রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বার্ষিক সভা নিয়ে ফের তৈরি হচ্ছে জটিলতা, আদৌ সভা হবে তো?

Image: IANS

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা (CAB)-র বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়ে ফের জট পাকছে। যা অবস্থা, তাতে রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার এই সভা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গত মাসে যুগ্ম সচিব নির্বাচনের জন্য ডাকা বিশেষ সাধারণ সভায় যে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন একাধিক সদস্য, সেই একই বিষয় নিয়ে ফের তৈরি হচ্ছে জটিলতা। বিষয়টা হল, সভায় প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা। কারা ক্রিকেট সংস্থার সভায় যোগ দিতে পারেন এবং কারা পারেন না, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে দ্বিমত।

সংস্থার (CAB) সদস্যদের একাংশ বলছেন, যাদের বয়স ৭০ বছরের বেশি এবং যাঁরা এই সংস্থায় পদাধিকারী হিসেবে ন’বছর কাটিয়ে ফেলেছেন, তাঁরা সংস্থার সভায় (CAB) উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সভায় প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এ ছাড়াও আরো একাধিক শর্ত রয়েছে। কিন্তু এই দুই শর্ত নিয়েই প্রবল দ্বিমত দেখা দিয়েছে।


সংস্থার(CAB) এক গোষ্ঠি দাবি করছে, সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে এমনই এক নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে, যার ফলে সত্তরোর্ধ ও পদাধিকারী হিসেবে ন’বছর কাটিয়ে দেওয়া সদস্যেরা সিএবি (CAB)-র কোনো সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। কিন্তু আর এক পক্ষের দাবি, এমন কোনো নির্দেশিকা পাঠায়নি বোর্ড। তারা শুধু তাদের নিয়ম সিএবি-কে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম যে সিএবি-কে মানতেই হবে, এমন কোনো নির্দেশ তারা দেয়নি।

দুই গোষ্ঠির এই মত নিয়েই শুরু হয়েছে দ্বন্দ। গত মাসে যুগ্ম সচিব নির্বাচনের জন্য ডাকা বিশেষ সাধারণ সভাও ভেস্তে গিয়েছিল এই ইসুতেই। সেই সভার আগে ১৫টি জেলা সংস্থা ও দশটি ক্লাবের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে দাবি করা হয় লোধা নিয়ম মেনেই যেন সভার প্রতিনিধিদের সভায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এই নিয়মের বাইরে গিয়ে যেন কেউ সভায় উপস্থিত না থাকে।

আরও পড়ুন:  ‘শচীনকে খাটো করিনি’, কোহলিকে এগিয়ে রাখার মন্তব্যে সাফাই ডি ভিলিয়ার্সের

একই বয়ানের সেই চিঠি জমা পড়ার পরে সেই সভাই (CAB) হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বরেও এমনই কিছু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ফের সেই একই প্রশ্ন তুলে সভা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

গত মাসের সেই বিশেষ সভার পরে ডাকা এক জরুরি সভায় সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) সদস্যদের সাফ জানিয়ে দেন, বোর্ড লোধা আইন মেনে সভা করে বলে যে সিএবি-ও তা করতে বাধ্য নয়। গত সাত বছর ধরে সিএবি-র নিজস্ব নিয়মেই বিভিন্ন সভা হয়েছে। তখন কেন কেউ প্রশ্ন না তুলে এখন এই প্রশ্ন তুলছেন? কারো যদি এই নিয়ম নিয়ে আপত্তি থাকে, তা হলে তারা আদালতে যেতে পারেন।

এ বারও সেই একই বিষয়ে আপত্তি উঠলে কি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াবে?

এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে এ বার। সিএবি(CAB)-র শাসক গোষ্ঠির ঘনিষ্ঠরা অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, গত সাত বছর ধরে সিএবি-র সভাগুলিতে সত্তরোর্ধ ও ন’বছরের বেশি পদাধিকারী হিসেবে থাকা সদস্যরা যোগ দিয়ে নতুন পদাধিকারী বাছাই করার প্রক্রিয়ায় যখন অংশ নিয়েছেন তখন কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। হঠাৎ এখন কেন এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তাঁরা? উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই কি এখন এই বিষয়ে জট পাকিয়ে বার্ষিক সভা বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে?

আরও পড়ুন: দ্রাবিড়-শেহবাগের জেন জি প্রজন্ম এবার মাঠে নামবে একসাথে, দেশের হয়ে

এক বর্তমান পদাধিকারীর প্রশ্ন, ‘অন্যান্য রাজ্য সংস্থাগুলোতে খবর নিয়ে দেখুন, সেখানে লোধা নিয়ম মেনেই যে সভার প্রতিনিধি বাছাই করা হয়, তা নয়। এক্ষেত্রে বোর্ডের কোনো নির্দেশ নেই। কখনো ছিলও না। কারণ, রাজ্য সংস্থাগুলি ও বোর্ডের প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও সংবিধান এক নয়। একেকটি রাজ্য সংস্থার পরিকাঠামো একেক রকমের। তাই রাজ্য সংস্থাগুলিকে এই নিয়ম মানতে বাধ্য করে না বোর্ড। যারা এই দাবি করছে, তারা ভুল’।

সেপ্টেম্বরের এই বার্ষিক সভায় সিএবি (CAB)-র সচিব, যুগ্ম সচিব ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের এক সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কথা। সভা না হলে তাদের ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে হবে সিএবি (CAB)-কে। কিন্তু সত্যিই এই সভা বানচাল করে দিতে চাইছেন কি না কোনো কোনো সদস্য এবং এর পিছনে কারণই বা কী, এই প্রশ্নগুলিই উড়ে বেড়াচ্ছে বাংলার ক্রিকেটের আকাশে।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/LBZ6xQQLVe8?si=595OaQ78_i7veHVx” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>