শহরে ব্রাজিল আসার দিন আরও কড়া ভারতীয় দলের হেডস্যার, ব্রাজিলের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা চষে ফেললেন যুবভারতী, অনুশীলনে ফোরলানরা

Yuva Bharati Krirangan Photo-SNS

শহরে এসে প্র্যাকটিসে নেমে পড়ল উরুগুয়ে দল। খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ-সহ প্রায় ৯০ জনকে নিয়ে রাতে বিমানবন্দরে এসে নামল ব্রাজিল দলের চার্টার্ড বিমান। অন্যদিকে, সল্টলেক স্টেডিয়ামে পড়ছে শেষ তুলির টান। শহরে কয়েকদিন পরেই শুরু হবে শারোদোৎসব। কিন্তু তার আগেই শারদীয়া ফুটবল উৎসবে মেতে উঠবে শহর। এই উৎসবের আবহেই যুবভারতীর আনাচ-কানাচ চষে ফেললেন ব্রাজিল থেকে আসা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। এসবের মধ্যেই ক্রমশ অনুশীলনে ডুবে যাচ্ছেন ভারতীয় ফুটবলাররা। তাঁদের কোচ খালিদ জামিলও ক্রমশ আরও কড়া হেডস্যার হয়ে উঠছেন যেন।

ফুটবলের মক্কায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়তেই ভারতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতির তীব্রতাও ক্রমশ বাড়ছে। যত দিন যাচ্ছে হেড কোচ খালিদ জামিলের মেজাজও ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। কলকাতায় পা রাখার পর প্রথম দু’দিনের অনুশীলনে মিডিয়া প্রতিনিধিদের মিনিট ১৫-র জন্য থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন ভারতীয় দলের কোচ। কিন্তু বৃহস্পতিবার পুরোপুরি রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করালেন দলের ফুটবলারদের। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যে কঠিন ম্যাচ, পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচের চেয়েও অনেক বেশি কঠিন, তা খুব ভাল করেই জানেন ভারতীয় কোচ, ফুটবলাররা। অনুশীলনেও তার ছাপ পড়েছে স্পষ্ট।

ভারতের অনুশীলনে বাড়ছে তীব্রতা


ভারতীয় দল সূত্রে জানা গিয়েছে, খালিদ জামিল দলের ফুটবলারদের স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, খেলায় তীব্রতা আরও বাড়াতে হবে। ব্রাজিলের মতো দলকে যে দক্ষতা দিয়ে কোনোমতেই আটকানো যাবে না, তাদের যে কৌশলেও বাজিমাত করতে হবে, মূলত এই ভাবনাই চলছে ভারতীয় শিবিরে। প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশল তৈরি করা হয়েছে এবং সেই কৌশল অনুযায়ীই অনুশীলন করাচ্ছেন খালিদ। কেউ একটু ভুল করলেই তাঁকে বেশ কড়া ধমক খেতে হচ্ছে। অনুশীলনের বাইরে যে যাই করুক অনুশীলনে প্রত্যেককে সারাক্ষণ একশো শতাংশ সিরিয়াস থাকতে হবে। এটাই হেড কোচের একমাত্র শর্ত।

ম্যাচ শনিবার। তার আগে শুক্রবার সকালে যুবভারতীর মূল মাঠে অনুশীলন করবে ভারতীয় দল। আর ব্রাজিলও অনুশীলন করতে যুবভারতীর মাঠে নামবে তবে বিকেলে। এই দুই অনুশীলনের মাঝে বাইপাসের ধারে এক পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক সেরে নেবেন দুই কোচ। সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের নৈশভোজেও আপ্যায়ন করা হবে ভারত, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলকে।

এ বছর লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও টাটকা। তাই এ বার আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিলীয় ফুটবল দল। শনিবার যুবভারতীতে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন ব্রাজিলের আট সদস্যের বিশেষ নিরাপত্তা দল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সেই দলে রয়েছেন প্রাক্তন সেনাকর্মীরাও। লক্ষ্য একটাই—ব্রাজিল দলের সফরে যেন কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

