মহিলাদের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচেই থাইল্যান্ডকে ৯৪ রানে হারিয়ে ভারতের শুরুটা হল দাপটের সঙ্গে। রবিবার রাতে শেফালি বর্মার ঝোড়ো ৬৪ রানের পর বল হাতে রেকর্ড গড়েন দীপ্তি শর্মা। ১৫০তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেমে মাত্র সাত বল করে তিন উইকেট নেন দীপ্তি, তাও কোনও রান খরচ না করেই। ফলে থাইল্যান্ডের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ৬৫ রানেই।
তবে এত বড় জয়েও পুরোপুরি খুশি নন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। বরং ব্যাটিংয়ে ধস নিয়ে দলকে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর বার্তা, এশিয়া কাপে কোনও প্রতিপক্ষকেই হালকা ভাবে নেওয়ার জায়গা নেই।
ম্যাচের পর হরমনপ্রীত বলেন, ‘ব্যাট হাতে শুরুটা ভাল হয়েছিল। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য ম্যাচটা ভালই হয়েছে। নতুন বল ব্যাটে সুন্দর ভাবে আসছিল। কিন্তু তার পরে বল একটু থমকে আসছিল’।
ভারতের ইনিংস অবশ্য শুরুতে যে গতিতে এগোচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। শেফালি ৩৬ বলে ৬৪ রান করে ভারতকে এগিয়ে দেন। ৮টি চার এবং ৩টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসের সৌজন্যে ১০ ওভারে ১০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ভারত। কিন্তু তার পরেই আচমকা ধস। ৯১/১ থেকে ১২৭/৬ হয়ে যায় ভারতের স্কোর। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৫৯/৯ তোলে ভারত।
ব্যাটারদের এই ব্যর্থতা নিয়েই হরমনপ্রীতের সাফ মন্তব্য, ‘আমরা ভাল শট খেলিনি। তবে থাইল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা এমন জায়গায় বল করেছে, যেখানে শট খেলা সহজ ছিল না। ওরা ভাল বল করেছে, আবার আমরাও নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারিনি’।
তবে ভারত অধিনায়ক সতর্কবার্তা দিয়েছেন এশিয়া কাপের বাকি দলগুলিকে নিয়ে। হরমনপ্রীত বলেছেন, ‘এশিয়া কাপে খেলা সব দলই অনেক উন্নতি করেছে। তাই কোনও দলকেই হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না’।
ভারতের জয়ে ব্যাট হাতে শেফালি এবং বল হাতে দীপ্তি ছিলেন দুই প্রধান নায়ক। দু’জনের প্রশংসা করে হরমনপ্রীত বলেন, ‘ওরা দু’জনেই আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। শেফালি গুরুত্বপূর্ণ রান করে এবং ওর ছন্দও ভাল। আর দীপ্তির অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আজ সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছে’।
নিজের ৬৪ রান নিয়েও কথা বলেছেন শেফালি। পিচে বল পুরনো হওয়ার পরে থমকে আসছিল বলে জানান তিনি। ‘আমি শুধু জায়গা খুঁজে বল রাখার চেষ্টা করছিলাম। বল পুরনো হয়ে যাওয়ার পরে একটু থমকে আসছিল। তাই সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম’।
শেফালির আরও ব্যাখ্যা, ‘শুরুতে বলটা ব্যাটে খুব ভাল ভাবে আসছিল। পরে একটু থমকে আসছিল। তাই আমি বলটা দেরিতে খেলার এবং ফাঁক দিয়ে মারার চেষ্টা করছিলাম’।
ভারতের পরের ম্যাচ হংকংয়ের বিরুদ্ধে, বৃহস্পতিবার। তার আগে জয় এলেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা যে মেরামত করতে হবে, থাইল্যান্ড ম্যাচই সেই বার্তা দিয়ে গেল। দীপ্তির রেকর্ড এবং শেফালির বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তাই হরমনপ্রীতের সতর্কবার্তাও ভারতীয় শিবিরে সমান গুরুত্বপূর্ণ।