ওয়েলিংটনের ঝোড়ো হাওয়া সামলে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য পূরণের পরীক্ষা শ্রেয়স-বাহিনীর

India Practice Photo-BCCI

চার বছর পরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরে এসেছেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি ভুবনেশ্বর কুমারের। প্রথম দু’টি ম্যাচে প্রচুর রান দিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। তা সত্ত্বেও তাঁর পাশে রয়েছেন ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারত। লক্ষ্য, পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-০ করে সাফল্য সুনিশ্চিত করা।

ক্রাইস্টচার্চে পর পর দু’টি টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে তৃতীয় ম্যাচ জিতলেই সিরিজ পকেটে পুরে ফেলবেন শ্রেয়স আইয়ার-রা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটাতেই হবে ভারতকে। বিশেষ করে ভুবনেশ্বর কুমারকে ফর্মে ফিরতে হবে।

চার বছর পরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরেছেন ভুবনেশ্বর। কিন্তু প্রথম দু’টি ম্যাচে চার ওভার করে বল করে যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ রান দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে আট ওভারে ৯৯ রান খরচ করেছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর উপর চাপ বাড়ছে। তবে তাঁকে এখনই কাঠগড়ায় তুলতে নারাজ বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল।


ভুবনেশ্বরের পাশে দাঁড়িয়ে মর্কেল বলেন, ‘প্রত্যাশার চাপকে মাথা থেকে সরিয়ে রাখাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ও এক মাস অনুশীলন করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পূর্ণ অন্য রকম। এখানে ভুলের জায়গা খুব কম। সূচির চাপে নিজেকে তৈরি করার জন্য ওকে কম অনুশীলন করেই দলে ফিরতে হয়েছে’।

ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন যে সহজ হবে না, তা মর্কেলও জানেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ বিরতির পরে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে ছন্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই অভিজ্ঞ পেসারকে বাড়তি চাপ না দিয়ে নিজের দক্ষতার উপর ভরসা রাখতে বলছেন ভারতের বোলিং কোচ। তাঁর কথা শুনে মনে হচ্ছে তিনি মঙ্গলবার ভুবিকে আর একটা সুযোগ দিতে রাজি। কিন্তু হেড কোচ গম্ভীর তাতে রাজি হবেন কি না, এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তবে এটা ঠিকই যে, ওয়েলিংটনের আবহাওয়া ভুবনেশ্বরকে সাহায্য করতে পারে। এই মাঠে বাতাসের গতিপথ বার বার বদলায়। আড়াআড়ি হাওয়া সামলাতে পারলে সুইং করানোর দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন ভুবনেশ্বর। তবে সেই সুবিধা পেতে হলে বলের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে তাঁকে। নিজের পুরনো দক্ষতাকে যদি ফিরিয়ে আনতে পারেন ভুবি, তা হলে কপাল খুলতে পারে তাঁর।

Henry Stadium Photo-SNS

মঙ্গলবার ভারতের পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন অর্শদীপ সিংও। বাঁহাতি পেসারের বল ডানহাতি ব্যাটারের বাইরে নিয়ে যাওয়া, আবার কখনও ভিতরে ঢোকানোর ক্ষমতা নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারে।

২০২৬ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও পর্যন্ত ৩৮টি উইকেট নিয়েছেন অর্শদীপ। এর ফলে এক বছরে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল ভুবনেশ্বরের— ২০২২-এ ৩৭টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

এ বার বিশ্বরেকর্ডের হাতছানিও রয়েছে অর্শদীপের সামনে। এক বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র দু’টি উইকেট। আয়ারল্যান্ডের জশ লিটল ২০২২ সালে ৩৯টি উইকেট নিয়ে এই নজির গড়েছিলেন।

ওয়েলিংটনের ঠান্ডা এবং ঝোড়ো হাওয়া শুধু বোলারদেরই নয়, ব্যাটারদেরও পরীক্ষা নেবে। বিশেষ করে বলের লাইনে এসে বড় শট খেলতে অভ্যস্ত ভারতীয় ব্যাটারদের সতর্ক থাকতে হবে। অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী ও সঞ্জু স্যামসনের পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে। অবশ্য গত ম্যাচে বৈভবের ব্যাটিং দেখার পর তাঁকে ফের এই ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, এটাও প্রশ্ন। বিশেষ করে এই আবহাওয়ায়, যেখানে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেখানে বৈভব কতটা সফল হতে পারবেন, এই নিয়েও সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

বৈভবের কাছে নিউজিল্যান্ড সফর অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবেশ, আবহাওয়া এবং প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তাঁর ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু তাঁকে অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ দিতে গিয়ে গম্ভীর দলের স্বার্থকে কম গুরুত্ব দেবেন, এমন সম্ভাবনা কম।

প্রথম দু’টি ম্যাচে ভারতের ব্যাটিংয়ের গভীরতা কাজে এসেছে। মাঝের ওভারে তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও নমন ধীরকে ব্যবহার করার কৌশলও কার্যকর হয়েছে। কিন্তু ওয়েলিংটনে ব্যাটারদের কাজ আরো কঠিন। এখানে তারা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছেই। বোলিংয়ে সিরিজের শুরু থেকেই ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। ডেথ ওভারে রান আটকানো এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করাই ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২০-তে নিউজিল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ৫-০ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। ২০২২-২৩ সফরে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজেও একটি ম্যাচ জিতেছিল তারা, শেষ ম্যাচটি টাই হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই নামবে শ্রেয়সের দল।

জসপ্রীত বুমরা বিশ্রামে রয়েছেন। হার্দিক পাণ্ড্যও চোটের কারণে দলের বাইরে। ফলে বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব আরও বেড়েছে বাকিদের উপর। নিউজিল্যান্ডও ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করবে।

ভুবনেশ্বর কি ছন্দে ফিরতে পারবেন? আর ভারত কি দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নেবে? মঙ্গলবার ওয়েলিংটনের লড়াইয়ে এই প্রশ্নগুলিই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেবে।