বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার জরুরি সভা যখন শুরু হয়, তখন ইডেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ইন্ডোর প্র্যাকটিস এরিনায় পরিবেশ ঠাণ্ডা থাকলেও কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই হাওয়া গরম হয়ে ওঠে ক্রমবর্ধমান বাদানুবাদে। সিএবি-র যুগ্মসচিব নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা এই জরুরি সভায় তীব্র বাদানুবাদ হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফল পাওয়া যায়নি। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার যুগ্মসচিবের পদ নিয়ে যে তিমিরে ছিল তারা, সেই তিমিরেই রয়ে গেল।
২০ জুলাই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল, যার বৈধতা নিয়ে আপত্তি তোলে সিএবি-র বেশ কয়েকটি অনুমোদিত সংস্থা, যাদের ওই সভায় উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা রয়েছে। সিএবি-র অনুমোদিত সংস্থাগুলির মধ্যে অনেকগুলি সংস্থাই ২০ জুলাইয়ের বিশেষ সভার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই সংস্থাগুলির মধ্যে যেমন ১৮টি জেলা সংস্থা ছিল, তেমনই অনেকগুলি ক্লাবও ছিল। তাদের মধ্যে অনেকের প্রতিনিধিরাও বুধবারের এই সভায় ছিলেন এবং তাঁরাই নিজেদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
পাল্টা সিএবি কর্তারা তাঁদের যুক্তি খণ্ডনের চেষ্টা শুরু করলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য, আগামী ২০ জুলাই যে বিশেষ সভা ডাকা হয়, সেই সভাতে সিএবি-র একাধিক অনুমোদিত সংস্থা লোধা আইনের শর্ত না মেনেই প্রতিনিধি মনোনিত করেছে। যাঁদের বয়স ৭০ বছরের বেশি ও যাঁরা ৯ বছরের বেশি রাজ্য ক্রিকেট প্রশাসনে রয়েছেন এবং সরকারের পদাধিকারীরা কেউই এই সভায় যোগ দিতে পারবেন না।
শাসক গোষ্ঠীর অনুগামীরা পাল্টা যুক্তি দেন, সিএবি-র পদাধিকারী ও বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য। সভায় যোগদান বা ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যে আইন অনুযায়ী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও তাঁর অনুমোদিত সংস্থাগুলি চলে, সেই বিচারপতি লোধা আইনের শর্ত এ রকমই। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা তা মানতে রাজি নন। ১৮টি জেলার জেলাশাসকেরা চিঠি দিয়ে ২০ তারিখের সভা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রত্যেকের চিঠির বয়ান ছিল একই। জেলাশাসকদের এই পত্রবোমার ধাক্কায় কেউই যুগ্মসচিব পদের প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন পেশ করেননি।
তীব্র বাদানুবাদের পর প্রাক্তন সিএবি সচিব বিশ্বরূপ দে দাবি তোলেন, কোনটা সঠিক আইন এবং কোনটা নয়, তা স্থির করা সিএবি-র পদাধিকারীদের কর্তব্য। তাঁরা যদি মনে করেন, ক্রিকেটের আইনগত দিক থেকে তাঁরা সঠিক পথেই চলছেন, তা হলে সিএবি সভাপতি, সচিব ও অন্যান্য পদাধিকারীরা অনুমোদিত সংস্থাগুলিকে সেই নিয়ম মানতে বাধ্য থাকার নির্দেশ দিক।
শেষ পর্যন্ত সেটাই হয় এবং সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সভায় উপস্থিত সবাইকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সিএবি-র আইন মানতেই হবে সদস্য সংস্থাগুলিকে। কারণ, সারা দেশের সব ক্রিকেট সংস্থাতেই এই আইনই মানা হয়। এই আইনের কোনো শর্ত নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সে আদালতে যেতে পারে। এই আইনই যে সঠিক, এই ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। বুধবার সভার পর ‘দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটাল’-কে এই কথাই জানান সিএবি সভাপতি ও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে যেখানে এই আইন মেনে সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার কাজকর্ম, সভা, বৈঠক হয়, তা হলে সিএবি-তে এই মানা হবে না কেন? আমরা নিশ্চিত যে এই আইনই একেবারে সঠিক। সেজন্যই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি, এই আইনের কোনো শর্ত থাকলে আদালতে যেতে পারেন। তবে এই অভিযোগ নিয়ে আদালতে গিয়েও কারো কোনো লাভ হবে না’। এ ছাড়াও এই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত সংস্থার যুগ্ম সচিবের পদ খালিই থাকবে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সরকারের কোনো এক মহল থেকে এই ‘অনুরোধ’ এসেছিল। সে জন্যই কেউ এই পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করেনি।
কিন্তু বুধবারের এই সভার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ২০ জুলাইয়ের সভার বৈধতা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, একই কারণে সেপ্টেম্বরের বার্ষিক সভার বৈধতা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলতে পারেন। তখন কি এই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়াবে? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য সেপ্টম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।