Anwar Ali Photo-SNS

মেসি-কাণ্ড এড়াতে যুবভারতী চষে ফেলল ব্রাজিলীয় বাহিনী

বুধবারই কলকাতায় এসে পৌঁছেছে ব্রাজিলের এই আট সদস্যের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল। মূল দলের আগেই শহরে এসে তাঁরা ঘুরে দেখেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুধু ব্রাজিলের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নয়, দলের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বোঝাপড়া করে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।

ফেডারেশনের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘ব্রাজিলের নিরাপত্তা দলে বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীরা রয়েছেন। ফুটবলার, প্রতিনিধি এবং দলের সঙ্গে থাকা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের কাজ। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেটিও তাঁরা নিশ্চিত করছেন’।

কিন্তু কেন এত সতর্কতা? উত্তরটা লুকিয়ে রয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরের ঘটনাতেই। কলকাতায় এসেছিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। যুবভারতীতে তাঁকে দেখতে উপচে পড়েছিল ভিড়। কিন্তু নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মাঠে প্রায় ২৫ মিনিট থাকার পর মেসিকে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত বার করে নিয়ে যান। তার পরেই ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।

সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে ব্রাজিল সফরে না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এ বার শুধু কোনও এক তারকা নন, কলকাতায় আসছে গোটা ব্রাজিল জাতীয় দল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এন্দ্রিকদের দেখার জন্য ইতিমধ্যেই শহর জুড়ে তৈরি হয়েছে বিপুল উন্মাদনা।

 

মোতায়েন আড়াই হাজার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী

মাঠের অবস্থাও নজরে রয়েছে। প্রবল বৃষ্টি এবং পর পর ম্যাচের কারণে মূল মাঠ ও অনুশীলনের মাঠে নতুন করে ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। স্টেডিয়ামের বাইরের অংশে সৌন্দর্যায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজও চলছে। দর্শকদের যাতায়াত আরও মসৃণ করতে নতুন প্রবেশপথ তৈরি এবং পুরনো গেটগুলিও চওড়া করা হচ্ছে। শৌচাগার ও অন্যান্য জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গাও সংস্কার করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার অংশ হিসাবে অনুশীলনের মাঠ ঘিরে নতুন বেড়াও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মেসি-কাণ্ডের পর এ বার ব্রাজিল ম্যাচে ভুলের কোনও জায়গা রাখতে চাইছে না আয়োজকেরা।

এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা যুবভারতীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। তার পরে মিডিয়া প্রতিনিধিদের বলেন, ‘আমরা মূলত চারটি বিষয়ে নজর দিচ্ছি, দর্শকদের নিরাপত্তা, স্টেডিয়ামের ভিতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং যারা খেলা দেখতে আসবেন, তাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থা করা। যথাসম্ভব ভাল ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আশা করি কোনো রকম সমস্যা হবে না। রাজ্যে এত বড় একটা ইভেন্ট হচ্ছে, যার ওপর সারা দুনিয়ার নজর থাকবে। সেই ইভেন্টকে যথাসম্ভব নিরাপদ রাখা হবে’। জানা গেল, ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের ভিতর ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

অনুশীলনে ফোরলান, নুনেজরা

উরুগুয়ে দল বুধবার রাতেই শহরে এসে পৌঁছেছে। দিয়েগো ফোরলান তাঁর দল নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুবভারতীর প্র্যাকটিস মাঠে নেমে পড়েন। টানা দেড় ঘণ্টা অনুশীলনও করেন সেখানে। জানা গিয়েছে, প্র্যাকটিস মাঠ নিয়ে খুশি ফোরলান। আপাতত এই মাঠেই আগামী কয়েকদিন অনুশীলন করবেন তাঁরা। ম্যাচের আগের দিন যুবভারতীর মাঠে অনুশীলন করবেন তাঁরাও। শনিবার ভারত-ব্রাজিল ম্যাচও দেখবেন দলের কোচ-খেলোয়াড়রা।