কলকাতা দলের সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা নিতে চান অধিনায়ক রাহানে

কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে খুবই করুণ অবস্থা। আইপিএল ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত কলকাতা দলের কোনও জয় নেই। এমনকি গত বৃহস্পতিবার ইডেন উদ্যানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার স্বীকার করতে হয়েছে অজিঙ্কা রাহানেদের। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে কলকাতা দল গঠন করা হয়েছে, কিন্তু কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তার কোনও হদিশ নেই। একটা ম্যাচে কোনওক্রমে ১ পয়েন্ট এসেছে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায়। তা না হলে হারের হ্যাটট্রিকে কলকাতাকে নাম লেখাতে হত। কলকাতা দলকে মুম্বাই, হায়দরাবাদ ও লখনউ সুপার জায়ান্টস উড়িয়ে দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে। তাই কলকাতা দলের সমর্থকরা হতাশায় দিন গুণছেন। কলকাতা দলে বাংলার কোনও ক্রিকেটার নেই। একটা সময় বাংলার উঠতি খেলোয়াড়রা কলকাতা দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। তারপরে সেরা খেলোয়াড়দের দলে নিয়েও অধিনায়কের ব্যাটনটা কার হাতে দেওয়া উচিত, হয়তো সেটাও মেন্টর বা কোচ ঠিকমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। শ্রেয়স আইয়ারের মতো ক্রিকেটার যখন কলকাতা দলের অধিনায়ক ছিলেন, তখন তিনি খেতাব তুলে দিয়েছিলেন কলকাতা দলকে। তারপরে কী কারণে শ্রেয়সকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তার কোনও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরপর দু’বছর অজিঙ্কা রাহানে কলকাতা দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরেও দলের সুনাম রক্ষা করতে পারছেন না। সেই অর্থে খেলোয়াড়রা ব্যর্থতার তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। মাঝেমধ্যে হয়তো অজিঙ্কা রাহানে রান পাচ্ছেন। আর কোনও সময় অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর ব্যাট থেকে রান আসে। প্রথম তিনটি ম্যাচে বিদেশি খেলোয়াড়রা সেই অর্থে রান পাননি। তবে গত ম্যাচে লখনউয়ের বিরুদ্ধে ক্যামেরন গ্রিন ও রভম্যান পাওয়েল রান পেয়েছেন। পাশাপাশি এটাও বলতে পারা যায়, ১৫ ওভারের পরে যেভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলা উচিত, তা কখনওই বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না কলকাতা দলে। যে কৌশলে বা অঙ্কে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কলকাতা দলকে খেলা উচিত, সেখানেও হয়তো কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। রাচিন রবীন্দ্রর মতো খেলোয়াড়কে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। ম্যানেজমেন্ট উমরান মালিককে ব্যবহার করছে না। দলের ফিল্ডিং এবং বোলিং ব্রিগেডও চোখে পড়ার মতো নয়। সেই কারণেই সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানেকে। দলের সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, তার উত্তর খুঁজতে হয়তো অধিনায়ক রাহানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইবেন।