আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে একের পর এক ব্যর্থতা। তার পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে জয় হাতছাড়া হওয়া। সব মিলিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে এ বার জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে বিসিসিআই। দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকর এবং বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণকে মুম্বইয়ে তলব করল বোর্ড। কাল, বৃহস্পতিবার হবে সেই বৈঠক।
আয়ারল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ০-২ হারের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একই ফরম্যাটে ০-৪ হেরেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন ফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু টি-টোয়েন্টিই নয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজও ১-২ হেরেছে ভারত। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অবশ্য দুই টেস্টের সিরিজ ১-০ জিতেছে তারা। কিন্তু কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করিয়েও শেষ দিনে বোলারদের ব্যর্থতায় জয় হাতছাড়া হওয়ায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা জোর ধাক্কা খেয়েছে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া আগেই জানিয়েছিলেন, বিদেশের মাটিতে দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। কিন্তু সেই বৈঠক এত দিন পিছিয়ে ছিল। এ বার পরিস্থিতি আর অপেক্ষা করার মতো নয় বলেই মনে করছে বোর্ড।
কাঠগড়ায় বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্স
শুধু দলের পারফরম্যান্স নয়, ক্রিকেটারদের চোট এবং ফিটনেস নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বোর্ডের অন্দরমহলে। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের রিহ্যাব ও রিকভারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে। যশপ্রীত বুমরা এবং হার্দিক পাণ্ড্যর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা সময়মতো সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠতে পারেননি।
সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে ক্রিকেটারদের রিকভারি প্রোগ্রাম নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন অনেকে। তার থেকেও বড় সমস্যা, নির্বাচক কমিটির সঙ্গে ক্রিকেটারদের ফিটনেস সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদানে সমস্যা রয়েছে।
একটি উদাহরণও উঠে এসেছে। এক বার নির্বাচক কমিটিকে নাকি জানানোই হয়নি যে যশপ্রীত বুমরা একটি সফরের জন্য ফিট নন। ওয়াশিংটন সুন্দরও ছিটকে গিয়েছিলেন, আর সাই সুদর্শনের সুস্থ হয়ে উঠতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লেগেছিল।
লক্ষ্য, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে চোট-সমস্যা মেটানো
এ বছরই নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে ভারত। তার পর ২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। ফলে এখন থেকেই ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে চাইছে বোর্ড। বৈঠকে ক্রিকেটারদের চোট সামলানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে একের পর এক ক্রিকেটার চোট পাচ্ছেন। ক্রিকেটার, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং নির্বাচকদের মধ্যে যোগাযোগের অভাবও আলোচনায় আসবে।
এর পাশাপাশি আইপিএলের অতিরিক্ত খেলার চাপ ক্রিকেটারদের ফিটনেসে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। দলের পক্ষ থেকে এর আগে বোর্ডকে জানানো হয়েছিল, আইপিএলের পর অনেক ক্রিকেটারকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে না।
হার্দিক পাণ্ড্যকে নিয়েই আপাতত সবচেয়ে বেশি চিন্তা বিসিসিআইয়ের। দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে থাকার পরও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি ভারতের তারকা অলরাউন্ডার। শেষ বার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন গত মে মাসে, আইপিএলে।
২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপে হার্দিককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় চাইছে নির্বাচক কমিটি। কিন্তু এখনও বোলিংয়ে তাঁর ওয়ার্কলোড বাড়ানো যাচ্ছে না। একটি ওয়ান ডে-তে তিনি আপাতত সর্বোচ্চ ৫-৬ ওভার বোলিং করতে পারছেন।
আফগানিস্তান সিরিজের আগেও ফিটনেস পরীক্ষা
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য যে ১৫ জনের দল ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে চার জনের খেলা এখনও ফিটনেসের উপর নির্ভর করছে। জশপ্রীত বুমরা, ওয়াশিংটন সুন্দর, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানা— এই চার ক্রিকেটারকে ৯ সেপ্টেম্বর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। সেই পরীক্ষায় পাশ করলেই আফগানিস্তান সিরিজে তাঁদের খেলার ছাড়পত্র মিলবে।
অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দুই টেস্টের সিরিজ। তার আগে বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের চোট-সমস্যা কমানোর এবং পেস বোলারদের ফিট রাখার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে চাইছে বিসিসিআই। গম্ভীর, আগরকর এবং লক্ষ্মণের সামনে তাই শুধু সাম্প্রতিক ব্যর্থতার ব্যাখ্যা নয়— আগামী দিনের ভারতীয় ক্রিকেটের রূপরেখাও তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ।