স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ, বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার হাতে এখনও ৬ উইকেট!

Bangladesh-Australia Photo-SNS

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় থেকে আর মাত্র ছয় উইকেট দূরে তারা। অন্য দিকে, ঘরের মাঠে অপ্রত্যাশিত হারের আশঙ্কায় প্রবল চাপে অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় দিনের শেষে গভীর সমস্যায়। দিনের শেষে তাদের স্কোর ৪ উইকেটে ১৬১। বাংলাদেশের করা ৪২৬ রানের জবাবে এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। কয়েক দিন আগেও যে জয়ের সম্ভাবনাকে একেবারে অকল্পনীয় মনে হচ্ছিল, সেটাই এখন বাংলাদেশের সামনে ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।

চা-বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার চার নম্বর ব্যাটার স্টিভ স্মিথ ৪৪ রান করে তাঁর বলেই সহজ ক্যাচ তুলে দেন। নিজেই সেই ক্যাচ ধরে স্মিথকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। তখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ১২২। উইকেট পড়তেই উল্লাসে ফেটে পড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা। মারারা ওভালের মাঠে শুরু হয় সেলিব্রেশন।


দিনের শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘গত দু’-তিন দিন ধরে আমরা যে ভাবে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি এবং দুর্দান্ত খেলেছি, তা অসাধারণ। ছেলেদের এ ভাবে খেলতে দেখে সত্যিই খুব ভাল লাগছে।’

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দিনের শেষে ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গী অ্যালেক্স কেরির রান ১৫। হার এড়াতে গেলে গ্রিন ও কেরির উপরই এখন বড় জুটি গড়ার দায়িত্ব।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তরের গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে অবস্থিত মারারা ওভালে শুরু থেকেই তীব্র গরমে খেলা হচ্ছে। কিন্তু সেই গরমে যেন বাংলাদেশের বদলে নুইয়ে পড়েছে হোম টিম অস্ট্রেলিয়াই।

শনিবার টানা তৃতীয় দিন মাঠে দীর্ঘ সময় বল করার পর অস্ট্রেলিয়ার ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণকে অনেকটাই বিধ্বস্ত দেখিয়েছে। চোট সারিয়ে দলে ফেরা জশ হ্যাজ়লউড অবশ্য ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। সেই সঙ্গে টেস্ট কেরিয়ারের ৩০০ উইকেটও পূর্ণ করেন তিনি। মেহেদি হাসান মিরাজকে ৬৫ রানে কট বিহাইন্ড করে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন হ্যাজ়লউড। তবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরিস্থিতির কারণে তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য উদ্‌যাপনে বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি।

ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের লড়াই এখনও জারি। তবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ বিপর্যয়ের মুখে। প্রথম ইনিংসে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই সুশৃঙ্খল লাইন-লেন্থে বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বাংলাদেশের হাতে চলে যায়। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার হাতে রয়েছে মাত্র ছটি উইকেট, আর বাংলাদেশ তাকিয়ে ইতিহাসের দিকে।

অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে টেস্টে হারানো যে কোনও দলের কাছেই বিরাট সাফল্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই কৃতিত্ব আরও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। অতীতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক স্মরণীয় জয় পেলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন অবস্থানে পৌঁছনো বাংলাদেশের জন্য বিশেষ মুহূর্ত।

চতুর্থ দিনের শুরুতেই তাই লক্ষ্য একটাই—অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেট যত দ্রুত সম্ভব তুলে নেওয়া। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য ম্যাচ বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাবে। ফলে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের লড়াই যে রুদ্ধশ্বাস হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

বাংলাদেশ কি সত্যিই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক অবিশ্বাস্য টেস্ট জয় তুলে নিতে পারবে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ম্যাচের পরের দিনের খেলায়। তবে তৃতীয় দিনের শেষে একটা বিষয় স্পষ্ট—ইতিহাস গড়ার খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছে বাংলাদেশ।