আজ মরসুমের প্রথম ডার্বি। যা নিয়ে শহরের ফুটবলমহল ক্রমশ তেতে উঠছে। শনিবার বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু বাঙালির চিরকালের প্রিয় এই ফুটবল দ্বৈরথ দেখতে শহরের বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে উত্তরবঙ্গ থেকেও বহু ফুটবলপ্রেমী ডার্বি দেখতে কলকাতায় ছুটে আসেন। আসেন ভিনরাজ্য থেকেও।
এখন অনলাইনে টিকিট কেনার সুবিধা হয়ে গিয়েছে বলে কলকাতার বাইরে থেকে এসে ডার্বি দেখার কোনো অসুবিধাও আর তেমন নেই। সম্প্রতি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও ডুরান কাপের আয়োজক কমিটির কর্তারা যে ঘোষণা করেছেন, তার পরে তো আরোই নয়। অনলাইনে টিকিট কিনে ম্যাচের আগে শহরে পা দিয়ে ম্যাচ দেখে আবার নিজের জায়গায় ফিরেও যেতে পারেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বা ইস্টবেঙ্গল এফসি-র সমর্থকেরা। কারণ, এখন আর আগের মতো টিকিটের হার্ডকপি নেওয়ার ব্যাপার নেই। মোবাইলে অনলাইন টিকিট দেখালেই প্রবেশ করা যাবে।
যদিও এই নিয়ে ধন্দ ছিল, ডুরান্ড কর্তৃপক্ষ আগে বলেছিলেন, কলকাতায় বাকি সব ম্যাচেই মোবাইলে টিকিট দেখিয়ে ঢোকা গেলেও ডার্বিতে তা করা যাবে না। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল থেকে যারা অনলাইনে টিকিট কিনবেন, তারা মোবাইলে থাকা টিকিট দেখিয়েই শনিবার মাঠে ঢুকতে পারবেন। অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যারা অনলাইনে টিকিট কেটেছেন, তাদের আগের নিয়মেই শুক্রবার টিকিটের হার্ডকপি সংগ্রহ করে তার পরেই মাঠে ঢুকতে হবে।
কিন্তু অনেকের অভিযোগ, শনিবার সকাল দশটায় যখন অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করা হয়, তখন দেখা যায় শুধুমাত্র বি১ ব্লকের কিছু টিকিট পড়ে রয়েছে এবং সেটি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত। অর্থাৎ, মোহনবাগান গ্যালারির কোনো টিকিটই শুক্রবার অনলাইনে কাটার কোনো উপায় ছিল না। তাই অনেকেরই প্রশ্ন, তা হলে ডার্বিতে পেপারলেস টিকিটের ঘোষণা কি শুধুই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য?
তবে খুশি নন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরাও। তাদেরও অভিযোগ রয়েছে। যে বি১ ব্লকের টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেই টিকিটও অনেকে ঠিকমতো কিনতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার সকাল দশটায় অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও মিনিট দশেক পর থেকেই দেখা যায় আর টিকিট কেনা যাচ্ছে না। তা হলে ডার্বিতেও এম টিকিটের ঘোষণা করে লাভটা কী হল? গুটিকয়েক লাল-হলুদ সমর্থক হয়তো এই সুবিধা পাবেন, কিন্তু বেশিরভাগই তা পাবেন না। ফলে কাল যুবভারতীর গেটে ঢুকতে গিয়ে কর্তব্যরত টিকিট সংস্থার কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের ঝামেলা বাধার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
এ ছাড়াও প্রশ্ন উঠেছে ডার্বিতে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মাত্র ৩০ হাজার বিক্রয়যোগ্য টিকিট বাজারে ছাড়া নিয়েও। ডার্বির মতো জনপ্রিয় ম্যাচ যেখানে যুবভারতীতে একসঙ্গে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বসে দেখতে পারেন, সেখানে মাত্র ৩০ হাজার টিকিট ছাড়া হল কেন? এই প্রশ্ন উঠছে। ডুরান্ড কর্তৃপক্ষ দু’দিন আগেই জানিয়েছেন, প্রতি ক্লাবকে ৫১০০টি করে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়া হবে। এছাড়াও সূত্র মারফৎ খবর পাওয়া যায়, দুই ক্লাবের সদস্যদের জন্য ৭৫০০টি করে বিক্রয়যোগ্য টিকিট দুই ক্লাবকে দেওয়া হবে। এগুলি দুই ক্লাব তাদের সদস্যদের দেবে।
অর্থাৎ, দুই ক্লাবকে ২৫২০০ টিকিট দিয়েছে ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটি। ৩০ হাজার টিকিট ছাড়া হয়েছে সাধারণ সমর্থকদের জন্য, যারা ক্লাবের সদস্য নন। এই ৫৫,২০০ টিকিটের হদিশ পাওয়া গেলেও বাকি দশ হাজার টিকিট কাদের দেওয়া হয় বা কাদের হাতে পৌঁছয়, তার কোনো হদিশ এখনো পাওয়া যায়নি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এই টিকিটগুলি সম্ভবত যায় ডুরান্ড কাপের আয়োজক সেনাবাহিনীর কর্তাদের কাছে এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রী, বিধায়ক, আমলা, কর্মীদের হাতে, যার বেশিরভাগটাই সম্ভবত আমন্ত্রণমূলক বা কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে দেওয়া হয়। সমর্থকদের বঞ্চিত করে এত টিকিট কেন কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে দেওয়া হয় এবং বিনা পয়সার টিকিট পেয়েও তারা সবাই মাঠে খেলা দেখতে আসেন কিনা, প্রশ্ন উঠছে এই নিয়েও।
যদিও আয়োজকেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাদের টুর্নামেন্টে কত টিকিট কাদের দেবে। এই নিয়ে অন্য কারো কিছু বলারই অধিকার নেই। কিন্তু আয়োজকেরা যেখানে বলছেন, তাঁরা এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন করতে চান, সেখানে কলকাতা ডার্বির মতো ম্যাচের প্রায় দশ হাজার টিকিট কেন নেতা-মন্ত্রী-আমলাদের হাতে বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তো উঠবেই।