দেশে বিশাল মূর্তি ঘিরে বিতর্ক, বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাও খেলতে পারেন মেসি

কলকাতার পর এ বার খোদ আর্জেন্টিনায় লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তি নিয়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়। ৮৫ ফুট উঁচু একটি বিশালাকৃতি মূর্তি উন্মোচনের পর তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে সম্মান জানাতেই এই স্মারক নির্মাণ করা হলেও, মূর্তিটির চেহারা দেখে অনেক সমর্থকই হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, মূর্তিটির সঙ্গে মেসির মুখের কোনও মিল নেই। মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলের কাট্রাল কো শহরে। প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু এবং প্রায় ৭০ টন ওজনের এই ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন স্থানীয় শিল্পী আলদো বেরোইসা। এতে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির বিখ্যাত সেলিব্রেশনের ভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। হাঁটু গেড়ে বসে এক হাত আকাশের দিকে তুলে ধরেছেন তিনি এবং তার এক হাতে রয়েছে জার্সি।

এই মূর্তি উন্মোচনের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মূর্তিটি মেসির মতো না হয়ে বরং অন্য কারও মতো দেখাচ্ছে। কেউ কেউ আবার এটিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বহুল আলোচিত ও সমালোচিত মূর্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এছাড়া মূর্তিটির নকশা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নিচের অংশের রঙ এবং বিশ্বকাপ ট্রফির অবস্থান নিয়ে অনেকেই অস্বস্তি ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ফলে যে শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এই ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন মূলত বিতর্ক এবং কটাক্ষের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে সমালোচনার মাঝেও মেসির প্রতি আর্জেন্টিনার ভালোবাসায় কোনও ভাটা পড়েনি। বিশ্বকাপে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং দেশের ফুটবল ইতিহাসে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই বিশাল স্মারক নির্মাণ করা হয়েছে। কাট্রাল কো শহর কর্তৃপক্ষের আশা, এই মূর্তি ভবিষ্যতে পর্যটকদেরও আকর্ষণ করবে এবং শহরটির পরিচিতি আরও বাড়াবে।

এদিকে, গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ৩২-এ উঠে পড়ায় শনিবার জর্ডানের বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যাচে পূর্ণশক্তির দল নামানোর পরিবর্তে স্কোয়াড রোটেশনের পথে হাঁটতে চলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। এমনকী, মেসিকেও বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাদের দুটি ম্যাচেই দলের পাঁচটি গোলই করেছেন মেসি। তবে নকআউট পর্বকে সামনে রেখে তাঁর ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে চাইছেন না স্কালোনি। ফলে জর্ডানের বিরুদ্ধে মেসির পরিবর্তে তরুণ নিকো পাজ-কে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে। সম্প্রতি পেশির চোট সারিয়ে মাঠে ফিরেছেন মেসি, তাই তাঁকে পুরোপুরি সতেজ রাখাই কোচিং স্টাফের প্রধান লক্ষ্য। রোটেশেনের পরিকল্পনা নিয়ে স্কালোনি বলেন, “ভাবনাটা হল দলের যত বেশি সম্ভব ফুটবলারকে খেলার সুযোগ দেওয়া। আমার মনে হয়, তারা সেই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। ম্যাচের পরিস্থিতি যদি আমাদের সেই সুযোগ দেয়, তাহলে আমরা অবশ্যই তা করব।”


চোট থেকে সেরে ওঠা একাধিক ফুটবলারও এই ম্যাচে বেশি সময় মাঠে থাকতে পারেন। স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ, লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকো এবং মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস-কে ম্যাচ ফিট করে তোলাই আর্জেন্টিনার অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোট পাওয়া ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর এই ম্যাচে না খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর জায়গায় অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি-কে দেখা যেতে পারে। চোট সারিয়ে ফেরার পর নিজের অবস্থা নিয়ে আলভারেস বলেন, “প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলার মতো অবস্থায় আমি ছিলাম না। কিন্তু এখন আমি খুব ভালো অনুভব করছি। আমাকে যে ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, সেটাই আমি পালন করছি।” নকআউটের আগে স্কোয়াডের প্রতিটি ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখাই এখন আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য। তাই জর্ডানের বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধু নিয়মরক্ষা নয়, বরং শেষ ৩২-এর আগে দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রস্তুত করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন স্কালোনি।