ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্নে আচমকাই বিরাট ধাক্কা দিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রবিবার আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে প্রোটিয়াদের কাছে ৭৬ রানের বিরাট ব্যবধানে হারতে হয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দলকে। দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করতে নেমে ১১১ রানে অল আউট হয়ে গেছেন অভিষেক শর্মা, তিলক বার্মা’রা। মূলত, ব্যাটিং ব্যর্থতায় এই ম্যাচে শোচনীয় পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে ভারতকে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও মেনে নিয়েছেন সে কথা। যদিও, বিষয়টি নিয়ে নিজের দায় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেলেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক। ম্যাচে এই হারকে একটা ‘অফ ডে’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে নামার আগে দলে বেশকিছু বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভারতের ব্যাটিং কোচ মনে করছেন, দিনটা ভারতীয় দলের জন্য ছিল না। সেই কারণেই তাদের হারতে হয়েছে। একইসঙ্গে, ব্যাটিং পারফরম্যান্স যে ক্রমশ দলের চিন্তা বাড়াচ্ছে তাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। কোটাক বলেন, দলের একেবারেই ব্যাটিং ভালো হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের মধ্যে যে একটা আলোচনা চলছে, তা জানাতেও ভোলেননি ভারতের ব্যাটিং কোচ। তবে, প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে এসে আচমকা দলে বদল এলে তা কাজে দেবে কি না, সে নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন কোটাক। তাঁর মতে, বদলটা কোথায় দরকার সেটা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
রবিবার ম্যাচ হারের পর মাঠের ধারে ডাগ আউটে বসেই আলোচনা করতে দেখা যায় কোচ গম্ভীর, অধিনায়ক সূর্য এবং ব্যাটিং কোচ কোটাককে।এদিকে, ম্যাচ হারের পর অক্ষর প্যাটেলকে না খেলানো নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে। জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে অক্ষরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে না খেলানোর সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে যে ভারতীয় দলের ভাবনায় সঞ্জু স্যামসনের নামও রয়েছে, এদিন সেই ইঙ্গিতও দেন সহকারী কোচ দুশখাতে। কারণ, বেশকিছু সুযোগ পেলেও ওপেন করতে নেমে চূড়ান্ত ব্যর্থ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা।
আগের তিন ম্যাচে শুন্য রানে আউট হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১২ বলে ১৫ রান করেন অভিষেক। ফলে, টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ওপেনিং ব্যর্থতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের। বিষয়টি নিয়ে ভারতের ব্যাটিং কোচের স্পষ্ট জবাব, এই মুহূর্তে হয়তো আর কিছু করার নেই। কারণ, হাতে সময় খুব কম। এরপরেই, পরের দুই ম্যাচে অভিষেককে চাপ সামলে খেলার দিয়েছেন কোটাক। এছাড়াও, প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন তিলক বার্মাও। এতে পরের ব্যাটসম্যানদের ওপর যে একটা চাপ তৈরি হচ্ছে, সেকথাও স্বীকার করে নিয়েছেন দুশখাতে। সবমিলিয়ে একটা হারে দলের অনেকগুলো ব্যর্থতা হঠাৎই সামনে চলে এসেছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে সেই সমস্যা মেটাতে না পারলে যে ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্নেও ইতি পরে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
অবসর ভেঙে কোর্টে ফিরতে চলেছেন সেরিনা উইলিয়ামসমেলবোর্ন— অবসর ভেঙে আবার কোর্টে ফিরছেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী সেরিনা উইলিয়ামস। ইতিমধ্যেই তিনি কোর্টে ফেরার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ৪৪ বছর বয়সী সেরিনা দুই সন্তানের মা। ২০১৭ সালে শেষ বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন তিনি। ২০২২ সালে ইউএস ওপেনে খেলার পরেই কোর্ট থেকে বিদায় নেন। শেষ পাঁচ বছর পেশাদার সার্কিটে অনিয়মিতভাবে খেলেছেন। তবে, সেইভাবে তিনি নজর কাড়তে পারেননি। গত বছর ডোপ পরীক্ষায় তাঁর নাম উঠে এসেছিল।
তখন থেকেই তিনি অন্য মনোভাব প্রকাশ করে কিছু সময় বিশ্রামে ছিলেন। কোচ রিক ম্যাকি জানিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তাই এখন তিনি আবার কোর্টে ফিরে আসার কথা যখনই ভেবেছেন, তখনই তাঁর পাশে থাকার জন্য মনস্থির করা হয়েছে।কোচ ম্যাকি বলেছেন, ‘সেরিনা অনুশীলন শুরু করেছে। কয়েক জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সঙ্গে ট্রেনিং করছে। অ্যালিসিয়া পার্কের সঙ্গে ম্যাচ অনুশীলনও করছে। সেরিনার খুব ভাল বন্ধু অ্যালিসিয়া। ও দক্ষিণ ফ্লরিডায় থাকে।
সেরিনার কোর্টে ফেরা নিয়ে আমার কোনও সংশয় নেই। সময় হলে আবার ওকে কোর্টে দেখব আমরা। হয়তো দিদি ভিনাসের সঙ্গে ডাবলস খেলবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘সেরিনাকে যতদূর চিনি, তাতে শুধু ডাবলস খেলবে বলে মনে হয় না। ও ফিরলে পুরোপুরি ফিরবে। ও যদি মনে করে নিজের সেরাটা দিতে পারবে না, ম্যাচ জিততে পারবে না, তা হলে ফিরবে না। এটুকু বলতে পারি, ফিরলে ১০০ শতাংশ প্রতিযোগিতামূলক টেনিস খেলবে।’সেরিনা এবং ভিনাস উইলিয়ামসকে ৭১ বছরের ম্যাকি কোচিং করিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। তাঁর অ্যাকাডেমিতে দুই মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন সেরিনার বাবা রিচার্ড উইলিয়ামস।
মূলত ম্যাকির হাতেই গড়ে উঠেছেন সেরিনা এবং ভিনাস। ছোট থেকে দুই বোনকে চেনা ম্যাকির বিশ্বাস, ভিনাসের মতো সেরিনাকেও আবার খেলতে দেখবেন।২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নিয়েছিলেন সেরিনা। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিয়ের পর কোর্টে কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেলেছেন। বিয়ের আগেই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সেরিনা। ২০২৩ সালে তাঁর দ্বিতীয় সন্তান হয়। উল্লেখ্য, ভিনাসও এক বছরের বিরতির পর ২০২৫ সালে আবার কোর্টে ফিরেছেন।
এ বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও খেলেছেন ৪৫ বছরের ভিনাস। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। স্বাভাবিকভাবেই টেনিস প্রেমীরা সেরিনা কোর্টে ফিরছেন জানার পরেই উল্লসিত হয়েছেন।