২০২৭ এর ওয়ান ডে বিশ্বকাপের এখনও অনেক দেরি। কিন্তু রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি সেই বিশ্বকাপে খেলবেন কিনা, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
দু’জনেই টেস্ট ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। আপাতত তাঁদের লক্ষ্য এক দিনের ক্রিকেট। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় আগামী বিশ্বকাপে তাঁদের দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্ন সর্বত্র।
এই পরিস্থিতিতে দুই তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বোর্ড সভাপতি মিথুন মানহাস। জানিয়ে দিলেন, বয়সের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়ার পক্ষে তিনি নন।
রোহিত ও কোহলির বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মানহাস বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কারণ, পুরো বিষয়টি নির্বাচক ও কোচেদের উপর নির্ভর করছে। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হল, দলে নির্বাচিত হওয়ার মাপকাঠি হওয়া উচিত ফিটনেস ও পারফরম্যান্স। বয়স কোনও ভাবেই মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোনও ক্রিকেটার যদি খেলার জন্য ফিট থাকেন, এবং তাঁকে যদি দেশের হয়ে ভাল খেলতে ও ম্যাচ জেতাতে দেখা যায়, তা হলে সেটাই হওয়া উচিত বিবেচনার একমাত্র মাপকাঠি।’
অর্থাৎ, রোহিত ও কোহলির বয়স নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ মানহাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই ক্রিকেটার যদি নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন এবং ধারাবাহিক ভাবে রান করে দলকে জেতাতে পারেন, তা হলে বিশ্বকাপের দরজা তাঁদের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়।
তবে বোর্ড সভাপতির এই ‘ব্যক্তিগত’ বক্তব্যকে দুই তারকার বিশ্বকাপের দলে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার ঘোষণা হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, চূড়ান্ত দল নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচক ও কোচেদেরই।
তবে রোহিত ও কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দলে থাকা নয়া অধিনায়ক শুভমান গিলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন মানহাস।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলে বিরাট, হার্দিক ও রোহিত থাকলে শুভমানের অবশ্যই সুবিধা হবে। বুমরার মতো ক্রিকেটারও রয়েছে, যে নেতৃত্ব দিতে পারে। বোলিং বিভাগের নেতৃত্ব দিতে পারে সে। একই ভাবে দলের ফিল্ডিংয়ের দায়িত্বও কেউ নিতে পারে।’
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন অধিনায়ক গিলের পাশে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের থাকা ভারতীয় দলের পক্ষে ইতিবাচক হতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এক দিনের সিরিজে ব্যাট হাতে নজর কেড়েছেন রোহিত ও কোহলি। সিরিজের শেষ দু’টি ম্যাচে রোহিত করেছেন ১০১ ও ৯২ রান। অন্য দিকে, কোহলি শেষ ম্যাচে অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ভারত।
এই পারফরম্যান্স দুই তারকার বিশ্বকাপে খেলার দাবিকে আরও জোরালো করেছে। তবে বিশ্বকাপের আগে তাঁদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।