ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কি কর ছাড় পায়? দীর্ঘ দিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘুরেছে ক্রিকেটমহলে। এ বার সেই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়ে দিলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা আয়কর হিসেবে সরকারকে দেয় BCCI। শুক্রবার বোর্ডের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)-র পর এই তথ্য জানান তিনি।
সইকিয়ার বক্তব্য, বিসিসিআই কর ছাড় ভোগ করে—এই প্রচলিত ধারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যান্য বেশ কিছু ক্রীড়া সংস্থা যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান পায়, সেখানে BCCI সরকারি অনুদান না নিয়ে উল্টে বিপুল পরিমাণ কর দেয় বলেই দাবি বোর্ডের। সইকিয়া বলেন, ‘আমরা বছরে গড়ে ৩০০০ কোটি টাকা আয়কর দিই। এজিএমে এই বিষয়টি পড়ে শোনানো হয় এবং সদস্যেরা করতালির মাধ্যমে সেটিকে স্বাগত জানান’।
কিন্তু কেন ক্রিকেট বোর্ডের এই করের প্রসঙ্গ এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?
নতুন জাতীয় ক্রীড়া নীতির আওতায় ক্রিকেট বোর্ডেরও আসা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সারা দেশের মাঠে ময়দানে। এমনকী, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি বোর্ডের কাছে এই আইনের আওতায় আসা নিয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর বিষয়টি ফের আদালতে উঠবে।
সইকিয়া অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন আইনের কোনও বিধান এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে না বোর্ড। তাঁর কথায়, ‘ক্রীড়া-নীতি নিয়ে আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু কাজ করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে বোর্ড এই আইনের আওতায় এলে একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে ক্রিকেটকে ‘DESIGNATED SPORT’ হিসাবে ঘোষণা করতে হবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘সেই বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই। যখনই বিজ্ঞপ্তি আসবে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে কাজে নেমে পড়ব। নতুন ক্রীড়ানীতির নিয়ম মেনেই কাজ করব। তাই এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তেমন কিছু ঘটেনি। ২৭ অক্টোবর মামলাটি ফের উঠলে আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দেব’।
আম্পায়ারদের জন্য বড় বদল
শুধু কর বা ক্রীড়ানীতি নয়, বার্ষিক সভায় আম্পায়ার এবং ম্যাচ রেফারিদের নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁদের পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আম্পায়ারদের চারটি গ্রেডে ভাগ করা হবে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ম্যাচ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মরসুম শেষে উন্নতি এবং অবনমনের ব্যবস্থাও থাকবে। সইকিয়ার ব্যাখ্যা, ‘প্রতি মরসুমের শেষে অবনমন এবং উন্নতির ব্যবস্থা থাকবে। ১০ জন উপরে উঠবেন, ১০ জন নীচে নামবেন’।
কেন এই ব্যবস্থা? সইকিয়া বলেন, ‘এতে গোটা মরসুম জুড়ে আম্পায়াররা সতর্ক থাকবেন। শেষ পর্যন্ত এতে ক্রিকেটেরই লাভ হবে, কারণ একজন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের উপর অনেক ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে’।
২০২৭-এ আইপিএলের ২০ বছর পূর্তি, ২০২৮-এ বোর্ডের একশো
বার্ষিক সভায় আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলেও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন অরুণ সিংহ ধুমল এবং এম খইরুল জামাল মজুমদার। ২০২৭-এ আইপিএলের ২০তম সংস্করণ বড় করে উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮-এ বোর্ডের শতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও শুরু করেছে বোর্ড। এই কর্মসূচি ২০২৭-এর ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ জুড়ে চলবে।