চলতি বছর কোনওরকমে আইএসএল আয়োজন করা হলেও আগামী মরসুম থেকে কি হবে দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগের ভবিষ্যৎ? তা নিয়েই এখনও অনিশ্চিত ক্লাবগুলি। এই প্রেক্ষিতে কিছুদিন আগেই ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামি জানিয়েছিল, আইএসএল নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা না পেলে আগামী মরসুমের জন্য দল গঠনের কাজ শুরু করবে না তারা। প্রায় একই পথেই হাঁটতে চলেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এদিকে আইএসএলও প্রায় শেষের মুখে। আর এই পরিস্থিতিতেই ফের একবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিল আইএসএলের ক্লাবগুলি। সেখানে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী মরসুম থেকে লিগ পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতেই নিতে চায় তারা। এক্ষেত্রে শুধু আইএসএল আয়োজনই নয়, বাণিজ্যিক দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ক্লাবগুলি।
এদিন ফেডারেশনকে পাঠানো চিঠিতে ক্লাবগুলি জানিয়েছে, চলতি মরসুমে ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা বুঝতে পেরেছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই ভবিষ্যতে লিগ পরিচালনা ও বাণিজ্যিকীকরণের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি সম্প্রচারের জন্য প্রাথমিকভাবে যে জিনিয়াস স্পোর্টসের নাম আলোচনায় উঠে আসছে, তাদের তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী হিসেবে রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই চিঠিতে।
জানা গিয়েছে, জিনিয়াস স্পোর্টস আইএসএল পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহী হলেও ক্লাবগুলির প্রাপ্য লভ্যাংশের কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলির মতে, মাঠপর্যায়ের নানা কাজে সরাসরি সক্রিয় থাকলে আয়োজনের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। আর এক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার পক্ষে সেই কাজ কার্যকর করা কঠিন বলেই মনে করছে তারা।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ বছরের লিগ পরিচালনার ফলে ক্লাবগুলির কিছু অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। যাতায়াত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, লজিস্টিকস ও অন্যান্য খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে তারা এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। সেজন্য ফেডারেশনকে ক্লাবগুলি আশ্বাস দিয়েছে, তাদের হাতে দায়িত্ব পেলে আইএসএল আয়োজনের মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, এই চিঠিতে সই করেনি ইস্টবেঙ্গল।
চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছে ফেডারেশন। তাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ফেডারেশনের সংবিধান, কর্মসমিতি ও সাধারণ সমিতির মতামত মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।