অতীতের সাফল্য নয়, সেমিফাইনালে (Asia Cup semi-final) নামার আগে নতুন করে শুরু করতে চান শেফালি বর্মা (Shafali Verma)। বাংলাদেশকে হারানোর স্মৃতি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই ম্যাচের রানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে নারাজ ভারতের ওপেনার। তাঁর লক্ষ্য একটাই—শুরু থেকে পরিস্থিতি বুঝে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করা।
মহিলা এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে (Asia Cup semi-final) আজ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত। এখনও পর্যন্ত তিন ম্যাচে ১০৪ রান করেছেন শেফালি (Shafali Verma)। সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানার সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটি ভারতকে বেশ ভাল শুরু করতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এর আগের সাক্ষাতেও দুরন্ত ব্যাটিং করেছিলেন শেফালি(Shafali Verma)। ২০২৬ মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৪ বলে ৫৩ রান করে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন তিনি।
তবে সেই ইনিংসের কথা মাথায় রেখে বাড়তি আত্মবিশ্বাসে ভেসে যেতে চান না শেফালি(Shafali Verma)। তাঁর কথায়, ‘ব্যাটার হিসাবে যখনই ব্যাট করতে যাই, তখন শূন্য থেকেই শুরু করি। তবে ওই ইনিংস থেকে যে জিনিসটা পেয়েছি, সেটা হল আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাসটা সঙ্গে রাখব, কিন্তু আবার শূন্য থেকেই শুরু করব’।
বিশ্রামে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি
নকআউট পর্বের আগে প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়ও পেয়েছে ভারত। পাকিস্তানকে সাত উইকেটে হারানোর পর চার দিনের বিরতি ছিল। সেই সময় বিশ্রামের পাশাপাশি অনুশীলনও করেছেন হরমনপ্রীত কৌর-রা। শেফালি বলছেন, দল পুরোপুরি তৈরি।
‘আমাদের ভাল প্রস্তুতি হয়েছে। আমরা চার দিন বিরতি পেয়েছিলাম এবং সেই দিনগুলিতে ভাল ভাবে বিশ্রাম নিয়েছি, পাশাপাশি অনুশীলনও করেছি। তাই সেমিফাইনালের জন্য আমরা সবাই তৈরি,’ বলেছেন ভারতের মহিলা ক্রিকেট তারকা।
তবে ভারতের চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে মিডল অর্ডার। ওপেনিং জুটি ধারাবাহিকতা দেখালেও মিডল অর্ডারে এখনও প্রত্যাশিত স্থিরতা আসেনি। এই সমস্যা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সতীর্থদের নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন শেফালি। বিশেষ করে ফিনিশার ভারতী ফুলমালি এবং রিচা ঘোষের উপর তাঁর আস্থা অটুট।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”it” dir=”ltr”>Semi-Final Mode 🔛<a href=”https://x.com/hashtag/TeamIndia?src=hash&ref_src=twsrc%5Etfw”>#TeamIndia</a> | <a href=”https://x.com/hashtag/WomensAsiaCup?src=hash&ref_src=twsrc%5Etfw”>#WomensAsiaCup</a> <a href=”https://t.co/gpq61ewOD8″>pic.twitter.com/gpq61ewOD8</a></p>— BCCI Women (@BCCIWomen) <a href=”https://x.com/BCCIWomen/status/2097550881122390188?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 9, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
মিডল অর্ডারের চিন্তা দূর হবে?
