আজ দুপুর থেকেই অনলাইনে পাওয়া যাবে কলকাতা ফুটবল লিগের আসন্ন ডার্বির টিকিট। আগামী সোমবার এই ম্যাচ হবে বিকেল পাঁচটা থেকে। বারাসাত স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের জন্য উত্তেজিত স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরাও। তবে এই ম্যাচ নিয়ে দুই পক্ষই কতটা সিরিয়াস, তা নিয়ে অবশ্য কিছুটা হলেও সন্দেহ রয়েছে।
আইএফএ জানিয়েছে ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট যে অ্যাপে বা ওয়েবসাইটে পাওয়া গিয়েছে, সেই ডিস্ট্রিক্ট অ্যাপেই পাওয়া যাবে ডার্বির টিকিটও, যার সবচেয়ে কম দাম দেড়শো টাকা। তবে সোমবার, কাজের দিন বিকেলে বারাসতে গিয়ে কতজন এই গুরুত্বহীন ডার্বি দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করবে, তা নিয়ে অবশ্যই সন্দেহ রয়েছে।
যদিও বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের দর্শকাসন কম। তাই গ্যালারি কানায় কানায় ভরে যাবে, এমনই আশা আয়োজকদের। তবে টিকিট বিক্রি শুরু না হলে সেটা স্পষ্ট ভাবে বোঝা কঠিন।
দুই দলই যেহেতু সুপার সিক্সে জায়গা পাকা করে নিয়েছে, তাই এই ডার্বি দুই ক্লাবের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এই ম্যাচকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা সিনিয়র দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারকেও এই ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে ইস্টবেঙ্গল তাদের সিনিয়র ফুটবলারদের এই ম্যাচে নামাতে চায় না বলেই জানা গিয়েছে।
এতদিন যে ফুটবলাররা কলকাতা লিগের ম্যাচগুলি খেলে আসছেন, তাদেরই ডার্বিতে নামার সুযোগ দিতে চান ইস্টবেঙ্গলের এই দলের কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস। এই ব্যাপারে তাদের হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসই সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্চিষ্মান। তাঁর মতে, যথেষ্ট দাপট নিয়েই যখন ইস্টবেঙ্গলের এই দল সুপার সিক্সে জায়গা করে নিতে পেরেছে, তখন তাঁদেরই ডার্বিতে নামানো উচিত।
বরং এই দল যদি মোহনবাগানকে সোমবার হারাতে পারে, তাহলে এই দলের কয়েকজন প্রতিশ্রুতিবান ফুটবলারকে হাবাস তাঁর অনুশীলনে ডাকতে পারেন, এমন আভাসও নাকি দিয়েছেন। সেই কারণেই ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা ডার্বি নিয়ে বেশ তেতে রয়েছেন। কারণ, তাঁরা বুঝতে পারছেন, এটাই হাবাসের চোখে পড়ার সেরা মঞ্চ। এই মঞ্চে নিজেদের উজাড় করে দিতে চান তাঁরা।
কেন হাবাসকে চাণক্য বলা হয়, তার প্রমাণ এই ঘটনা থেকেই পাওয়া যায়। জেসিন টিকে-ক গোড়ালির চোট। তাই তিনি হয়তো এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবে বাকি সবাই ফিট ও ডার্বিতে নামার জন্য মরিয়া।
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম। তাদের বেশ কয়েকজন সিনিয়র দলের ফুটবলারকে কলকাতা ফুটবল লিগে নিথভুক্ত করানো হয়েছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন সহাল আব্দুল সামাদ, মনবীর সিং, আপুইয়া, লিস্টন কোলাসো, বিশাল কয়েথ, রাহুল ভেকে-রা। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হারের বদলা নিতেই কি এই পন্থা ক্লাবের? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর অবশ্য জানা যায়নি।
তবে তাদের গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিমপেরিস নাকি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, আইএফএ শিল্ড ও আইএসএলের আগে যাতে সিনিয়রদের আরো চাপের পরিস্থিতিতে মাঠে নামিয়ে পরখ করা যায়, সে জন্যই তাদের এই কৌশল। কোচ প্যানোস নাকি বলেছেন, তাঁর দলের খেলোয়াড়রা এখনও মানসিক শক্তির দিক থেকে ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। ডুরান্ড কাপ ফাইনালের আগেও তিনি বলেছিলেন, যাদের মানসিক শক্তি বেশি, তারাই ডার্বি জিতবে। ফাইনালের পরে অবশ্য আর সাংবাদিক বৈঠকে আসেননি তিনি।
আপাতত সোমবারের মহারণের অপেক্ষায় দুই দলের সমর্থকেরা। কোন দল কতটা শক্তিশালী দল নামিয়েছে, তা ম্যাচ শুরু হলেই বোঝা যাবে। তবে দুই দলেরই সমর্থকদের একটাই চাহিদা, এবং তা হল ডার্বি-জয়।