সদ্য ইংল্যান্ডে টি-২০ সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে ভারত। তার আগে আয়ারল্যান্ডেও দুটি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছে তারা। এ বার তিনটি ওয়ান ডে ম্যাচের সিরিজ, যা শুরু হবে আজ, মঙ্গলবার থেকে। অভিজ্ঞ বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে শুধু নিজেদের পারফরম্যান্সই দেখালেই চলবে না, বার্মিংহামে প্রথম ম্যাচ থেকেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মনোবল হারানো ভারতীয় দলকে উজ্জীবিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিতে হবে।
কোহলি ও রোহিতের সঙ্গে জসপ্রীত বুমরাও ফিরছেন এই সিরিজে। ৩৯ বছর বয়সি রোহিত এবং শীঘ্রই ৩৮-এ পা দিতে চলা কোহলির মধ্যে এখনও সেই খিদে, জেদ এবং রান করার সামর্থ্য রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, একদিনের বিশ্বকাপকে স্মরণীয় বিদায় মঞ্চ হিসেবে রেখে যাওয়া। তাই তাঁদের এই সিরিজে জ্বলে উঠতেই হবে। ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও টি-২০ দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জ্বালা মিটবে না ঠিকই। তবে এই সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইংল্যান্ডের পেস জুটি জোফ্রা আর্চার ও জশ টাংকে মোকাবিলা করা, বিশেষ করে উপমহাদেশের তুলনামূলক ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটের চেয়ে অনেক বেশি বাউন্স ও গতি-সহায়ক ইংল্যান্ডের পিচে, নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অতীতে ইংল্যান্ডের বোলারদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। ইংল্যান্ডের পরিবেশে ও উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস তাঁদের আছে। তাই এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের সেরাটা দিতে হয়, তা তাঁদের অজানা নয়।
‘রো-কো-র অভিজ্ঞতা, দক্ষতার মূল্য অপরিসীম’
ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল বলেন, ‘আমার মনে হয় বিরাট ভাই এবং রোহিত ভাই গত এক দশক ধরে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড হয়ে রয়েছেন। এখনও তাঁরা আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার মূল্য নিঃসন্দেহে অপরিসীম। গত এক দশকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে, বারবার, ধারাবাহিকভাবে, অসংখ্য ম্যাচে, নানা টুর্নামেন্টে এবং বিভিন্ন বড় মঞ্চে তাঁরা কী করেছেন, সেটা আমরা সবাই দেখেছি।’
অধিনায়ক শুভমন গিলের প্রত্যাবর্তন ভারতের জন্য বড় স্বস্তি। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সফল এই ব্যাটারের সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ কেএল রাহুল। তাঁদের সঙ্গে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে মিলিয়ে ভারতের হাতে রয়েছে দুর্দান্ত চারজন টপ-অর্ডার ব্যাটার, যাঁরা যে কোনও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এর সঙ্গে যদি শ্রেয়স আইয়ারকেও যোগ করা যায়, তাহলে ভারতের ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কোনও কারণ থাকার কথা নয়।
অধিনায়ক শুভমন বলেন, ‘দলে যদি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি থাকে, তাহলে চাপের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে তা অনেক বড় সুবিধা দেয়। কারণ, বিরাট-রোহিত ভাইরা এর আগে বহুবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং ভালো-খারাপ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই তাঁদের হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাই চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা এক ধরনের স্থিরতা ও শান্ত থাকার ক্ষমতা এনে দেন। আমার মতে, যে কোনও দলের জন্যই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বুমরার সঙ্গে বোলিং-অস্ত্র আর কারা?
ভারতের সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার জায়গা বোলিং বিভাগ। জসপ্রীত বুমরা বিশ্রাম শেষে দলে ফিরলেও, বোলিং আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নজর কাড়া তরুণ পেসার গুরনুর ব্রারের সামনে এবার সম্পূর্ণ অন্য রকমের পরীক্ষা। ইংল্যান্ডের পিচে সঠিক লেংথ বজায় রাখাই হবে তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাঁহাতি পেসার হিসেবে অর্শদীপ সিং ভারতের বোলিং আক্রমণে আলাদা মাত্রা যোগ করবেন। চোটের কারণে হার্দিক পাণ্ডিয়া ও নীতীশ কুমার রেড্ডি না থাকায় কার্যত বাধ্য হয়েই এজবাস্টনে চতুর্থ পেসার হিসেবে খেলানো হতে পারে শিবম দুবেকে। বোলারদের প্রসঙ্গে শুভমন বলেন, শুভমন গিল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি। সিরিজ শুরুর আগেই নীতীশ কুমার রেড্ডি চোট পেয়েছে। আবার হর্ষিত রানাও চোটগ্রস্ত। আমরা চাইছিলাম, বিশ্বকাপের আগে এই ধরনের ক্রিকেটারদের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলাতে, যাতে সুযোগ এলে তারা নিজেদের স্বচ্ছন্দ এবং প্রস্তুত মনে করে। সেই দিক থেকে দেখলে আমরা কিছুটা দুর্ভাগ্যবান।ফলে আমাদের অন্য কম্বিনেশন নিয়ে খেলতে হবে। তবে তার মানে এই নয় যে আমাদের প্রথম একাদশ অগোছালো বা স্থির নয়।’
দলের সেরা স্পিনার কুলদীপ যাদব এমন বোলার, যিনি পিচ থেকে বিশেষ সাহায্য না পেলেও বল ঘুরিয়ে ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলতে পারেন। কিন্তু ব্যাট হাতে ওয়াশিংটন সুন্দর এবং অক্ষর প্যাটেল কিছুটা হলেও এগিয়ে। এই কথা ভেবেই হয়তো কুলদীপের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারেন তাঁরা। যদিও টি-২০ সিরিজে দুজনেরই পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড শিবির, কিন্তু…
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত যে জায়গায় এগিয়ে, তা হল, গত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে আর কোনও একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি হ্যারি ব্রুকরা। ফলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটের ছন্দে ফিরতেও তাদের কিছুটা সময় লাগতে পারে। যদিও টি-২০ সিরিজে একতরফা সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে রেখেছে।
জো রুটের প্রত্যাবর্তন ইংল্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর সঙ্গে হ্যারি ব্রুক, জ্যাকব বেথেল এবং জস বাটলার রয়েছেন বিস্ফোরক ফর্মে। প্রথম ম্যাচের প্রথম এগারো ঘোষণাও করে দিয়েছে তারা। বেথেলকে বেন ডাকেটের সঙ্গে ওপেনার হিসেবে নামতে দেখা যাবে।
এই প্রথম ২২ বছর বয়সি বেথেল ইংল্যান্ডের হয়ে ৫০ ওভারের ম্যাচে ওপেন করতে নামবেন। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত খেলা ২১টি ওয়ানডে-তে তিনি বরাবর মিডল অর্ডারে, চার থেকে সাত নম্বরের মধ্যে ব্যাট করেছেন।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জস বাটলার ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের ২০০তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চলেছেন। ২০১২-র ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। তিনি ছাড়াও মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞ জো রুটের উপস্থিতি দলকে আরও ভারসাম্য ও গভীরতা জোগাবে।সাউদ্যাম্পটনে শেষ টি-২০ ম্যাচে ভারতীয় বোলারদের কার্যত নাস্তানাবুদ করেছিলেন বাটলার ও ব্রুক। এবার বুমরাদের জন্য কী অপেক্ষা করে আছে, তা আজ সন্ধ্যাতেই বোঝা যাবে।ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময়ে বিকেল ৩.৩০-এ।