‘কিছু দিন খারাপ যেতেই পারে। কিন্তু ওরা প্রত্যেকেই খুব ভাল খেলোয়াড়, খুব ভাল ব্যাটার। ভারতী এবং রিচার কথা বললে, ওরা খুব ভাল ফিনিশার এবং মিডল অর্ডারেও দারুণ কিছু করার ক্ষমতা রাখে। তাই আমি নিশ্চিত, ওরা আমাদের দলের জন্য ভাল খেলবে,’ বলেছেন শেফালি।
দুবাইয়ের পিচ নিয়েও বিশেষ দুশ্চিন্তা নেই ভারতীয় ওপেনারের। স্পিনারদের জন্য কিছুটা সাহায্য থাকা উইকেটকে ভারতের পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
বলেন, ‘অবশ্যই এখানকার পরিবেশ ভারতের মতোই। তাই আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি। উইকেটে কিছুটা টার্ন রয়েছে। সেটা মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুত। আমিও পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি। তাই মাঠে গিয়ে কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেব এবং উপভোগ করব’।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাই শুধু আগের ম্যাচের স্মৃতি নয়—শেফালির (Shafali Verma) কাছে আসল মন্ত্র ‘শূন্য থেকে শুরু’। সেমিফাইনালের চাপ যতই থাকুক, আত্মবিশ্বাসে ভর করেই নতুন ইনিংস শুরু করতে চান ভারতের তারকা ওপেনার।
দুই প্রতিবেশীরই কঠিন পরীক্ষা
সাত বারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত (Asia Cup semi-final)এ বারের প্রতিযোগিতায় এখনও হারেনি। থাইল্যান্ড, হংকং এবং পাকিস্তান—তিন প্রতিপক্ষকেই হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে হরমনপ্রীত কৌরের দল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৫ রানে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দিয়ে সাত উইকেটে জয় ভারতের দাপটেরই প্রমাণ। স্মৃতি মন্ধানার দুরন্ত শতরান এবং ধারাবাহিক বোলিং পারফরম্যান্সও ভারতকে ফেভারিট করে তুলেছে।
তবে নকআউটের ম্যাচে অতীতের হিসাব চলে না। ভারতীয় ব্যাটিং এখনও বড় চাপের মধ্যে খুব বেশি পরীক্ষা দেয়নি। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে ম্যাচটিকে যতটা সম্ভব কম রানের লড়াইয়ে নিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশের শক্তি মূলত বোলিং। দুবাইয়ের ধীরগতির উইকেটে স্পিনার নাহিদা আখতার এবং রাবেয়া খান ভারতীয় ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারেন। এই মাঠে রান করা সহজ নয়। এখনও পর্যন্ত ভারতের ব্যাটিং ইউনিটই নিয়মিত বড় রান তুলতে পেরেছে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় উইকেট আরও ধীর হয়ে উঠতে পারে। ফলে টস জিতে আগে ব্যাট করাই দু’দলের পছন্দ হতে পারে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং অবশ্য চিন্তার জায়গা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে এক সময় ৫৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়েছিল তারা। পরে শারমিন আখতার এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানার গুরুত্বপূর্ণ অবদানে পরিস্থিতি সামলায়। ভারতের বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণের সামনে তাই বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে আরও ধারাবাহিক হতে হবে।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে হরমনপ্রীতরাই
পরিসংখ্যানেও অনেকটাই এগিয়ে ভারত। দুই দলের ২৪টি ম্যাচের মধ্যে ২১টিতে জিতেছে ভারত, বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি। তবে শেষ বার বাংলাদেশই জিতেছিল। ২০২৩ সালে মিরপুরে চার উইকেটে ভারতকে হারিয়েছিল তারা। ফলে পুরনো সেই সাফল্যই আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে নিগারদের।
শেষ চারে তাই ভারত পরিষ্কার ফেভারিট হলেও, দুবাইয়ের ধীর উইকেট এবং বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ম্যাচের ছবিটা বদলে দিতে পারে। ফাইনালের টিকিট পেতে হরমনপ্রীতদের শুধু শক্তিশালী দল হওয়া নয়, চাপের মুহূর্তেও নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। ভারতীয় সময় রাত আটটা থেকে শুরু হবে এই ম্যাচ। সরাসরি সম্প্রচার দেথা যাবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের বিভিন্ন চ্যানেলে ও সোনি লিভ অ্যাপে।
দেখুন: পুজোয় বাংলা ছবির ব্যবসা নিয়ে আশাবাদী প্রসেনজিৎ, উঠল ৫০ কোটির প্রসঙ্গ