রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি-র যুগ্মসচিব নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে এ বার আসরে নামলেন খোদ সংস্থার নির্বাচনী আধিকারিক সুশান্ত রঞ্জন উপাধ্যায়। আগামী ২০ জুলাই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল, যার বৈধতা নিয়ে আপত্তি তুলেছে সিএবি-র বেশ কয়েকটি অনুমোদিত সংস্থা, যাদের ওই সভায় উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা রয়েছে।
সিএবি-র অনুমোদিত সংস্থাগুলির মধ্যে অনেকগুলি সংস্থাই ২০ জুলাইয়ের বিশেষ সভার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই সংস্থাগুলির মধ্যে যেমন ১৮টি জেলা সংস্থা রয়েছে, তেমনই অন্তত দশটি ক্লাবও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের বক্তব্য দীর্ঘ, যার নির্যাস হল, গত বছর যে বার্ষিক সাধারণ সভায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়, সেই সভায় এমন অনেকেই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, যাঁদের সেই সভায় প্রতিনিধিত্ব করার আইনি যোগ্যতা ছিল না। যে আইন অনুযায়ী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও তাঁর অনুমোদিত সংস্থাগুলি চলে, সেই বিচারপতি লোধা আইনের শর্ত মেনে অনেকেই সেই সভায় ছিলেন না। সরাসরি না বলা হলেও, এই চিঠিতে পরোক্ষভাবে দাবি করা হয়, গত বছর যে বার্ষিক সভায় বর্তমান কমিটির সদস্যদের বাছাই করা হয়েছিল, সেই সভা বৈধ ছিল না।
আগামী ২০ জুলাই যে বিশেষ সভা ডাকা হয়, সেই সভাতেও সিএবি-র একাধিক অনুমোদিত সংস্থা লোধা আইনের শর্ত পালন না করেই প্রতিনিধি মনোনিত করেছে বলে এই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়। প্রায় ৩০টি সংস্থা থেকে এমন মারাত্মক অভিযোগ জমা পড়ার খবর জানাজানি হতেই প্রার্থী হিসেবে কেউ মনোনয়ন জমা দেয়নি। এবং সে জন্যই এই সভা বাতিল করে দেওয়া হয়। এই অদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিএবি-র ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা আলোচনার জন্য আজ, বুধবার বিকেলে এক জরুরি সভা ডেকেছে সিএবি।
এই বৈঠকের আগেই, মঙ্গলবার অভিযোগকারী সংস্থাগুলিকে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার নির্বাচনী আধিকারিক সুশান্ত রঞ্জন উপাধ্যায়। ‘দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটাল’-এর হাতে আসা তেমনই এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি এবং তার সঙ্গে প্রকাশিত অ্যাপেনডিক্স ‘এ’ ফর্মে কোনো আইনি বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নেই। ফলে নির্বাচন বাতিল ও নতুন অ্যাপেনডিক্স এ ফর্ম জারির যে আবেদন করা হয়েছে, সেগুলি ভিত্তিহীন এবং সিএবি-র নিয়মের বিরোধি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই ২০২৬-এ নির্ধারিত বিশেষ সাধারণ সভা (SGM) সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত CAB-এর সংবিধি ও নিয়ম মেনেই হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনী আধিকারিক Rule 8 (vi)-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, এই শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র ঘোষিত অযোগ্য ব্যক্তিরা সিএবি-র বিভিন্ন কমিটি বা অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য বা প্রতিনিধি হতে পারবেন না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত সংস্থাগুলি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করতে পারবে না। তিনি দাবি করেছেন, এই ব্যাখ্যা সাত বছর আগেই, ২০১৯-এর ২০ সেপ্টেম্বর একটি ব্যাখ্যামূলক বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছিল, সেই বিজ্ঞপ্তি এই চিঠির সঙ্গেই দেওয়া হয় অভিযোগকারী সংস্থাগুলিকে।
এছাড়াও বলা হয়েছে, সিএবি-র Rule 7(a)-তে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে ক্লাব, জেলা সংস্থা, অফিস স্পোর্টস ফেডারেশন, বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি খড়্গপুর জিমখানা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারীদের ব্যাখ্যা মেনে নিলে এই সংস্থাগুলির ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কার্যত ক্ষুণ্ণ হবে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও অনৈতিক ভাবে হস্তক্ষেপ করা হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাতটি বার্ষিক সাধারণ সভা এবং দুটি বিশেষ সাধারণ সভা একই আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হয়েছে। এতদিন কোনও সদস্য সংস্থা, এমনকি কোনো জেলা ক্রীড়া সংস্থাও এ নিয়ে আপত্তি তোলেনি। বিশেষ করে ২০২০-র ৫ ফেব্রুয়ারি যে বিশেষ সভা হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত সিএবি বিধি কার্যকর হওয়ার পরই হয়েছিল এবং সেই সভায় নির্বাচিত ব্যক্তিদের তালিকাও এই চিঠির সঙ্গে দিয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিক।
এছাড়া ২০২৫-এর ২ মার্চ বিশেষ সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং এ বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত ওই সংশোধনীগুলি কার্যকর করার অনুমতিও দিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সবশেষে নির্বাচনী আধিকারিক সিদ্ধান্তে জানান, ২০ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি বা অ্যাপেনডিক্স এ ফর্মে কোনো আইনি বা প্রক্রিয়াগত অসঙ্গতি নেই। ফলে অভিযোগকারী সংস্থাগুলির আপত্তি ও নির্বাচন বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। বুধবার বিকেলের জরুরি ভিত্তিতে ডাকা এই সভায় এই পাল্টা চিঠি নিয়ে ঝড় ওঠে কি না, এখন সেটাই দেখার।