ন’গোল দিয়ে ও মাত্র এক গোল খেয়ে আইএসএলের প্রথম দুই ম্যাচে জেতার পর তৃতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেল ইস্টবেঙ্গল এফসি। শনিবার রাতে চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধেও তারা তিন গোল করল ঠিকই। কিন্তু লিগ টেবলের ১২ নম্বরে থাকা প্রতিপক্ষের দেওয়া পাঁচ গোল হজমও করল। ৩-৫-এ হেরে আন্তর্জাতিক বিরতির আগে শেষ ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়ে শহরে ফিরছে লাল-হলুদ বাহিনী। অর্থাৎ, গতবারের চ্যাম্পিয়নরা তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলের ছয় নম্বরেই থেকে গেল।
এ দিন আগাগোড়া ইস্টবেঙ্গল বেশ খারাপ খেলে। গোছানো ফুটবল বলতে যা বোঝায়, তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা। এবং এর খেসারত তাদের দিতে হয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ ও ইরফান ইয়াডওয়াডের জোড়া গোল তাদের মানসিকভাবেও অনেকটা পিছিয়ে দেয়। ইস্টবেঙ্গলের আকে লোবা, দানি রামিরেজ ও ডেভিড লালনসাঙ্গা গোল করেন।
এ দিন চার মিনিটের মধ্যেই গোল দিয়ে ম্যাচ শুরু করে চেন্নাইন এফসি। ইরফান ইয়াডওয়াডের অ্যাসিস্টে বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ। ১৮ মিনিটের মাথায় বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া ব্রাইসনেরই শটে করা গোলেই ব্যবধান বাড়ায় চেন্নাইন এফসি। এ বার তাঁকে গোলের পাস বাড়ান ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা মাদি তালাল।
দু’গোল খেয়ে সেগুলি শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল এবং ২৯ মিনিটের মাথায় দানি রামিরেজের পাস থেকে গোল করে এক গোল শোধ করেন আকে লোবা। তবে এই গোলের ১১ মিনিটের মধ্যেই চেন্নাইনকে ফের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ করে দেন জিকসন সিং।
নিজেদের বক্সে গোলমুখী ব্রাইসনকে অবৈধ ভাবে বাধা দিয়ে যেমন হলুদ কার্ড দেখেন জিকসন, তেমনই প্রতিপক্ষকে পেনাল্টিও উপহার দেন তিনি। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ফের ব্যবধান ৩-১ করে নেন রামোন টাঙ্ক। এই অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর খেলা শুরু হতেই ফের ব্যবধান কমায় ইস্টবেঙ্গল। সেই সুযোগ তাদের করে দেয় চেন্নাইন এফসি-ই। সহিফ মুহাম্মদ নিজেদের বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করায় পেনাল্টি আদায় করে নেয় লাল-হলুদ বাহিনী। সেই পেনাল্টি থেকে দলের দ্বিতীয় গোল করেন রামিরেজ।
স্কোর ৩-২ হওয়ার পর সমতা আনার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু পাল্টা আক্রমণে ঘন ঘন উঠছিল চেন্নাইন, যা প্রায়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এমনই এক আক্রমণে ৫৯ মিনিটের মাথায় গোল করে ফের দু’গোলের ব্যবধান তৈরি করে ফেলেন ইরফান ইয়াডওয়াড। লালরিয়াতপুইয়া ছংথুর অ্যাসিস্টে এই গোল করার আট মিনিট পর ফের গোল করেন ইরফান।
মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে রামোন টাঙ্কে ইস্টবেঙ্গলের বক্সের সামনে থেকে কোণাকুনি বল বাড়ান বক্সের মধ্যে ডানদিকে থাকা ইরফানকে। কার্যত অরক্ষিত ইরফানের গোলে বল ঠেলতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। এরপর জিকসন, রামিরেজ, সন্দীপ মান্ডিরা গোল শোধ করার চেষ্টা করলেও গোলের মুখ আর খুলতে পারেননি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডার ও গোলকিপারকে ধোঁকা দিয়ে গোল দিয়ে আসেন ডেভিড লালনসাঙ্গা। এটিই ছিল দলের তৃতীয় ও শেষ গোল।