প্রচুর গোলের সুযোগ এল। কিন্তু একটাও গোল এল না। দুই দল মিলিয়ে গোলের উদ্দেশে মোট ৩৬টি শট নিয়েছিল। কিন্তু একবারও বল জালে জড়াতে দেখা গেল না। ফলে প্রথম দুই ম্যাচে উজবেকিস্তান ও কঙ্গোকে হারানো কলম্বিয়া গ্রুপের শীর্ষস্থানেই রয়ে যায়। অন্যদিকে রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে পর্তুগাল। এই ম্যাচেও পুরো ৯০ মিনিট খেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তাঁর সঙ্গে আক্রমণে ছিলেন জোয়াও ফেলিক্স ও পেদ্রো নেতো। কিন্তু কেউই গোলের মুখ খুলতে পারেনি।
অন্য দিকে, ইতিহাস গড়ল কঙ্গো। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে উজবেকিস্তানকে ৩-১-এ হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল তারা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ইয়োয়ানে উইসা, আর একটি গোল করেন ফিস্টন মায়েলে। উজবেকিস্তানের হয়ে একটি গোল শোধ করেন এলডর শোমুরোদভ।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে-র শেষ ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ড্র করে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া। ম্যাচের শেষে সংযুক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে আলজেরিয়াকে এগিয়ে দেওয়ার পর যখন সবার মনে হচ্ছিল, তারাই নকআউটে উঠবে এবং অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান সেখানেই শেষ হবে, ঠিক তখনই, একেবারে শেষ মুহূর্তে সাশা কালাইজডজিচ সমতা ফেরান। তাঁর সেই গোলেই দুই দলই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। গ্রুপের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছিল গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রানার্স-আপ হিসেবে নকআউটে ওঠে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে, সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউটে ওঠে আলজেরিয়া।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে দেন মার্কো আরনাউটোভিচ। দীর্ঘ পাস ধরে ওসামা বেনবতের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে আলজেরিয়াও দ্রুতই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। প্রথমে ফারেস শাইবির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্নার ফ্ল্যাগে লেগে ফিরে আসা বলের নাগাল সবার আগে পান রিয়াদ মাহরেজ। তিনি দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন রাফিক বেলঘালির উদ্দেশে। বেলঘালি একের পর এক অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় গোল করে সমতা ফেরান।
রাউন্ড অফ ৩২-এর সূচি:
• দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা (২৯ জুন, রাত ১২.৩০, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম)
• ব্রাজিল বনাম জাপান (২৯ জুন, রাত ১০.৩০, হিউস্টন স্টেডিয়াম)
• জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে (৩০ জুন, রাত ২.০০, বোস্টন স্টেডিয়াম)
• নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো (৩০ জুন, সকাল ৬.৩০, এস্তাদিও মন্তেরে)
• আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে (৩০ জুন, রাত ১০.৩০, ডালাস স্টেডিয়াম)
• ফ্রান্স বনাম সুইডেন (১ জুলাই, রাত ২.৩০, নিউ জার্সি স্টেডিয়াম)
• মেক্সিকো বনাম ইকুয়েডর (১ জুলাই, ভোর ৬.৩০, মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম)
• ইংল্যান্ড বনাম বনাম কঙ্গো (১ জুলাই রাত ৯.৩০ আটালান্টা স্টেডিয়াম)
• বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল (২ জুলাই রাত ১.৩০, সিয়াটেল স্টেডিয়াম)
• যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (২ জুলাই, ভোর ৫.৩০, সান ফ্রান্সিসকো স্টেডিয়াম)
• স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া (৩ জুলাই রাত ১২.৩০, লস অ্যাঞ্জেলিস স্টেডিয়াম)
• পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া (৩ জুলাই ভোর ৪.৩০, টরন্টো স্টেডিয়াম)
• সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া (৩ জুলাই সকাল ৮.৩০, বিসি প্লেস ভ্যানকুভার)
• অস্ট্রেলিয়া বনাম মিশর (৩ জুলাই, রাত ১১.৩০, ডালাস স্টেডিয়াম)
• আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে (৪ জুলাই, ভোর ৩.৩০, মায়ামি স্টেডিয়াম)
• কলম্বিয়া বনাম ঘানা (৪ জুলাই সকাল ৭টা কানসাস সিটি স্টেডিয়াম)