শহরে চলে এল পাঁচবারের ফুটবল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ শহরে এসে পৌঁছল ভিনিশিয়াস জুনিয়র, এন্দ্রিকরা। তাঁদের সঙ্গে এলে প্রায় ৯০ জনের একটা দল, যেখানে ফুটবলার, কোচ ছাড়াও রয়েছেন সাপোর্ট স্টাফ এবং নানা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা।
আগামী শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে নামবে। তার আগে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলে এসেছে তারা। সেখানে টাউন্সভিলে প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে ১-১ করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল এবং ব্রিসবেনে দ্বিতীয় ম্যাচে ৪-২-এ হারায় অস্ট্রেলিয়াকে। এই সফরে তাদের শেষ ম্যাচ ভারতের বিরুদ্ধেই। এখান থেকেই তারা দেশে ফিরে যাবে।
এই সফরে ভিনিসিয়াস, এন্দ্রিক ও তাঁদের দলের সতীর্থরা প্রায় গোটা পৃথিবী ঘুরে ফেলার মতো সফর করছেন। হিসাব বলছে, এই যাত্রায় তাঁদের পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় ৩৪,৯২৭ কিলোমিটার। বিমানে কাটাতে হচ্ছে অন্তত ৫০ ঘণ্টা!
অর্থাৎ এই সফরে পৃথিবীর পরিধির প্রায় ৮৭ শতাংশ পথ পেরোতে হ্চ্ছে ব্রাজিলের ফুটবলারদের। এমন সফরের কথা শুনেই ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের চোখ কপালে উঠছে। লা লিগায় নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার পর রাফিনহা (Raphinha), ভিনিসিয়াস (Vinícius Júnior) এবং এন্দ্রিক (Endrick) উড়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়। স্পেন থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের দূরত্ব প্রায় ১৭,৪৫৬ কিলোমিটার।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ খেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮,৮৯৭ কিলোমিটার উড়ে কলকাতায় উড়ে এলেন তাঁরা। এই বিমানয্ত্রার ধকলের পর বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্রাম নিয়ে শুক্রবার বিকেলেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তারা নেমে পড়বেন অনুশীলনে। তার পরে শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ।
ব্রাজিলের ফুটবলাররা এসে পৌঁছনোর আগে অবশ্য তাদের দেশের আট সদস্যের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল চলে এসেছে কলকাতায়। মূল দলের আগেই শহরে এসে তাঁরা ঘুরে দেখেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুধু ব্রাজিলের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নয়, দলের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বোঝাপড়া করে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।
উত্তরটা লুকিয়ে রয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরের ঘটনাতেই। কলকাতায় এসেছিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। যুবভারতীতে তাঁকে দেখতে উপচে পড়েছিল ভিড়। কিন্তু নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মাঠে প্রায় ২৫ মিনিট থাকার পর মেসিকে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত বার করে নিয়ে যান। তার পরেই ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে ব্রাজিল সফরে না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এ বার শুধু কোনও এক তারকা নন, কলকাতায় আসছে গোটা ব্রাজিল জাতীয় দল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এন্দ্রিকদের দেখার জন্য ইতিমধ্যেই শহর জুড়ে তৈরি হয়েছে বিপুল উন্মাদনা। এদিন বিমানবন্দরেও ছিলেন বেশ কিছু ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু ব্রাজিলের ফুটবলারদের বিমানবন্দরের পিছন দিক দিয়ে বার করে নিয়ে সোজা হোটেলে নিয়ে চলে যাওয়া হয়।