১৬ বছর পর আইপিএলে ফিরছেন চামিন্ডা ভাস, দিল্লি ক্যাপিটালসের পেস বোলিং কোচ শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি

Chaminda Vaas Photo-SNS

এক সময়ে নতুন বলে তাঁর সুইং সামলাতে হিমশিম খেতেন বিশ্বের তাবড় ব্যাটারেরা। এ বার সেই অভিজ্ঞতাই তরুণ পেসারদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান চামিন্ডা ভাস। ২০২৭ আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের পেস বোলিং কোচ নিযুক্ত হলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন বাঁহাতি পেসার। শনিবার সমাজমাধ্যমে তাঁর নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজি।

দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচিং বিভাগে এ বার একাধিক বড় নাম। প্রধান কোচের দায়িত্বে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ব্যাটিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন যুবরাজ সিং। তাঁদের সঙ্গে এ বার কাজ করবেন ভাস। এর আগে দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলেছেন মুনাফ পটেল। তাঁর জায়গাতেই এলেন শ্রীলঙ্কার এই কিংবদন্তি।

ভাসের নিয়োগের কথা ঘোষণা করে দিল্লি ক্যাপিটালস সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, ‘বিশ্বকাপজয়ী এবং শ্রীলঙ্কার সর্বকালের অন্যতম সেরা। কোচ, টাইগারদের দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগত!’


১৯৯৬-এর বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ভাস। নতুন বলে সুইং করানোর ক্ষমতা, নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কার্যকর বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা দিল্লির বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করছে ফ্র্যাঞ্চাইজি।

আইপিএলের প্রথম তিন মরসুমে, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত, ডেকান চার্জার্সের হয়ে খেলেছিলেন ভাস। তবে সেই সময়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি তিনি। আইপিএলে মোট ১৩টি ম্যাচ খেলে ১৮টি উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। ২০০৯ সালে ডেকান চার্জার্সের আইপিএলজয়ী দলের সদস্যও ছিলেন তিনি।

 

এ বার অবশ্য ক্রিকেটার হিসেবে নয়, কোচের ভূমিকায় আইপিএলে ফিরছেন ভাস। ২০১০ সালের পরে এই প্রথম আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ, প্রায় ১৬ বছর পর দেশের বাইরে এই প্রতিযোগিতায় নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে।

শুধু ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, কোচ হিসেবেও যথেষ্ট অভিজ্ঞ ভাস। ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের বোলিং কোচ ছিলেন তিনি। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বোলিং কোচের দায়িত্বও সামলেছেন। পরে আবার শ্রীলঙ্কার কোচিং বিভাগে ফিরেছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দীর্ঘ দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ভাস। ১১১টি টেস্টে তাঁর উইকেটের সংখ্যা ৩৫৫। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪০০টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। বাঁহাতি পেসার হিসেবে নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি পুরনো বলেও কার্যকর বোলিং করতে পারতেন ভাস।

১৯৯৬-র বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। সেই দলের সাফল্যের পরে বিশ্ব ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার পরিচিতি আরও বেড়েছিল। ভাসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের হাত ধরে দিল্লির তরুণ পেসারেরা উপকৃত হবেন বলেই আশা।

আইপিএলে এখনও পর্যন্ত এক বারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি দিল্লি ক্যাপিটালস। ২০২০ সালে এক বার ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পারেনি তারা। গত দু’টি মরসুমে প্লে-অফেও জায়গা হয়নি দিল্লির।

সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে আগামী মরসুমে নতুন ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে ফ্র্যাঞ্চাইজি।
তাই কোচিং বিভাগে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সৌরভ, যুবরাজ এবং ভাসের মতো প্রাক্তন তারকাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রথম আইপিএল ট্রফি জেতাই দিল্লির লক্ষ্য।