অভিষেক, সুদীপ ফিরে যাওয়ার পর বাংলার ব্যাটিংয়ে ধস, তবু জয় দিয়েই রঞ্জি অভিযান শুরুর স্বপ্ন দেখছেন অভিমন্যুরা

অভিষেক পোড়েল ও সুদীপ ঘরামি ২২৯ রানের পার্টনারশিপ না গড়লে কি বাংলা তাদের মরসুমের প্রথম রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে তিনশো রানও পেরতে পারত?

দিল্লির বিরুদ্ধে দুই সেঞ্চুরিয়ানের তোলা রান বাদ দিলে বাংলার অন্যান্য ব্যাটারদের মোট রান দাঁড়ায় ১৪৬। মঙ্গলবার ম্যাচের তৃতীয় দিন স্কোরবোর্ডে ৩০৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করার পর প্রথমে সুদীপ ৩৩৪ রানে ও পরে অভিষেক ৩৯০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অর্থাৎ, বাংলার স্কোরবোর্ডে একসময় ছিল ৫ উইকেটে ৩৯০।

অথচ সেই বাংলার ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৪২৯ রানে। হিসেবটা এটাই দাঁড়াল যে, সুদীপ-অভিষেকের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর বাংলার পরবর্তী ব্যাটাররা আর একশো রানও তুলতে পারেননি, যোগ করেন মাত্র ৯৫ রান। তার মধ্যে আবার ৫০ রান একা সুমন্ত গুপ্তরই। বাংলার ব্যাটিংয়ের সার্বিক হাল যদি এ রকম হয়, তা হলে এ বারের রঞ্জি ট্রফিতে তাদের অভিযান কেমন কাটবে, প্রথম ম্যাচে সেই প্রশ্নই উঠে গেল।


আগের দিন যিনি সুদীপ চট্টোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই দিল্লির অধিনায়ক আয়ূশ বাদোনি এ দিন এক এক করে ফেরান সুমন্ত গুপ্ত, আকাশ দীপ, মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমারকে। বাংলার শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে মাত্র ১২ রানের মধ্যে। এই পরিসংখ্যানগুলো কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লকে যথেষ্ট চিন্তায় ফেলে দেওয়ার মতো।

প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানের লিড বাংলার। মঙ্গলবার দিনের শেষে তিন উইকেট হারিয়ে ১০১ তুলেছে দিল্লি। বুধবার শেষ দিনে বাংলার বোলাররা কত তাড়াতাড়ি দিল্লিকে অল আউট করতে পারে, এখন সেটাই দেখার। দিল্লি যথেষ্ট রক্ষণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেছে। অধিনায়ক আয়ুশ ও উইকেট কিপার অনুজ রাওয়াত আপাতত ক্রিজে। বুধবার তাঁরাই দিন শুরু করবেন। ইয়শ ধুল এক বল ব্যাট করার পরই সাজঘরে ফিরে যান আহত ও অবসৃত হয়ে।

সেরা পেস আক্রমণ-সমৃদ্ধ দল বাংলা যদি শেষ দিনে দিল্লিকে আর ৮৮ রানের রানের মধ্যেই শেষ করে দিতে পারে, তা হলে সরাসরি ছ’পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফিরতে পারবে তারা। অর্থাৎ এই ম্যাচে বাংলার ভাগ্য এখন শামি, আকাশ, মুকেশদের ওপর।

দ্বিতীয় দিনের শেষে অভিষেক-সুদীপরা বলেছিলেন, মঙ্গলবার সারা দিন ব্যাট করে যথাসম্ভব বেশি রান করার ইচ্ছা আছে তাদের। কিন্তু তাদের সেই ইচ্ছা পূর্ণ হল না। এ দিন ৩৩ ওভারের বেশি ব্যাট করতেই পারেনি বাংলা। স্কোরবোর্ডে ১২৫ রান যোগ করে তারা। অভিষেক পোড়েল তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শেষ করেন ১৪৯ রানে। ঋত্বিক শোকিনের বলে সনৎ সাঙ্গওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ১৩৩ রান করে দিভিজ মেহরার বলে এলবিডব্লু-র ফাঁদে পড়েন সুদীপ ঘরামি। আয়ূশ ৪৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। নভদীপ সাইনি ও দিভিজ মেহরা জোড়া উইকেট নেন।

দিনের বাকি অংশে ৪৫ ওভার ব্যাট করে দিল্লি তোলে ৩ উইকেটে ১০১। উইকেট ক্রমশ গতি হারাচ্ছে। তার মধ্যেই আকাশ, মুকেশ ও প্রদীপ্ত প্রামানিক একটি করে উইকেট পান। কিন্তু প্রথ ইনিংসে তার উইকেট পাওয়া শামির ঝুলিতে এখনও কোনো উইকেট নেই। সারপ্রাইজ প্যাকেজটা বুধবারের জন্য তুলে রেখেছেন কি না, সেটাই দেখার।