দিল্লির বিরুদ্ধে সরাসরি জয় দিয়ে রঞ্জি ট্রফি মরসুম শুরু বাংলার, পরের ম্যাচে ফিরছেন শাহবাজ, থাকছেন শামি

Bengal Team Celebration Photo-SNS

জয় দিয়েই রঞ্জি ট্রফির মরসুম শুরু করল বাংলা। সেও বেশ দাপুটে জয়। দিল্লিকে ৯ উইকেটে হারিয়ে মরসুমের সূচনা করল গত বারের সেমিফাইনালিস্টরা। বুধবার দিল্লিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৭ রানে অল আউট করে দেয় বাংলা। ফলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৮৯ রান। সাড়ে ১৫ ওভার ব্যাট করে সেই রান তুলে নেয় বাংলা। ফলে ঘরের মাঠে পুরো ছ’পয়েন্ট নিয়েই ম্যাচ শেষ করল বাংলা। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করে নিলেন অভিষেক পোড়েল। সেঞ্চুরির পর এই ম্যাচ তাঁর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য এ আর এক উপাদান।

গতবার রঞ্জি ট্রফিতে আগাগোড়া ভাল খেলে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলা। কিন্তু মাত্র একটা সেশনে খারাপ খেলার জন্য জম্মু-কাশ্মীরের কাছে হেরে ছিটকে যেতে হয় তাদের। এ বার দিল্লিকে হারিয়ে মরসুম শুরু করায় ফের আশা জাগাল লক্ষ্মীরতন শুক্লার প্রশিক্ষণাধীন দল। তবে প্রথম ইনিংসে তাদের ব্যাটিংয়ের শুরু ও শেষের দিকের ধস চিন্তায় ফেলতে পারে তাঁকে।

ওই ধস না নামলে হয়তো বাংলা এই ম্যাচে আরো এক পয়েন্ট বোনাস নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত। ম্যাচের শেষে সেই আফসোসই শোনা গেল অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণের গলায়। বলেন, ‘সরাসরি জিতে ছয় পয়েন্ট পেয়ে শুরু করাটা অবশ্যই একটা ভাল ব্যাপার। তবে বোনাস পয়েন্টটা পেলে আরো ভাল লাগত। আমাদের সার্বিক পারফরম্যান্স প্রশংসা করার মতোই। পরের ম্যাচে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে আমাদের’।


কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল অবশ্য একটি বোনাস পয়েন্ট হাতছাড়া হওয়া নিয়ে বিচলিত নন। তিনি বলেন, ‘শুরুটা যেমন ভাবে করতে চেয়েছিলাম, তেমনই হয়েছে। আরো এক পয়েন্ট পেতে পারতাম ঠিকই। তবে না পেলেও তাতে সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। তবে যে ভাবে শুরু করলাম, সেভাবেই পরের ম্যাচগুলোতে খেলতে হবে আমাদের’।

বুধবার বাংলার জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। তিন উইকেটে ১০১ রানের পুঁজি নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৭৭ রানে। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার অধিনায়ক আয়ুশ বাদোনি ও অনুজ রাওয়াত এ দিন একসঙ্গে ৫৩ রান যোগ করেন। মোট ৯৪ রানের পার্টনারশিপ খেলার পর তাদের জুটি ভেঙে দেন আমির গনি। ৩৯ রানের মাথায় তাঁর স্টাম্প ছিটকে দেন গনি। যশ ধুল, যিনি আগের দিন ব্যাট করতে নেমেই চোট পেয়ে ফিরে গিয়েছিলেন, তিনি এ দিন নেমে ২২ রানের বেশি করতে পারেননি। তাঁকে ফেরান সুমন্ত গুপ্ত।

আয়ুশ এদিন ৮৫ রান করে ফিরে যান প্রদীপ্ত প্রামানিকের বলে, অভিমন্যু ঈশ্বরণের হাতে ধরা পড়ে। বাদোনি আউট হন দলের ২১৩ রানে। অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার পর তাদের শেষ চার উইকেট পড়ে ৬৪ রানে। এই ইনিংসে পেসারদের চেয়ে স্পিনারদের দাপটই ছিল বেশি। গনি (২-৮৪), প্রদীপ্ত (৩-৭২) ও সুমন্ত (২-২০)- তিনজনে মিলে সাত উইকেট নেন। তিন পেসার শামি, আকাশ ও মুকেশ একটি করে উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য ৮৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা বাংলার সামনে ছিল অঢেল সময়। তাই কোনো তাড়াহুড়ো না করেই অনায়াসে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। ওপেনার অভিমন্যু ৩৪ রানে ও সুদীপ কুমার ঘরামি ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। অপর ওপেনার অঙ্কুর পাল ৪১ বলে ৩৮ রান করে দেব লাকরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এই একটিই উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভার তিন বলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় তারা।

বাংলার পরবর্তী ম্যাচ সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ১৮ তারিখ থেকে দিল্লিতে। তবে সেই ম্যাচে আকাশদীপ ও মুকেশ কুমারকে পাবে না বাংলা। তাঁরা ভারত ‘এ’ দলে চলে যাবেন। তবে বাংলা শিবিরে খুশির খবর পরের ম্যাচে চোট সারিয়ে দলে ফিরবেন অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ। খেলবেন মহম্মদ শামিও। ফলে আকাশ-মুকেশদের অভাব অনেকটাই পূরণ করা যাবে বলে মনে করছেন অধিনায়ক অভিমন্যু।