বিশ্বকাপের শুরুতেই ব্রাজিলকে চমকে দিয়ে প্রায় ঐতিহাসিক জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল মরক্কো। তবে শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে ১-১ ড্র করে পরাজয় এড়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভারতীয় সময়ে রবিবার ভোরে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো।
আফ্রিকার দলটি ব্রাজিলের রক্ষণকে একাধিকবার চাপে ফেলে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে প্রতিপক্ষ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তি। সেই চাপেরই ফল মেলে ম্যাচের ২১তম মিনিটে। ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার পাস থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন ইসমাইল সাইবারি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-র অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে গোল হজম করার পর ব্রাজিল কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে। তবে মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের দাপটে তারা খুব বেশি সুযোগ তৈরি পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত কোণাকুনি শটে সমতা আনেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বলের দখল বাড়ালেও মরক্কো পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদের ইঙ্গিত দেয়। ম্যাচের শেষদিকে আফ্রিকার দলটি আরও একবার জয়ের সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি। অন্যদিকে ব্রাজিলও কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ অবস্থাতেই শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-র লড়াই আরও জমে উঠল। মরক্কো প্রমাণ করে দিল, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা তাদের সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। অন্যদিকে ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনসেলোত্তির অধীনে যে ব্রাজিলকে এখনও নিজেদের অনেক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে, এই ম্যাচ সেটাই তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কার মুখে পড়লেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঝলকে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে ব্রাজিল। আর মরক্কোর সমর্থকদের থেকে গেল আক্ষেপ— বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় জয়টা তাদের হাতের মুঠোয় এসেও ধরা দিল না। এ দিন গ্রুপ ‘সি’-র অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ড ১-০-য় হারায় হাইতিকে এবং গ্রুপ ‘বি’-তে কাতার ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচ ১-১ ড্র হয়।