নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিলের বড় জুয়া, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বাড়ছে চাপ

বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আর ঠিক সেই সময়েই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমার। চোটগ্রস্ত এই মহাতারকাকে নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোচ কার্লো আনসেলোত্তির এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বড় ঝুঁকি বলছেন। কারণ, পুরোপুরি ফিট না হওয়া সত্ত্বেও ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে রাখা হয়েছে দেশের সর্বকালের সেরা গোলদাতাকে।

নেইমারের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যমের খবর। ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড বর্তমানে একটি অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিলে অনুশীলন করছেন। এই বিশেষ যন্ত্রটি পায়ের নিচের অংশের উপর চাপ কমিয়ে দেয়, ফলে চোটগ্রস্ত পেশিতে অতিরিক্ত চাপ না দিয়েই তিনি কার্ডিও অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারছেন।

ব্রাজিল শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিশ্বকাপ শুরুর আগে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফেরার জন্য নেইমারের হাতে সময় খুবই সীমিত। যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবুও গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়ে এখনও সতর্কভাবে মূল্যায়ন করছেন কোচিং স্টাফের সদস্যরা।


৩৪ বছর বয়সি নেইমার গত কয়েক বছর ধরেই একের পর এক চোটে জর্জরিত। ২০২৩-এ গুরুতর হাঁটুর চোটের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। চলতি বছরেও কাফ মাসলের চোট তাঁর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। এমনকী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং দলের প্রথম অনুশীলনেও তিনি পুরোপুরি অংশ নিতে পারেননি।

তবুও তাঁর অভিজ্ঞতার উপরই ভরসা রেখেছেন আনসেলোত্তি। ব্রাজিলের কোচ মনে করেন, ফিটনেস একশোভাগ না হলেও নেইমারের উপস্থিতি দলের জন্য মানসিকভাবে বিরাট শক্তি। বড় মঞ্চে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে তাঁর ক্ষমতা এখনও অমূল্য। সেই কারণেই তুলনামূলকভাবে ফিট ও ফর্মে থাকা কিছু ফুটবলারকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার।
ব্রাজিল ফুটবল মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছেন, নেইমারের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারকে বাদ দেওয়া অসম্ভব। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, চোটপ্রবণ এক তারকার উপর এতটা নির্ভর করা কি আদৌ ঠিক সিদ্ধান্ত? বিশেষ করে যখন ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, সাভিনিয়োদের মতো তরুণ ও গতিময় ফুটবলার রয়েছেন।

নেইমারের বিশ্বকাপ কেরিয়ারও যেন অপূর্ণতার গল্প। ২০১৪ বিশ্বকাপে গুরুতর চোট, ২০১৮ সালে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং ২০২২ সালে হতাশাজনক বিদায়—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনও অধরা থেকে গিয়েছে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে অনেকেই নেইমারের ‘লাস্ট ড্যান্স’ হিসেবে দেখছেন। স্বয়ং নেইমারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটাই সম্ভবত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের লক্ষ্য ষষ্ঠ খেতাব। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—নেইমারের শরীর কি তাঁর প্রতিভার সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে? সেই উত্তরই খুঁজবে ফুটবল বিশ্ব। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বাজির নাম হয়ে উঠেছেন নেইমার।