বিশ্বকাপ অভিযানে যে এমবাপেই তাদের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র, তা বুঝিয়ে দিলেন কোচ দেশঁ

আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শুরুটা দুর্দান্ত ভাবে করেছে ২০১৮-র বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সও। মঙ্গলবার গ্রুপ ‘আই’-এ সেনেগালকে ৩-১-এ হারিয়ে দারুন সূচনা করে ফরাসি দল। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন নীল-বাহিনীর অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।

ম্যাচের পর ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশঁ তাঁর দলের সেরা তারকাকে নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। শুধু এমবাপের গোল নিয়েই কথা বলেননি তিনি, বরং তার নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ ও মানসিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন ফরাসি কোচ।

এমবাপের এই জোড়া গোলে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪। এর ফলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলার-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন। তবে দেশঁ মনে করেন, এই জয়কে শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।


ম্যাচের পর দেশঁ বলেন, ‘প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ সব সময়ই স্পেশ্যাল। প্রথমার্ধে আমরা টেকনিকে অনেক বেশি ভুল করেছি এবং কিছুটা কুঁকড়ে ছিলাম। তবে প্রথম ম্যাচে এমনটা হতেই পারে।’

এমবাপ্পে, ওসুমানে দেম্বেলে, মাইকেল ওলিজ এবং দেজিরে দুয়ে-কে নিয়ে তারকাখচিত আক্রমণ বিভাগ নামালেও প্রথমার্ধে ফ্রান্স খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং সেনেগালই কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে দলের উন্নতির পেছনে মাইকেল ওলিজের অবস্থান পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দেশঁ। তিনি বলেন, “মাইকেল যখন আরও মাঝমাঠ জুড়ে খেলতে শুরু করে, তখন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হয় এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের খেলা আরও সাবলীল হয়ে ওঠে।”
সম্প্রতি এমবাপেকে নিয়ে তাঁর ‘অতিরিক্ত স্বার্থপর’ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন ফরাসি কোচ। দেশঁর ভাষায়, “সে শুধু মাঠে অধিনায়ক নয়, মাঠের বাইরেও একজন নেতা। বাইরের মানুষ ভাবতে পারে সে স্বার্থপর, কিন্তু দলের জন্য সে অনেক কিছু করে।”

এ দিন প্রথমার্ধে এমবাপে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না, সেটি স্বীকার করেও তার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার প্রশংসা করেন দেশঁ। তিনি বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যার নিজেকে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী সে। দলের অন্যদের মতো সেও প্রথমার্ধে কিছু টেকনিকে ভুল করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নিজের ছন্দ খুঁজে পায়।’

অনায়াসে জয় পেলেও আত্মতুষ্ট হতে নারাজ ফরাসি কোচ। দলের খেলায় ভুল, কৌশলগত ভারসাম্য এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের চাপের বিষয়গুলো তুলে ধরেই তিনি সতর্কবার্তা দেন। দেশঁ বলেন, ‘একটা ম্যাচ জিতে কিছু হবে না। আমাদের এখনও আরেকটা ম্যাচ জিততে হবে এবং আমরা কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেব না।’

গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২২ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ইরাকের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এ দিন বোস্টনে এই গ্রুপেরই অপর ম্যাচে ইরাককে নরওয়ে হারায় ৪-১-এ। নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ড জোড়া গোল করেন।

প্রথমে ২৯ মিনিটের মাথায় তিনি দলকে এগিয়ে দেন। তবে এর দশ মিনিট পরেই ইরাকের আয়মেন হুসেন সেই গোল শোধ করে দেন। ৪৩ মিনিটের মাথায় অবশ্য হালান্ড তাঁর দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ফের বাড়িয়ে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে ৭৬ মিনিটের মাথায় লিও অস্টিগার্ড ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন। ম্যাচের শেষে সংযুক্ত সময়ের ছ’মিনিটের মাথায় আয়মেন হুসেন নিজ গোল করে বিপক্ষকে আরও বড় ব্যবধান প্রায় ‘উপহার’ দেন।