উরুগুয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক ভারত, কোচ খালিদ বলছেন, ‘কোনো ভুল করা যাবে না, বড় মূল্য চোকাতে হতে পারে’

Sahil Shaw Photo-SNS

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চার গোলে হারের হতাশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মধ্যেই আবার প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সামনে ভারত। বিশ্রামের সময় কার্যত নেইই বলা চলে। ব্রাজিল ম্যাচের মাত্র দু’দিন পরেই নতুন পরীক্ষায় নামতে হচ্ছে ভারতীয় দলকে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে অজুহাত দিতে নারাজ ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল। তাঁর সাফ কথা, প্রথম মিনিট থেকে শেষ মিনিট পর্যন্ত মনঃসংযোগ ধরে রাখতে হবে। একটি ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মঙ্গলবার বিশ্বের ২০ নম্বর উরুগুয়ে বিরুদ্ধে নামছে ভারত। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার পর সম্প্রতি এশিয়া সফরে এসেছে দিয়েগো ফোরলানের দল। বিশ্বকাপে সোনার বল জয়ী ফোরলান সদ্য কোচ হিসেবে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এই সফরই উরুগুয়ের কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম। জাপানে তিন গোলে হারের পর কোরিয়াকে ৪-১-এ হারিয়েছে তারা।

এই উরুগুয়ে সম্পর্কে খালিদের মূল্যায়ন, ‘ওরা খুব শক্তিশালী দল। ওদের ভাল কোচ আছেন, ভালো ফুটবলারও রয়েছে। ওরা শেষ দুটো ম্যাচে ভাল খেলেছে। তাই আমাদের ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না। আমাদের জন্য খুব কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে এটা’।


ব্রাজিল ম্যাচের পর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় ছিল মাত্র দু’দিন। শারীরিক ভাবে ফুটবলারদের কতটা প্রস্তুত করা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খালিদ অবশ্য বলছেন, আধুনিক ফুটবলাররা নিজেদের শরীর সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাঁর কথায়, ‘দু’দিন পর খেলছি ঠিকই, তবে আমার মনে হয় ফুটবলারদের জন্য এই সময়টুকু যথেষ্ট। এখনকার ফুটবলাররা কী ভাবে দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে হয়, তা জানে। ওরা অনেক বেশি পরিণত এবং অভিজ্ঞ। তাই এ কোনও বড় সমস্যা হবে বলে মনে করি না’।

তবে ব্রাজিল ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে চান ভারতীয় কোচ। বিশেষ করে মনঃসংযোগের অভাব সংক্রান্ত সমস্যা। খালিদ বলেন, ‘গত ম্যাচে আমাদের মনঃসংযোগের অভাব হয়েছিল। এই ম্যাচে প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ভাল মনঃসংযোগ রাখতে হবে। নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমরা ভাল ফল করতে পারি’।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের অন্যতম সমস্যা ছিল ছোট ছোট ভুল। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি একেবারেই চান না খালিদ। তাঁর সতর্কবার্তা, ‘সবার আগে দ্রুত গোল খাওয়া চলবে না। আমরা খুব ভাল একটি দলের বিরুদ্ধে খেলছি। একটা ভুলের জন্য আমাদের খুব বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তাই কোনও ভাবেই ম্যাচটাকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না’।

বিশ্বের ২০ নম্বর হলেও উরুগুয়ে গত দশটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছে। তাদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার অভাবের কথা মনে করিয়ে দিলেও খালিদ জামিল প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যথেষ্ট সংযত।

বলেন, ‘ওরা ওদের শেষ ম্যাচে জিতেছে। তাই ওরা ভাল দল, যেমনটা আগেই বলেছি। ওদের অভিজ্ঞ কোচ রয়েছেন, যিনি আগে ভারতেও ছিলেন। ওদের ভাল মানের ফুটবলার রয়েছেন এবং প্রত্যেকেই ভাল লিগে খেলে। তাই এই ম্যাচটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন’।

 

উরুগুয়ের আক্রমণ এবং রক্ষণ—দুই বিভাগ নিয়েই সতর্ক ভারতীয় কোচ। তিনি বলেন, ‘আক্রমণ এবং রক্ষণ—দুই দিকেই ওদের অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে। ওদের কোচও অন্যতম সেরা। তাই সব দিক থেকেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে’।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হারের পর ভারতীয় ফুটবলারদের মানসিক অবস্থা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। ব্রাজিলের তারকাদের সঙ্গে অনেককেই ছবি তুলতে এবং বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে জার্সি বদল করতে দেখা যায়। ভারতীয় দলের ডিফেন্ডার আকাশ মিশ্র অবশ্য বলেন, ৪-০ হারের পরে তাঁর নিজেরই মন ভালো ছিল না। বলেন, ‘আমরা খুব খারাপ হেরেছি। আমরা চার গোলে হেরেছি, তাই ভাল লাগছিল না। আমার মনে আমার সতীর্থরাও ভেবেছিল, পারফরম্যান্সটা আরও ভাল হতে পারত। আমরা কিছু খুব সাধারণ ভুল করেছি’।

তবে সেই হতাশা আঁকড়ে পড়ে থাকার সময় এখন নয়। খালিদের বার্তা, সামনে তাকাতে হবে। বলেন, ‘এই মুহূর্তে অন্য কিছু নিয়ে বেশি ভাবার সময় আমাদের হাতে নেই। আগামীকালই ম্যাচ। এই ম্যাচে কী ভাবে আরও ভাল করা যায়, সেটা ভাবাই আমাদের পক্ষে এখন ভালো’।

উরুগুয়ের বিরুদ্ধে কৌশল নিয়েও আগাম কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চাননি খালিদ। পরিস্থিতি অনুযায়ী আক্রমণাত্মক হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘যদি আক্রমণ করার প্রয়োজন হয়, আমরা আক্রমণ করব। পরিস্থিতি অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’।

ব্রাজিল ম্যাচের ভুল নয়, সেই ম্যাচের শিক্ষা নিয়েই উরুগুয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু করতে চাইছে ভারত। খালিদের কাছে এই ম্যাচ শুধু ফলের লড়াই নয়, ভবিষ্যতের দল তৈরিরও পরীক্ষা। তাঁর কথায়, ‘ভালো ফলাফল আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, সেটা প্রয়োজন। পাশাপাশি আমাদের একটি শক্তিশালী দলও তৈরি করতে হবে। তাই শুধু একটা বিষয় নিয়ে ভাবলে হবে না। ভবিষ্যতের কথাও মাথায় রাখতে হবে’।

এরকম হাই প্রোফাইল দলের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে দীর্ঘ শিবিরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভারতীয় কোচ বলেন, ‘আসলে বিষয়টা হল, আমরা যত বেশি দিন একসঙ্গে খেলব, ততই আমাদের পক্ষে ভালো। নিজেদের কৌশল এবং খেলার ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই শিবির যত দীর্ঘ হবে, জাতীয় দলের পক্ষে ততই ভাল হবে’।

দু’দিনের ব্যবধানে বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ— কঠিন পরীক্ষা নিশ্চিত। কিন্তু খালিদের বার্তা পরিষ্কার, অজুহাত নয়, লড়াই চাই। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের সেই লড়াইয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে চলেছে মনঃসংযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং ভুল না করার মানসিকতা।

এই তিন লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন কি না ভারতীয় ফুটবলাররা, তা তো সময়ই বলবে। তবে পারলে যে ব্রাজিল ম্যাচের থেকেও কড়া চ্যালেঞ্জ তারা ছুঁড়ে দিতে পারবে উরুগুয়েকে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।