়েকজন ফুটবলারের সমালোচনা করে ভাইয়ের পক্ষ নিয়েছেন, যা নিয়ে পর্তুগিজ ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে মতভেদও বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তিনি এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা হলেও প্রতি ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকার মতো অবস্থায় নেই। আবার অনেকে মনে করেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতা বড় ম্যাচে এখনও পর্তুগালের জন্য মূল্যবান সম্পদ।
উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ তাই শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, রোনাল্ডোর জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে চলেছে। মার্তিনেজ শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ অধিনায়কের ওপরই ভরসা রাখবেন, নাকি নতুন পথে হাঁটবেন— সেই উত্তর মিলবে ম্যাচের প্রথম এগারো ঘোষণার পরই।