ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের অন্ধকার যেন কাটছেই না। একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থতা। এ বার চেলসির কাছে ০-২ গোলে হেরে আরও চাপে ম্যান ইউয়ের কোচ মাইকেল ক্যারিক। দলের টানা ব্যর্থতার সঙ্গে যোগ হয়েছে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের লাল কার্ড। হারল ম্যান সিটিও। সব মিলিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দুই ক্লাবের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রথমার্ধে লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভেঙে পড়ে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে দুরন্ত গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন মর্গ্যান রজার্স। এর পর ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান কোল পামার।
কর্নার থেকে ওঠা বলে ওয়েসলি ফোফানাকে লাফিয়ে উঠে কনুই দিয়ে আঘাত করেন মার্তিনেস। ভিডিও পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। চার মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারকে। পামার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি।
*ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন*
এই হারের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ন’টি ম্যাচ জয়হীন থাকল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৮৮-র পর এই প্রথম এত দীর্ঘ সময় জয়হীন থাকার নজির গড়ল তারা। লিগে ন’টি ম্যাচ খেলে জয় মাত্র একটিতে। অবনমন অঞ্চলের ঠিক এক পয়েন্ট উপরে রয়েছে তারা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, এই রাউন্ডের বাকি ম্যাচগুলির ফলের উপর নির্ভর করে অবনমন অঞ্চলেও ঢুকে পড়তে পারে ২০ বারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের পর ক্যারিক বলেন, ‘অনেক কিছুই আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে। এবং সেটা বড়সড় ভাবেই। খুব দ্রুত পরিস্থিতি আমাদের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে।’
মার্তিনেসের লাল কার্ড নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘ম্যাচের উপর এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা ছিল বিরাট একটা ধাক্কা।’
তবে দলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা আশাবাদী ক্যারিক। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের সেরা প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ছিল। আমরা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলাম, খেলার মধ্যে ছন্দ ছিল। আমাদের দেখে একটা ভাল দল বলেই মনে হচ্ছিল।’
তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে রোমার বিরুদ্ধে পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের আগে দায়িত্ব ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি ক্যারিক।
হার ম্যাঞ্চেস্টার সিটিরও
শনিবারটা ভাল গেল না ম্যাঞ্চেস্টারের অন্য ক্লাবেরও। ঘরের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ০-১ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইয়াসিন আয়রির ১১ মিনিটের গোলে জয় তুলে নেয় ব্রাইটন।
এই হারের ফলে লিগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল সিটি। এর আগে অ্যাস্টন ভিলার কাছেও ১-২ গোলে হেরেছিল তারা। মরসুমের শুরুতে টানা সাতটি ম্যাচ জিতে দুরন্ত ছন্দে ছিল সিটি। সেই ছন্দ আপাতত পতনের দিকে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, আর্লিং হালান্ডের গোলের ধারাও থেমে গেল। আগের সাতটি লিগ ম্যাচে পর পর গোল করেছিলেন নরওয়ের স্ট্রাইকার। কিন্তু ব্রাইটনের বিরুদ্ধে গোল করতে পারলেন না।
সিটি কোচ এনজো মারেস্কা বলেন, ‘আমরা জানতাম, সব ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। এই ধরনের সময় আসবেই। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব আবার জয়ের পথে ফিরতে হবে।’
এই জয়ের ফলে ব্রাইটন উঠে এসেছে লিগের তৃতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা দলের থেকে তাদের ব্যবধান মাত্র দুই পয়েন্ট। অন্য দিকে, রবিবার লিভারপুলের বিরুদ্ধে জিতলে বা ড্র করলেও শীর্ষে ওঠার সুযোগ থাকবে আর্সেনালের।
জিতে চলেছে বোর্নমাউথ, টটেনহ্যাম
এ দিন আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে বোর্নমাউথ ও টটেনহ্যাম হটস্পার। লিডস ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বোর্নমাউথ। টানা ছ’টি ম্যাচ জিতল তারা। এই ছ’টি ম্যাচে একটিও গোল হজম করেনি বোর্নমাউথ। লিগের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে তারা। অন্য দিকে, ১০ জনের ক্রিস্টাল প্যালেসকে ২-০-য় হারিয়েছে টটেনহ্যাম। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জঁ-ফিলিপ মাতেতা। তার পর আর্চি গ্রে ও জান পল ফান হেকে গোল করে টটেনহ্যামের জয় নিশ্চিত করেন। টানা তৃতীয় জয় পেল তারা।
সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ে এক দিকে যেমন চেলসি ও ব্রাইটনের উত্থান, অন্য দিকে তেমনই গভীর সংকটে ম্যাঞ্চেস্টারের দুই প্রধান ক্লাব। বিশেষ করে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন প্রশ্ন আরও জোরালো।