এশিয়ান গেমসে ভারতের টেনিস দল ঘোষণা হতেই জ্বলে উঠল বিতর্কের আগুন, বিষ্ফোরক রোহন বোপান্না

Photo: X

এশিয়ান গেমসের আগে ভারতীয় টেনিসে বিতর্ক আরও বাড়ল। দেশের চূড়ান্ত দল থেকে পাঁচ খেলোয়াড়ের বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন প্রাক্তন টেনিস তারকা রোহন বোপান্না। তিনি যা বিবৃতি দিয়েছেন, তাকে বিস্ফোরক ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।

এশিয়াডের দল থেকে পাঁচ সম্ভাবনাময় টেনিস খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রাক্তন তারকা রোহন বোপান্না। এশিয়ান গেমসে জোড়া সোনাজয়ীর মতে, মাঠে নামার আগেই কাগজে-কলমে খেলোয়াড়দের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলা ঠিক হয়নি।

ক্ষুব্ধ বোপান্না বলেছেন, ‘বোর্ডরুমে বসে কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেটা ঠিক করে কোনও ক্রীড়াশক্তিধর দেশ বা ক্রীড়া অর্থনীতি তৈরি করা যায় না। যে কমিটি কখনও তাঁদের জায়গায় দাঁড়ায়নি, তারা কোর্টে বল পড়ার আগেই কাগজে-কলমে তাঁদের ভাগ্য ঠিক করে দিয়েছে’।


বোপান্নার এই বক্তব্যের আবার জবাবও দিয়েছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আইটিএফ বা চ্যালেঞ্জার সার্কিটই উপযুক্ত জায়গা, এশিয়ান গেমস নয়। সাই-এর এক কর্তা বলেন, ‘এক্সপোজার পাওয়ার জন্য বিদেশ সফর আইটিএফ এবং চ্যালেঞ্জার সার্কিটে হওয়া উচিত, এশিয়ান গেমসে নয়’।

এমনকি র‌্যাঙ্কিংয়ের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য ব্যতিক্রমী অনুমোদন দিলে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে সাই। কর্তা বলেছেন, ‘এশিয়ায় ২৫ থেকে ৪০ নম্বরে থাকা টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য গোপন বা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নষ্ট হবে এবং অন্যান্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাও আইনি পথে যেতে পারে’।

এশিয়াডের টেনিস দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মানস ধামনে, বৈষ্ণবী আডকর, সাহজা ইয়ামালাপল্লি, বৈদেহী চৌধুরী এবং প্রার্থনা থোম্বারে-দের। এঁদের মধ্যে সাহজা ভারতের এক নম্বর মহিলা সিঙ্গলস খেলোয়াড় এবং বৈষ্ণবী দু’নম্বরে। মানস মাত্র ১৮ বছর বয়সেই চ্যালেঞ্জার পর্যায়ের ফাইনালে উঠেছেন। বৈদেহী দু’বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। আর প্রার্থনা ২০১৪ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী।

এঁদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে সাই-এর এক কর্তা সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রকের কাছে ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা যে চূড়ান্ত তালিকা পাঠিয়েছিল, সেখানে তাঁদের নাম ছিল না। আসলে সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থা যে দীর্ঘ তালিকা পাঠিয়েছিল, সেখানেও তাঁদের নাম ছিল না’।

অর্থাৎ, টেনিস সংস্থা ১২ জনের যে দল চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সরকারি অনুমোদনে তা কমে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। বর্তমান দলে পুরুষদের সিঙ্গলসে রয়েছেন শুধু সুমিত নাগাল। রামকুমার রামনাথন, সাকেত মিনেনি ও ইউকি ভামব্রি ডাবলস দলে রয়েছেন। মহিলাদের দলে জায়গা পেয়েছেন রুতুজা ভোঁসলে এবং অঙ্কিতা রায়না।

ক্রীড়া মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী, এশিয়ান গেমসে সিঙ্গলস খেলতে হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে এশিয়ার প্রথম ছয়ের মধ্যে থাকতে হবে। ডাবলসের ক্ষেত্রে প্রয়োজন প্রথম আটে থাকা। ১২ মাসের পারফরম্যান্স ও র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাই-এর বক্তব্য, বাদ পড়া পাঁচ জন নির্ধারিত র‌্যাঙ্কিংয়ের মাপকাঠি পূরণ করতে পারেননি। পাশাপাশি তাঁদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও পদক জয়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাই তাঁদের এশিয়ান গেমসে পাঠানো যাচ্ছে না। এই যুক্তিতে টেনিস মহলে অনেকেই অবাক।

ফলে এশিয়ান গেমস যত এগিয়ে আসছে, ভারতের টেনিস দল নিয়ে বিতর্কও ততই তীব্র হচ্ছে। এক দিকে বোপান্নার মতো তারকারা চাইছেন তরুণদের বড় মঞ্চে সুযোগ দিতে, অন্য দিকে সাই বলছে— নির্দিষ্ট নির্বাচনী নিয়মের বাইরে গিয়ে আবেগের ভিত্তিতে দল বাছাই করা হবে না। শেষ পর্যন্ত পদক তালিকায় টেনিস থেকে কী কী পদক আসে, সেটাই দেখার।